বিসর্জনের আগে মহাদেবকে চিঠি! কালনার ৪৫০ বছরের দুর্গাপুজোয় কেন এই বিশেষ রীতি?

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: একদিকে বর্গীদের হানা, অন্যদিকে প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে ঘরছাড়া পরিবারের সদস্যরা। কেউ আশ্রয় নিয়েছিলেন পুকুরের জলে, কেউ আবার গা ঢাকা দিয়েছিলেন গভীর জঙ্গলে। চারদিকে তখন আতঙ্ক আর ধ্বংসলীলা। কিন্তু এত কিছুর মধ্যেও অক্ষত থেকে গিয়েছিলেন দেবী দুর্গা। বাংলার ইতিহাসের এক ভয়াবহ অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কালনার নিরি পল্লির চট্টোপাধ্যায় পরিবারের দুর্গাপুজোর এমনই এক বিস্ময়কর কাহিনি। প্রায় সাড়ে চারশো বছরের পুরনো এই পুজো আজও ধরে রেখেছে অতীতের নানা স্মৃতি ও প্রাচীন রীতিনীতি।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ইংরেজি ১৬১০ সালে পরিবারের পূর্বপুরুষ মাখন চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে শুরু হয়েছিল এই দুর্গাপুজো। পরবর্তী সময়ে ১৭৪১ থেকে ১৭৫১ সালের মধ্যে বাংলায় বর্গী আক্রমণের সময় বিপদের মুখে পড়ে চট্টোপাধ্যায় পরিবারও। দস্যুদের আক্রমণ থেকে বাঁচতে বাড়ির মহিলারা পাশের পুকুরে আশ্রয় নেন। পুরুষ সদস্যরা প্রাণ বাঁচাতে লুকিয়ে পড়েন জঙ্গলে। চারদিকে যখন লুটপাট ও তাণ্ডব চলছিল, তখনও পরিবারের আরাধ্যা দেবীর কোনও ক্ষতি হয়নি বলেই বিশ্বাস পরিবারের সদস্যদের। সমস্ত বিপদ কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছিল দুর্গাপুজো। এই পরিবারের পুজোর ইতিহাসে আরও একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় জড়িয়ে রয়েছে সতীদাহ প্রথা রদের সঙ্গে। প্রচলিত পারিবারিক কাহিনি অনুযায়ী, সতীদাহ প্রথা বন্ধ হওয়ার ফলে পরিবারের দুই মহিলা নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন। সেই আনন্দেই পরবর্তী সময়ে আরও ধুমধাম করে দুর্গাপুজোর আয়োজন শুরু হয় বলে শোনা যায়।

আরও পড়ুন: নবমীতে দেবীর ভোগে পান্তা ভাত! শতাব্দী ধরে একই রীতি, কোথায় হয় এমন পুজো?

কালের নিয়মে পরিবারের একাধিক প্রজন্ম পেরিয়েছে। বদলেছে পুজোর দায়িত্বভারও। তবে প্রাচীন রীতির ক্ষেত্রে কোনও আপস করেননি পরিবারের সদস্যরা। আজও কালিকাপুরাণের বিধি মেনেই আরাধনা করা হয় দেবী দুর্গার। এই পুজোর অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ দশমীর একটি প্রাচীন প্রথা। প্রতিমা নিরঞ্জনের আগে মহাদেবের উদ্দেশে চিঠি লেখেন পরিবারের সদস্যরা। দীর্ঘদিনের এই রীতি আজও একই নিষ্ঠায় পালন করা হয়। শুধু পরিবারের সদস্যদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই এই পুজোর আবেগ। এলাকার মানুষের কাছেও চট্টোপাধ্যায় পরিবারের দুর্গাপুজো এক বিশেষ আকর্ষণ। পুজোর দিনগুলিতে বহু দূর থেকেও দর্শনার্থীরা ভিড় করেন এই বাড়িতে। ইতিহাসের নানা ওঠাপড়া, বংশপরম্পরায় চলে আসা বিশ্বাস এবং ব্যতিক্রমী আচার-অনুষ্ঠান সব মিলিয়ে কালনার নিরি পল্লির এই পুজো আজও স্বমহিমায় উজ্জ্বল।

সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি! সকালে এক গ্লাস ঈষদুষ্ণ জলের ৫ ম্যাজিক গুণ

বিছানার নীচে ভুলেও রাখবেন না এই ৫ জিনিস, নিঃস্ব হয়ে যেতে হবে

মহানবমী কবে, ১৯ না ২০ অক্টোবর? হোমের শুভ মুহূর্ত জেনে নিন

আজকের রাশিফল: অবিবাহিতরা পঞ্চমীতেই মনের মানুষের দেখা পাবেন, কালো পোশাক পরা এড়ান

‘ছেঁদো অজুহাত দেখাবেন না’, ভোট গণনার ফুটেজ গায়েব নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে তুলোধনা সুপ্রিম কোর্টের

হোপ-পলের যুগলবন্দিতে ভারতকে দুরমুশ করে সিরিজে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন ওয়েস্ট ইন্ডিজের

নবরাত্রির রাতে এই কাজ করলেই ঘুচবে দারিদ্র্য, খুলবে চাকরির দরজা

জার্মানিতে বহুতলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঝলসে মৃত্যু তিন ভারতীয়র, পুড়িয়ে মারার শঙ্কা

তাণ্ডব চালিয়ে শতরান শাই হোপের, জিততে শ্রেয়সদের চাই ২৪৮ রান

সাতক্ষীরায় ধর্ম অবমানার অভিযোগে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে পিটিয়ে মারল মৌলবাদীরা

 ৫২ হাজার ৮৭৮ কোটিতে বিক্রি হচ্ছে IDBI ব্যাঙ্ক, অনুমোদন দিল কেন্দ্র

কোচবিহার জেলা পরিষদের নতুন সভাধিপতি তৃণমূলের টিকিটে জেতা হিমানি ইশর

সুখবর, রেল কর্মচারিরা ৭৮ দিনের পুজো বোনাস পাবেন

ICC টি টোয়েন্টি ক্রমতালিকায় ভারতীয়দের দাপট, শীর্ষের কারা