দেবী দুর্গার কাছে গয়না খুলে যেতে হয় গৃহবধূদের, ১৮০ বছরের রীতি ভুঁইয়াবাড়িতে

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: দুর্গা মানেই কি সোনালি অলঙ্কারে সজ্জিত, শ্বেতশুভ্র বা বাসন্তী রংয়ের প্রতিমা? আলিপুরদুয়ারের পলাশবাড়ির ভুঁইয়াবাড়িতে গেলে সেই চেনা ধারণা বদলে যাবে। এখানে দেবী দুর্গার গায়ের রং টকটকে লাল। আগুনের মতো উজ্জ্বল সেই রুপের জন্যই তিনি পরিচিত ‘অগ্নিবর্ণা’ মা হিসেবে। প্রায় ১৮০ বছর ধরে একই রীতিতে পূজিতা হয়ে আসছেন দেবী। দেশভাগের যন্ত্রণা, ওপার বাংলা থেকে এপার বাংলায় চলে আসা কোনওকিছুই বদলাতে পারেনি এই পরিবারের দুর্গাপুজোর ঐতিহ্য।

ইতিহাসের পাতায় বারো ভুঁইয়াদের নাম বহুল পরিচিত। তাঁদেরই এক বংশধর ক্ষেত্রমোহন ভুঁইয়ার হাত ধরে পুজোর সূচনা হয়েছিল। অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুর জেলার কেদারবাড়ি গ্রামে শুরু হয়েছিল ভুঁইয়াদের পারিবারিক দুর্গোৎসব। শোনা যায়, একবার স্বপ্নে দেবী দুর্গাকে লাল রংয়ের রূপে দেখেছিলেন ক্ষেত্রমোহন। সেই স্বপ্নাদেশের পর থেকেই পরিবারের পুজোয় রক্তবর্ণা দুর্গার আরাধনা শুরু হয়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সেই রীতিই চলে আসছে। দেশভাগের সময় ভুঁইয়া পরিবারকেও ছেড়ে আসতে হয়েছিল পূর্বপুরুষের ভিটে। ফরিদপুরের কেদারবাড়ি ছেড়ে পরিবারের সদস্যরা চলে আসেন পরিবারের আরাধ্য দেবীর স্মৃতি ও পুজোর গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী। মায়ের প্রতিমা পুরনো শাল কাঠের কাঠামো এবং কাঁসা-পিতলের বাসনপত্রও নিয়ে আসা হয়েছিল ওপার বাংলা থেকে। আজও সেই কাঠামো ও প্রাচীন বাসনপত্র ব্যবহার করেই দেবীর আরাধনা হয়।

আরও পড়ুন: গ্রামের অন্য পুজো দেখতে চান? ঘুরে আসতে পারেন অসমের নলবাড়ির বেলশর

সময়ের সঙ্গে বহু পারিবারিক পুজোয় আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। কিন্তু ভুঁইয়াবাড়ির পুজোয় পুরনো নিয়ম ও শাস্ত্রীয় আচার পালনের ক্ষেত্রে বিশেষ পরিবর্তন আসেনি। বাড়ির স্থায়ী মন্দিরেই তৈরি হচ্ছে দেবীর প্রতিমা। একসময় নবদ্বীপ থেকে মৃৎশিল্পীরা এসে প্রতিমা গড়তেন। বর্তমানে স্থানীয় শিল্পী শালকুমারহাটের সুভাষ রায় সেই দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। অতীতে এই পুজোয় মোষ বলির প্রচলন ছিল। পরবর্তী সময়ে অবশ্য সেই প্রথা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ভুঁইয়াবাড়িতে শুধু দুর্গাপুজোর কয়েকটি দিন নয়, সারা বছরই দেবীর কাঠামোর আরাধনা চলে। মহালয়ার দিন থেকে শুরু হয় চণ্ডীপাঠ। নবমী পর্যন্ত নিয়ম মেনে চলে সেই পাঠ। অষ্টমীর দিন আয়োজন করা হয় দরিদ্রনারায়ণ সেবার। পুজোর প্রতিটি দিনেই রয়েছে নানা ধর্মীয় বিধিনিষেধ। এই বাড়ির মহিলাদের ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ নিয়ম। দুর্গাপুজোর ক’দিন অলঙ্কার পরে মায়ের মন্দিরে প্রবেশ করতে পারেন না তাঁরা। মন্দিরে যাওয়ার আগে সমস্ত গয়না খুলে রাখতে হয়। এমনকী চুলও খোলা রাখতে হয়। প্রাচীন এই রীতির ব্যতিক্রম আজও হয় না। ভুঁইয়াবাড়ির অশীতিপর সদস্য সাক্ষীগোপাল ভুঁইয়া ও রেখারানি ভুঁইয়ার কথায়, কঠোর ধর্মীয় অনুশাসন মেনেই তাঁদের পরিবারে এত বছর ধরে দেবীর আরাধনা হয়ে আসছে। পুরনো নিয়মকানুন ও পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রাখাই তাঁদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ভুঁইয়া পরিবারের সদস্য সংখ্যা একশোরও বেশি। কাজের সূত্রে পরিবারের অনেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছেন। কেউ থাকেন অন্য রাজ্যে, কেউ আবার বিদেশে। কিন্তু দুর্গাপুজো এলেই তাঁদের অনেকেই ফিরে আসেন পলাশবাড়ির পৈতৃক ভিটেতে।

নবরাত্রির রাতে এই কাজ করলেই ঘুচবে দারিদ্র্য, খুলবে চাকরির দরজা

জার্মানিতে বহুতলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঝলসে মৃত্যু তিন ভারতীয়র, পুড়িয়ে মারার শঙ্কা

বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়িতে ৫০ কেজির রুপোর পালকিতে চেপে আসে নবপত্রিকা

তাণ্ডব চালিয়ে শতরান শাই হোপের, জিততে শ্রেয়সদের চাই ২৪৮ রান

সাতক্ষীরায় ধর্ম অবমানার অভিযোগে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে পিটিয়ে মারল মৌলবাদীরা

দুর্গাপুজোতে ভুল করেও মুখে দেবেন না ৫ সবজি-ফল-শাক

ঠাকুর দেখার ফাঁকে জমিয়ে খাওয়াদাওয়া, কলকাতার সেরা ফিশ রোল পাবেন কোথায়?

পুজোয় অতিথিদের চমক দিতে চান? অল্প উপকরণে চটজলদি বানান কাঁচা পেঁপের বরফি

 ৫২ হাজার ৮৭৮ কোটিতে বিক্রি হচ্ছে IDBI ব্যাঙ্ক, অনুমোদন দিল কেন্দ্র

আগরকরের উত্তরসূরি কে? ভারতীয় দলের প্রধান নির্বাচকের দৌড় থেকে সরে দাঁড়ালেন পার্থিব পটেল

‘আরশোলাদের বিক্ষোভের সময়ে পরিষেবা বাতিল হয়নি’, সুপ্রিম কোর্টে দাবি দিল্লি মেট্রোর

কোচবিহার জেলা পরিষদের নতুন সভাধিপতি তৃণমূলের টিকিটে জেতা হিমানি ইশর

সুখবর, রেল কর্মচারিরা ৭৮ দিনের পুজো বোনাস পাবেন

ICC টি টোয়েন্টি ক্রমতালিকায় ভারতীয়দের দাপট, শীর্ষের কারা