আর কিছুক্ষণ, তারপরেই বদলাচ্ছি আমরা

আমরা আসছি

00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
আমরা এখন লাইভ!
এই মুহূর্তে

গান্ধিরা থাকবেন হৃদয়েই, বলছে মালদা-মুর্শিদাবাদ

কৌশিক দে সরকার: বিজেপির সুরে সুর মিলিয়ে কোনও কোনও সংবাদমাধ্যম বলছে কংগ্রেসে(INC) গান্ধিবাদের অবসান ঘটালেন মল্লিকার্জুন খাড়গে(Mallikarjun Kharge)। কিন্তু সেই কথায় কান দিচ্ছেন না বাংলার কংগ্রেসিরা। কেননা তাঁদের কাছে আজও কংগ্রেস মানে জওহরলাল নেহেরু, ইন্দিরা গান্ধি(Indira Gandhi), রাজীব গান্ধি(Rajib Gandhi)। আজও তাঁদের কাছে কংগ্রেস হয়ে আছে সোনিয়া গান্ধি, রাহুল গান্ধি, প্রিয়াঙ্কা গান্ধির দল। যে দল তাঁদের কাছে জান-মান-প্রাণ। খাড়গে এলেন না গেলেন, থারুর জয় হল না হল না, অধীর বিজেপিতে গেলেন না গেলেন না তাতে তাঁদের কিছু যায় আসে না। তাঁরা জানেন বাংলার(Bengal) বুকে কংগ্রেস মানে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু, ডা. বিধানচন্দ্র রায়, সিদার্থ শঙ্কর রায়, প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সি, প্রণব মুখোপাধ্যায়, সোমেন মিত্র। আর তাঁরা জানেন বিধানসভায় কংগ্রেসের কেউ থাকুক বা না থাকুক, দেশে কংগ্রসের একজনও সাংসদ থাকুক বা না থাকুক, বাংলার হৃদয়জুড়ে, ভারতের হৃদয়জুড়ে থাকবে গান্ধি পরিবার। থাকবেন নেহেরু, ইন্দিরা, রাজীব, সোনিয়া, রাহুল আর প্রিয়াঙ্কা। মোদির বিজেপি সেখানে কোনও ছাপ ফেলতে পারবে না। 

বুধবার জাতীয় কংগ্রেসের জাতীয় সভাপতি হিসাবে দায়িত্বগ্রহণ করেছেন গান্ধি পরিবারের আস্থাভাজন মল্লিকার্জুন খাড়গে। এটা প্রথমবার নয় যখন গান্ধি পরিবারের বাইরে গেল কংগ্রেসের ব্যাটন। অতীতেও বহুবার এই ঘটনা ঘটেছে। স্বাধীনতার পরে নীলম সঞ্জীব রেড্ডি, কামরাজ, বাবু জগজীবন রাম, ডা. শঙ্কর দয়াল শর্মা, পি ভি নরসিমা রাও, সীতারাম কেশরী অনেকেই কংগ্রেসের সভাপতি পদের দায়িত্বভার সামলেছেন। কিন্তু ইন্দিরার আমল থেকেই কংগ্রেসের সঙ্গে গান্ধি পরিবার অঙ্গাঙ্গীভাবে জুড়ে গিয়েছে। ভারত মানেই ইন্দিরা আর ইন্দিরা মানেই ভারত, এই বাক্যটা যেমন আজও দেশের প্রত্যন্ত গ্রামে গ্রামে জীবন্ত হয়ে আছে ঠিক তেমনি গান্ধিদের হাতে কংগ্রেসের ব্যাটন থাকুক বা না থাকুক আজও দেশের মানুষের কাছে কংগ্রেস মানেই গান্ধি পরিবার। এই সত্য বাংলার কংগ্রেসিরাও জানেন ও মানেন। কেননা এটা আরও বড় সত্য যে ইন্দিরা-রাজীব দেশের মানুষের কাছে, বাংলার মানুষের কাছে, বাংলার অগ্নিকন্যা তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Mamata Banerjee) কাছে আজও যে শ্রদ্ধা ও ভালবাসা পান তার ধারেকাছেও দেশের কোনও নেতানেত্রী আজও ঘেঁষতে পারেন না। সেই ইন্দিরা-রাজীবের পরিবার গান্ধি পরিবারকেই কংগ্রেসের মাথা বলে জানেন, মানেন বাংলার কংগ্রেসিরা। খাড়গে এলেন না গেলেন তা তাঁরা ভাবে না।

বাংলার বুকে মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর এই ৩ জেলা কংগ্রেসের গড় হিসাবে দীর্ঘদিন ধরে চিহ্নিত ছিল। এমনকি কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল তৈরি হওয়ার পরেও দীর্ঘ ২ দশক সেই দুর্গ অটুট ছিল। তৃণমূল পারেনি সেই দুর্গে থাবা বসাতে। কিন্তু সেই ছবিটাই বদলে গিয়েছে একুশের ভোটে। মালদা, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুরের মানুষ দুই হাত উপুড় করে ভোট দিয়েছেন তৃণমূলকে। শুধু এই ৩ জেলাতেই কংগ্রেস মুখ থুবড়ে পড়েছে তাই নয়, স্বাধীনতার পরে এই প্রথম বাংলার বিধানসভা থেকেছে কংগ্রেসহীন হয়ে। সেই সঙ্গে এটাও সত্য, বাংলার বুকে আর কোনও কংগ্রেস নেতারই আর কোনও গ্রহণযোগ্যতা নেই। নেই জনপ্রিয়তাও। বাংলার কংগ্রেস তাই অভিভাবকহীন, নেতৃত্বহীন। এ রাজ্যের কংগ্রেসি সমর্থক থেকে নীচুতলার নেতাকর্মী দলের এই অবস্থা খুব ভাল ভাবেই জানেন ও মানেন। কিন্তু তাঁর পরেও তাঁরা এটা জানেন ও মানেন, কংগ্রেস মানেই গান্ধি পরিবার। আজও তাঁরা ডাক দিলে দলে দলে মানুষ ভিড় জমাবে তাঁদের সভাতে। দলের ব্যাটন তাঁদের হাতে থাকুক বা নাই থাকুক। তা নিয়ে মাথা তাঁরা ঘামান না। তা৬দের বিশ্বাস আজ না হোক কাল কংগ্রেস ঠিকই ঘুরে দাঁড়াবে, গান্ধিদের হাতেই ফিরবে দলের ব্যাটন। যদিও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের সাফ দাবি, খাড়গে চোখের ধুলো মাত্র। কংগ্রেসের আসল ব্যাটন গান্ধিদের হাতেই ছিল, আছে, থাকবে। তাঁরাই দলের নীতি নির্ধারণ করাবেন তাঁদের অনুগামী নেতাদের দিয়ে। সিদ্ধান্তের রূপায়ণ ঘটাবেন পর্দার পিছন থেকে। দেশের মানুষও তা বিলক্ষ্ণ জানেন ও মানেন। তাই খাড়গে কে, কী তাঁর ক্ষমতা তা নিয়ে তাঁরা মাথা ঘামান না। তাঁদের হৃদয়জুড়ে ইন্দিরা-রাজীব-সোনিয়া-রাহুল-প্রিয়াঙ্কা। হৃদয়জুড়ে গান্ধিময় কংগ্রেস।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

‘কেউ অশান্তিতে জড়াবেন না’, গণনার আগে বিজেপি কর্মীদের বড় বার্তা শমীক ভট্টাচার্যের

গণনায় অশান্তি এড়াতে বড় পদক্ষেপ, ৪৮ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে ভারত-ভুটান সীমান্ত

আইপিএল বেটিং নিয়ে অশান্তি, স্বামী ও তৃণমূল নেতা দেওরের বিরুদ্ধে পুলিশের দ্বারস্থ স্ত্রী

ঝাড়গ্রামে বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতি ধান চাষের, মাথায় হাত চাষীদের

আউশগ্রামে দীর্ঘক্ষণ বন্ধ CCTV, রহস্য ঘনীভূত স্ট্রংরুম ঘিরে

নির্দিষ্ট দিনের আগেই কাউন্টিং এজেন্টরা হাজির, কেন এমন ঘটনা ঘটল?‌

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ