এই মুহূর্তে

বিজেপির অন্দরে তুলকালাম, ভিনরাজ্যের নেতাদের জন্য বিপুল খরচ, বুথ কর্মীদের অর্থে কোপ

নিজস্ব প্রতিনিধি:‌ বাংলায় একটা প্রবাদ আছে—গেঁয়ো যোগী ভিখ পায় না। অর্থাৎ কাছের লোক সমাদর পায় না। এবার এই নীতি দেখা গিয়েছে বঙ্গ–বিজেপিতে। আর তার জেরে বুথস্তরের কর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। চলতি বছরেই বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে বাংলায়। তাই পথে–ঘাটে নেমে বিজেপি নেতারা এখন সুর চড়িয়ে নানা কথা বলছেন। কিন্তু প্রদীপের নীচেই যে অন্ধকার তা দেখতে পাচ্ছেন না কেউ। কেন্দ্রীয় নেতাদের থেকে শুরু করে ভিন রাজ্যের নেতারা বাংলায় এসে পাঁচতারা হোটেলে থাকছেন। বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার করছেন। কেতাদুরস্ত পোশাক পরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অথচ বুথস্তরের কর্মীদের অর্থে কোপ পড়েছে বলে অভিযোগ। এই নিয়ে বিজেপির অন্দরে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে বলে সূত্রের খবর।

এদিকে প্রত্যেকটি বিধানসভা কেন্দ্র ঘুরে দেখছেন ভিন রাজ্যের নেতারা। ভোট ব্যাঙ্ক তৈরি করতে নেমেছেন তাঁরা। অথচ এই পদ্মনেতারা বাংলায় কথা বলতেও পারেন না, বুঝতেও পারেন না। তাঁরা কেমন করে ভোটব্যাঙ্ক তৈরি করবেন?‌ এই নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ভিনরাজ্য থেকে পদ্মনেতারা এসে গ্রামবাংলায় যাচ্ছেন। সেখানে গিয়ে ভোজপুরী থেকে শুরু করে হিন্দি ভাষায় কথা বলছেন। যা বেশিরভাগ মানুষ বুঝতে পারছেন না। কিন্তু এই ভিন রাজ্যের পদ্মনেতাদের জন্যই বিপুল টাকা খরচ করা হচ্ছে। সেখানে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বুথের কর্মীদের কথা ভাবছে না বলে অভিযোগ জেলার কর্মীদের। এমনকী বুথপিছু টাকা বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে এই বৈষম্য নিয়ে তেতে উঠেছেন বুথস্তরের কর্মীরা। তাঁরা এই নিয়ে চিঠি লিখেছেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের উদ্দেশে। তবে সেই চিঠি এখনও পৌঁছয়নি। পৌঁছে যাবে। নির্বাচনের পরিবেশে এমন ঘটনায় বুথস্তরের কর্মীরা বসে যাবেন বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর তা যদি হয় তাহলে বাংলা দখলের স্বপ্ন ফেরি করা স্বপ্নই থেকে যাবে। কদিনের মধ্যে যদি বুথস্তরের কর্মীদের কথা ভাবা না হয় তাহলে চরম পদক্ষেপ করা হবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা বলে সূত্রের খবর। বুথস্তরের নেতাদের উপর খবরদারি করার জন্য হিন্দিভাষী নেতাদের পাঠিয়ে দেওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন তাঁরা।

এছাড়া এসআইআর পর্বে এমনিতেই সাধারণ মানুষ কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিজেপির উপর ক্ষুব্ধ হয়ে রয়েছেন। এই আবহে বিজেপির বুথস্তরের কর্মীদের উপর আর্থিক কোপ ফেলায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। তার উপর বৈষম্য সামনে আসায় মেনে নিতে পারছেন না বুথস্তরের কর্মীরা। এই গোটা বিষয়টি নিয়ে বিজেপির আদি নেতা কেশব কোনার বলেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জেলার নেতাদের কার্যত অপমান করছে। বুথস্তরের নেতারা নানা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের কথা ভাবা দরকার। বাইরের নেতাদের এমন আপ্যায়ন না করে বুথের নেতাদের আর্থিকভাবে সাহায্য করা দরকার। তাঁদের মোটরবাইকের তেলের খরচও দেওয়া হয় না। অথচ হিন্দি ভাষাভাষী নেতারা হোটেলে থাকছেন, দামি গাড়িতে ঘুরছেন।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

বিধানসভায় কত আসন পাবে তৃণমূল জানিয়ে দিলেন অভিষেক

বীরভূমে ১১ টি আসন চাই , অনুব্রত-কাজল শেখদের টার্গেট বেঁধে দিলেন অভিষেক

বেলডাঙায় কনকনে শীতের দুপুরে অর্ধশত ঘুঘু উড়ল মুক্ত নীল আকাশে

কালিয়াচকে দিনে দুপুরে চলল গুলি, আহত তৃণমূল কর্মী এবং তাঁর ছেলে সহ ২

হেমন্ত সোরেনের হেলিকপ্টারে রামপুরহাটে গেলেন অভিষেক

অভিষেকের কপ্টারে অনুমতি নিয়ে বিভ্রান্তি, ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তৃণমূলের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ