প্রিয় নরেনকে এই গান শিখিয়েছিলেন স্বয়ং ঠাকুর রামকৃষ্ণ

Share:

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায়: ভগবান শ্রী রামকৃষ্ণ ও স্বামী বিবেকানন্দ ছিলেন একে অপরের পরিপূরক। স্বামীজী ছাড়া যেমন ঠাকুরের জীবন দর্শন, চিন্তাধারা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়তো না, তেমনই ঠাকুরকে ছাড়া নরেন্দ্রনাথ চিন্তানায়ক বিবেকানন্দ হয়ে উঠতে পারতেন না। সাক্ষাতের প্রথম  দিন থেকে তাঁদের গুরু শিষ্যের সম্পর্ক বাঁধা পড়েছিল গানের মধ্য দিয়ে। শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসের সমগ্র জীবনই ছিল সঙ্গীত, ভাব ও আধ্যাত্মিকতার এক অপূর্ব সমন্বয়। তাঁর সাধনা, উপাসনা ও ঈশ্বরানুভবের প্রধান মাধ্যমগুলির অন্যতম ছিল গান। ভক্তি ও সঙ্গীত—এই দুইয়ের মিলনে তিনি যে ভাবসমুদ্রে নিমগ্ন থাকতেন, তারই প্রভাব পড়েছিল তাঁর প্রতিটি শিষ্যের উপর, বিশেষত তাঁর একম অদ্বিতীয়ম নরেনের জীবনে। নরেন্দ্রনাথের সঙ্গে ঠাকুরের সাক্ষাৎ মানেই ছিল সঙ্গীতমুখর এক অনন্য ভাবসম্মিলন। এমন কোনও ঘটনার কথা জানা যায়নি, যেখানে এই গুরু-শিষ্যের মিলনে গান অনুপস্থিত ছিল।

প্রাপ্ত নানা তথ্য ও বিভিন্ন নিদর্শন থেকে জানা যায়, নরেন্দ্রনাথ ছিলেন অসাধারণ কণ্ঠস্বরের অধিকারী। তাঁর কণ্ঠে গান শুনে শ্রীরামকৃষ্ণ প্রায়ই ভাবসমাধিতে নিমগ্ন হয়ে পড়তেন। বিশেষত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানগুলি নরেন্দ্রের কণ্ঠে ঠাকুর গভীর ভাবতন্ময়তায় শুনতেন। ‘গগনের থালে রবিচন্দ্র-দীপক জ্বলে’, ‘দিবানিশি করিয়া যতন’, ‘তোমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা’ কিংবা ‘এ কী এ সুন্দর শোভা’—এই গানগুলির মাধ্যমে নরেন্দ্রনাথ যে ঈশ্বরপ্রেম ও অন্তরের আকুলতা প্রকাশ করতেন, তা শ্রীরামকৃষ্ণের হৃদয়কমল গভীরভাবে স্পর্শ করত। এই গানগুলির ভাবের মধ্যেই তিনি ঈশ্বরসাধনার রস অনুভব করতেন। এই গানগুলি ছাড়াও নরেন্দ্রর গাওয়া অযোধ্যানাথ পাকড়াশীর “মন চল নিজ নিকেতনে”, বেচারাম চট্টোপাধ্যায়ের “যাবে কী হে দিন আমার বিফলে চলিয়ে”, নীলকণ্ঠ মুখোপাধ্যায়ের “কত দিনে হবে সে প্রেম সঞ্চার” গানগুলি ঠাকুরের অত্যন্ত প্রিয় ছিল।

শ্রীরামকৃষ্ণ কখনোই নরেন্দ্রকে নির্দিষ্টভাবে কোনো গান শেখানোর উপর জোর দেননি। তাঁর শিক্ষা ছিল অত্যন্ত গভীর ও সূক্ষ্ম। তিনি চাইতেন নরেন্দ্র কেবল সুর সাধনার জন্য গান গাইবেন না, বরং গানের অন্তর্নিহিত ভাব, ত্যাগ, আত্মসমর্পণ ও ঈশ্বরপ্রেমকে উপলব্ধি করবেন। সঙ্গীতকে তিনি দেখতেন আত্মার মুক্তির এক পথ হিসেবে। এই দৃষ্টিভঙ্গিই নরেন্দ্রনাথের সঙ্গীতবোধকে আরও আধ্যাত্মিক উচ্চতায় উন্নীত করেছিল।

তবে একটি বিশেষ ঘটনা এই গুরু শিষ্যের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে। জানা যায়, ১৮৮২ সালে দক্ষিণেশ্বরে দ্বিতীয় বার সাক্ষাতের রাতে শ্রীরামকৃষ্ণ স্বয়ং নরেন্দ্রকে একটি গান শিখিয়েছিলেন—“মা ত্বং হি তারা”। দেবী জগদীশ্বরী ভবতারিণীর প্রতি সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণের এই গান নরেন্দ্র সেদিন সারারাত ধরে নহবতের বাইরে বসে গেয়েছিলেন। গানের সুর ও ভাবের মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণভাবে সমর্পণ করেছিলেন মাতৃচরণে। এই গান শুধু সঙ্গীতচর্চা নয়, তা ছিল নরেন্দ্রনাথের জীবনে এক গভীর আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা।

আমার মা ত্বং হি তারা

তুমি ত্রিগুণধরা পরাৎপরা

মা ত্বং হি তারা।

আমি জানি মা ও দীনদয়াময়ী

তুমি দুর্গমেতে দুঃখহরা,

তুমি জলে তুমি স্থলে তুমি আদ্যমূলে গো মা,

আছ সর্বঘটে অর্ঘ্যপুটে সাকার আকার নিরাকারা,

মা ত্বং হি তারা।

তুমি সন্ধ্যা তুমি গায়ত্রী তুমি জগদ্ধাত্রী গো মা

অকুলের প্রাণকর্ত্রী সদা শিবের মনোহরা।

মা ত্বং হি তারা।।

এইভাবেই শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস ও নরেন্দ্রনাথের জীবনে সঙ্গীত হয়ে উঠেছিল ভক্তি, ভাব ও ব্রহ্মজ্ঞান লাভের এক পবিত্র সেতুবন্ধন।

কালীপুজোর সন্ধ্যায় বেলেঘাটায় ভয়াবহ আগুন, ঘটনাস্থলে দমকলের তিনটি ইঞ্জিন

দীপাবলির লক্ষ্মীপুজোর শুভক্ষণ পেরিয়ে গিয়েছে? এখনও রয়েছে শেষ সুযোগ, কোন সময়ে করবেন পুজো?

দুপুরে মেনুতে পাতে রাখুন মেথি শাক দিয়ে মুগ ডাল! স্বাদে-গন্ধে মন ভরবে, রইল রেসিপি

ছেলের গবেষণার সুযোগ আইআইটিতে, খুশিতে দুঃস্থদের পাত পেড়ে খাওয়ালেন মা

কালীপুজোয় বারাসত-মধ্যমগ্রামে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, চার ঘণ্টা মণ্ডপে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি

গির্জার আদলে কালীপুজোর মণ্ডপ! রাজনৈতিক মহলে জোর বিতর্ক

হামজার সেঞ্চুরিতে কুপোকাত ভারত, ছোটদের এশিয়া কাপে ৩ উইকেটে জিতল পাকিস্তান

প্রেমিকাকে বিয়ের দাবিতে টাওয়ারে চড়ে বসল যুবক, শোরগোল নন্দীগ্রামে

হীরের টিপ থেকে ১১০ কেজি সোনা-রুপোর গয়না! ১০৩ বছরে আরও জাঁকজমক নৈহাটির বড়মা

‘দেশ থেকে মাওবাদীদের মুছে ফেলা হয়েছে,’ দীপাবলিতে ঘোষণা মোদির

তৃণমূলের আচরণের জন্য বিএসএফের কাছে ক্ষমা চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

চন্দননগরে জগদ্ধাত্রী পুজোর ঢাকে কাঠি,একসঙ্গে আলপনা দিলেন ১২০০ জন

দীপাবলিতে মাংস কিনতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, বাবা-ছেলে-সহ মৃত ৩

দীপাবলিতে ভক্তদের উপহার দিলেন ভিকি ক্যাটরিনা, প্রকাশ্যে আনলেন ছেলে বিহানকে