ভাইফোঁটায় কেন কপালে দই, চন্দন ও কাজলের ফোঁটাই দেওয়া হয় ?

Share:

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : কালীপুজোর পরই পালিত হয় ভাইফোঁটা। শুধু বাঙালি বলে নয়, ভাইফোঁটার প্রচলন বাঙালি ছাড়া অবাঙালিদের মধ্যেও রয়েছে। জানা যায়, হিন্দুদের বিভিন্ন উৎসবের মধ্যে ভাইফোঁটা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। কার্তিক মাসের শুক্লা দ্বিতীয়াতে পালিত হয় বলে এই উৎসবকে ভ্রাতৃদ্বিতীয়া-ও বলা হয়ে থাকে। বাঙালির শারদ-উৎসবের মরশুমে মোটামুটি এটিই শেষ পর্ব। এই উৎসবে প্রতি বছর বাংলা তথা ভারতের সমস্ত ভাই-বোনেরা মেতে ওঠে। ভাই-বোনের পবিত্র সম্পর্কে স্নেহের প্রতীক এই ভাইফোঁটা। এই দিন কপালে ফোঁটা পরিয়ে ভাইয়ের দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য, সুখ এবং সমৃদ্ধির প্রার্থনা করে বোনেরা। রীতিগত ভাবে অনেকে ভাইফোঁটা দেয় প্রতিপদে, তবে ভাইফোঁটা সাধারণত দ্বিতীয়াতেই হয়।

কথিত আছে, বহুদিন যমলোকে কাটানোর পর এদিন নিজের বোন যমুনার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন যমরাজ। যমুনা যেমন যমের মঙ্গলার্থে কপালে ফোঁটা দিয়েছিলেন, অনুরূপভাবে বোন এবং দিদিরা নিজেদের ভাইয়ের কপালেও ফোঁটা দেয়। যমরাজ যেন তাদের ভাইয়ের প্রাণ হরণ না করতে পারেন, তাই তাঁরা ‘যমের দুয়ারে কাঁটা’ দেয়। ভাইফোঁটা দেওয়ার সময় বোনেরা বলে থাকে,

“ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা,

যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা,

যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা,

আমি দিই আমার ভাইকে ফোঁটা!”

প্রচলিত নিয়মানুসারে, বাংলায় ভাইফোঁটার দিন দিদিরা এবং বোনরা ভাইদের মূলত দই, চন্দন এবং কাজলের ফোঁটা দিয়ে থাকে। আবার দেশের অনেক জায়গায় ভাইদের কপালে চালের ফোঁটাও দেওয়া হয়। কাঁসা বা পিতলের থালায় ধান-দুর্বা, ঘরে আমপাতায় পারা কাজল, চন্দন সাজিয়ে রাখা হয় ভাইয়ের সামনে। সঙ্গে থাকে ঘিয়ের প্রদীপ ও শঙ্খ। আর মুখমিষ্টি করানোর জন্য থাকে ভাইয়ের পছন্দের সমস্ত মিষ্টিও। এরপর ধান-দুর্বা দিয়ে আশীর্বাদ করে বোনেরা। তবে দই, চন্দন এবং কাজলের ফোঁটা দেওয়ার নেপথ্যে আছে বিশেষ কারণ।

আসলে বৈজ্ঞানিকভাবে বলতে গেলে, চন্দন এবং দই আমাদের শরীরকে ঠান্ডা রাখে। একাগ্রতা বাড়ানো ও  মন শান্ত করার পাশাপাশি ধৈর্য শক্তি বাড়ায় চন্দনের টিপ। বিভিন্ন হিন্দু অনুষ্ঠানে দেখা যায়, ভক্তদের কপালে চন্দনের টিপ বা তিলক। আসলে এর ফলে ঈশ্বরের প্রতি মন নিবিষ্ট রাখা যায়। চন্দনের এই গুণের জন্যই প্রাচীনকালে মুনি- ঋষিরা কপালে তিলক আঁকতেন। উপরন্তু, হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী যে কোনও শুভ কাজে দইয়ের ব্যবহার করা উচিত। অপর দিকে বিশ্বাস করা হয়, কাজল নজর কাটায়। তাই কু-নজর থেকে আদরের ভাইকে রক্ষা করতেই কাজলের ফোঁটা দেওয়া হয় তাঁর কপালে। এই সকল কারণের জন্যই ভাইদের দই, চন্দন ও কাজলের ফোঁটা দেওয়া হয় ।

ভাইফোঁটায় দিনভর খুশি, আনন্দ, খাওয়া দাওয়া, খুনসুটি চলতে থাকে ভাই বোনের। সব মিলিয়ে ভাইফোঁটা ছিল, আছে, থাকবে। তবে জেনে রাখা ভালো, বাংলায় যা ভাইফোঁটা, উত্তর ভারতে তাই পালিত হয় ‘ভাই দুজ’ নামে। পশ্চিম ভারতে আবার সেটাই ‘ভাউ বিজ’, আর পূর্ব ভারত ও নেপালে সেটাই ‘ভাই টিকা’ নামে পরিচিত। শুধুমাত্র স্থান ফেরে নাম বদলেছে। কিন্তু উৎসবটা একই রয়ে গেছে। যা আদপে ভারতের সনাতনি ইতিহাসেরই ধারক ও বাহক।

আমেরিকা নয়, চলুন ঘুরে আসি ভারতের ‘গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে’

নিউটাউনে তিরুপতি মন্দির বানাবেন শিল্পপতি মুকেশ আম্বানি, ঘোষণা শুভেন্দুর

কালীপুজোর ক্ষণ ও তিথি, দেখে নিন একনজরে

প্রকাশিত হল CBSE-র দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির ২০২৭ সালের পরীক্ষাসূচি

পাউরুটির বাদামি ধার ফেলে দিচ্ছেন? তা দিয়েই বানিয়ে ফেলুন এই ৩ সুস্বাদু পদ, রইল রেসিপি

যাত্রীদের সুবিধার্থে কালীপুজোয় অতিরিক্ত মেট্রো পরিষেবা, বাড়ছে ট্রেনের সংখ্যা

বাড়ি ও অফিসের বাইরে চরবৃত্তি করছে পুলিশ! ‘মারাত্মক’ অভিযোগ অভিষেকের

অজান্তেই ক্ষতি করছেন না তো? এই ৭টি অভ্যাসে বাড়ছে চোখের সমস্যা

‘মা-বোনেদের দিকে আঙুল তুললে ভেঙে দেবে সরকার,’ বললেন মুখ্যমন্ত্রী

অমৃতসর-নিউ জলপাইগুড়ি কর্মভূমি এক্সপ্রেসে অগ্নিকাণ্ড, দাউদাউ করে জ্বলছে চারটি কামরা

লুঙ্গি ও বারমুডা পরে তারাপীঠ মন্দিরে ‘নো এন্ট্রি’, নির্দেশ কমিটির

রাজ্যের সব চিকিৎসকের ডিগ্রি খতিয়ে দেখবে স্বাস্থ্য দফতর, বড় ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরাও সপ্তম পে কমিশনের আওতায়, ঘোষণা নবান্নের

‘Maatrubhumi’ নিয়ে কেন্দ্র চাপ দিয়েছিল? সত্যিটা জানালেন সলমন