এই মুহূর্তে

এগিয়ে থেকেও কেরলের কাছে পয়েন্ট খুঁইয়ে মাঠ ছাড়ল ইস্টবেঙ্গল

সৌরভ দাস: নরেন্দ্র মোদির ব্রিগেড সমাবেশের দিনেই যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের সবুজ গালিচায় নিজেদের ঘরের মাঠে কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে নামল ইস্টবেঙ্গল। গ্যালারিতে সমর্থকদের প্রত্যাশা যেমন ছিল, তেমনই মাঠে নামার আগে দল নির্বাচনেও কিছুটা চমক রাখলেন কোচ অস্কার ব্রুজো। অন্যান্য ম্যাচের তুলনায় এদিন ইস্টবেঙ্গলের একাদশে দেখা গেল কিছু পরিবর্তন। পিভি বিষ্ণু এবং সল ক্রেসপোকে প্রথম একাদশে জায়গা দেন তিনি। অন্যদিকে দল থেকে বাদ পড়েন লালচুংনুঙ্গা এবং মাহেশ।

খেলার শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় লাল-হলুদ শিবিরকে। ম্যাচের মাত্র ৯ মিনিটের মাথায় বক্সের ভিতরে আক্রমণাত্মক ট্যাকলের জন্য কেরালার ডিফেন্ডার আইবাকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি হরিশ কুণ্ডু। সেই সঙ্গে পেনাল্টি পায় ইস্টবেঙ্গল। স্পট কিক নিতে এগিয়ে এসে ঠান্ডা মাথায় দুর্দান্ত শটে বল জালে জড়িয়ে দেন ইউসেফ। ফলে ম্যাচের শুরুতেই ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল।

গোল খাওয়ার পর থেকেই ম্যাচে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে কেরালা। বিশেষ করে ১৫ মিনিটের পর থেকে ক্রমশ আক্রমণ বাড়াতে শুরু করে তারা। বলের দখল বাড়িয়ে ধারাবাহিকভাবে ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণভাগের উপর চাপ সৃষ্টি করে কেরলের ফুটবলাররা।প্রথমার্ধে যদিও গোলের দেখা পায়নি কেরল, তবে দর্শকদের মন জিতে নিয়েছেন কেরালা দলের ফরোয়ার্ড কেভিন। বাঁ দিক থেকে তাঁর ধারাবাহিক দৌড় ও আক্রমণ কার্যত ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণভাগের দুর্বলতাকে সামনে এনে দেয়। বারবার তাঁর গতি ও ড্রিবলিং লাল-হলুদ রক্ষণকে সমস্যায় ফেলছিল।

প্রথমার্ধের শেষে রেফারি অতিরিক্ত দুই মিনিট সময় যোগ করলেও সেই সময়ের মধ্যে আর কোনও গোল হয়নি। ফলে প্রথম ৪৫ মিনিট শেষে ১–০ ব্যবধানে এগিয়েই ড্রেসিংরুমে ফেরে ইস্টবেঙ্গল। দ্বিতীয়ার্ধে খেলার গতি বাড়ালেও শেষ মুহূর্তের ধাক্কায় জয় হাতছাড়া হল ইস্টবেঙ্গলের। টানটান উত্তেজনার ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ১–১ সমতায় শেষ হল লড়াই।

ম্যাচের শুরুতেই দলকে নতুন ছন্দে ফেরাতে বড় সিদ্ধান্ত নেন কোচ অস্কার। শাওনকে তুলে নিয়ে তার পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় সৌভিককে। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা যায় লাল-হলুদ শিবিরকে। দ্বিতীয়ার্ধে সেই চাপ আরও বাড়াতে থাকে ইস্টবেঙ্গল। ৬৩ মিনিটে আবারও দলে বদল আনেন কোচ অস্কার। এডমুন্ডকে তুলে মাঠে নামানো হয় জয় গুপ্তাকে। আক্রমণের ধার বাড়াতেই এই পরিবর্তন বলে মনে করা হয়। তবে পাল্টা লড়াইয়ে পিছিয়ে থাকেনি কেরলও। তাদের কোচ ডেভিড ভিবিনকে তুলে জে কে-কে মাঠে নামিয়ে মাঝমাঠে গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন।

খেলার ৮১ মিনিটে ইস্টবেঙ্গল মাঝমাঠে আরও একটি পরিবর্তন আনে। বিপিনের জায়গায় মাঠে নামেন মাহেশ। ম্যাচের শেষদিকে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে মাঝমাঠে ধাক্কাধাক্কির পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে রেফারি ফ্লাওকে হলুদ কার্ড দেখান। সবকিছু ঠিকঠাক এগোচ্ছিল ইস্টবেঙ্গলের জন্য। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে ঘটে অঘটন। কেরলার আজসাল শেষ মুহূর্তে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। সেই গোলেই ভেঙে যায় ইস্টবেঙ্গলের জয়ের স্বপ্ন। শেষ পর্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ এই ম্যাচ ১–১ সমতায় শেষ হয়। শেষ মুহূর্তের সেই গোলই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। এরপরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা। লাল-হলুদের কোচ অস্কারকে লক্ষ্য করে দেয় ‘গো ব্যাক’ স্লোগান।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

বুন্দেশলিগায় ৯ জন নিয়ে খেলেও বেয়ার লেভারকুসেনকে রুখে দিল বায়ার্ন মিউনিখ

বিশ্বকাপ জয়ী টিমের ছবিতে গায়েব সঞ্জু স্যামসন, শুভমন গিলের পোস্ট ঘিরে বিতর্ক

বড় স্বস্তি বাবর আজমের, যৌন হয়রানির অভিযোগ থেকে মুক্ত

অপরাজিত মোহনবাগানকে হারাতে ময়দানে নামছে বেঙ্গালুরু, আজই কেরলের মুখোমুখি হবে ইস্টবেঙ্গল

‘গম্ভীরের আসল পরীক্ষা এখনও বাকি ‘, সূর্যদের হেড স্যারকে সতর্ক করে দিলেন সৌরভ

লিটনের বল ঠেকাতে গিয়ে কাঁধের হাড় ভাঙল পাক ক্রিকেটারের, ভর্তি হাসপাতালে

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ