Loading live market data...
Loading active stocks...
Connecting...

একুশের প্রায় ৩০ হাজার ভোটের লিড সহ কাঁথি ধরে রাখাই চ্যালেঞ্জ অধিকারীদের কাছে

এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের লড়াই অধিকারীদের হাত থেকে কাঁথি ছিনিয়ে নিয়ে তাঁদের মক্ষম জবাব দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের ‘গদ্দারি’র যোগ্য জবাব দেওয়ার।

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভোট তো সব জায়গাতেই হচ্ছে, কিন্তু পূর্ব মেদিনীপুর(Purba Midnapur) জেলার মাটিতে এবার ভোট শুধু দিল্লিতে জনপ্রতিনিধি পাঠানোর ভোট নয়। এই নির্বাচন এবার জেলার রাজনীতিতে ও সামাজিক জীবনে অধিকারীদের দাপট ধরে রাখা বনাম তৃণমূলের(TMC) আধিপত্য বাদের লড়াই। বিশেষ করে কাঁথি লোকসভা কেন্দ্রে(Contai Constituency)। কেননা সেখানে এবার বিজেপির(BJP) প্রার্থী হয়েছেন অধিকারী পরিবারেরই ছোট ছেলে সৌমেন্দু অধিকারী(Soumendu Adhikari)। এই যুদ্ধে সৌমেন্দু জিতলে অধিকারীদের হাতে তাঁদের শেষ জমিটুকু থেকে যাবে। কিন্তু হারলে সব কিছুই হারিয়ে যাবে। তাই তাঁদের কাছে এই লড়াই কার্যত রাজনৈতিক ভাবে জীবন-মরণের লড়াই। নিজেদের রাজনৈতিক গুরুত্ব, প্রভাব-প্রতিপত্তি ধরে রাখার লড়াই। নিজেদের ক্ষমতা জাহিরের লড়াই। অন্যদিকে তৃণমূলের লড়াই অধিকারীদের হাত থেকে কাঁথি ছিনিয়ে নিয়ে তাঁদের মক্ষম জবাব দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের ‘গদ্দারি’র যোগ্য জবাব দেওয়ার।

কাঁথি লোকসভা কেন্দ্র যত বার না ডানপন্থীদের দখলে গিয়েছে, তার থেকে বেশি বামেদের পকেটে গিয়েছে। এই লোকসভা কেন্দ্রে এখনও পর্যন্ত হয়ে যাওয়া ১৭টি নির্বাচনের মধ্যে ৯বার জয়ী হয়েছে বামেরা। তৃণমূল জয়ী হয়েছে ৪ বার। কংগ্রেস জিতেছে মাত্র ৩বার। ১ বার জয়ী হয়েছে জনতা পার্টি। তৃণমূল এই কেন্দ্রে প্রথমবার জয়ী হয়েছিল ১৯৯৯ সালে। জিতেছিলেন নিতীশ সেনগুপ্ত। ২০০৯ সাল থেকে এই কেন্দ্রে টানা জিতে আসছে তৃণমূল। কার্যত সেই সময় থেকেই সাংসদ হিসাবে রয়েছেন শিশির অধিকারী। জোড়াফুল ছেড়ে গোটা অধিকারী পরিবার বিজেপিতে ভিড়ে গেলেও সাংসদ পদ থেকে না ইস্তফা দিয়েছেন শিবির অধিকারী(Shishir Adhikari), না জেলারই অপর লোকসভা কেন্দ্র থেকে ইস্তফা দিয়েছেন অধিকারীদের সেজ ছেলে দিব্যেন্দু অধিকারী। তৃণমূল ছাড়লেও দুইজনই আজও জোড়াফুলের সাংসদ হিসাবেই রয়ে গিয়েছেন খাতায়কলমে। অধিকারীদের বড় আশা ছিল, দ্যিবেন্দুকে যেন তমলুক থেকে আর সৌম্যেন্দুকে কাঁথি থেকে যেন বিজেপি টিকিট দেয়। যদিও সেই গুড়ে বালি ঢেলে দিয়েছে খোদ পদ্মশিবির। দিব্যেন্দুকে টিকিটই দেয়নি তাঁরা ভোটে লড়াই করার। আর তার জেরে নাকি অধিকারী পরিবারেই পদ্মশিবিরের প্রতি অভিমান তৈরি হয়েছে।

বাম জমানা থেকেই কাঁথি মহকুমা জুড়ে অধিকারীদের জমিদারী কায়েম হয়েছিল। কিন্তু তৃণমূল জমানায় তা ছড়িয়ে পড়ে গোটা পূর্ব মেদিনীপুর ছাড়িয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরের মাটিতেও। তাঁদের ইচ্ছা ছিল বিজেপির হাত ধরে সেই জমিদারী বাংলাজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার। কিন্তু বিজেপি থেকেই দিব্যেন্দুকে টিকিট না দিয়ে কার্যত অধিকারীদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, আপাতত তাঁরা নিজেদের জেলাতেই মন দিন, নিজেদের পায়ের নীচে মাটি ধরে রাখার দিকে মন দিন। রাজ্যজুড়ে জমিদারীর কথা এখন না ভাবলেও চলবে। তবে ঘটনা হচ্ছে, তৃণমূল ছাড়ার পর থেকেই একটি একটু করে অধিকারীদের জমিদারী হাতছাড়া হচ্ছে। জেলার বেশির ভাগ ব্যাঙ্ক আর সমবায় থেকে অধিকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোপ পড়েছে তাঁদের ঘনিষ্ঠজনদের ওপরেও। একুশের ভোটে এই অধিকারীদের কাঁয়ধে চড়েই মেদিনীপুরের মাটি দখলে নেমে পড়েছিল বিজেপি। লক্ষ্য ছিল, দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম মিলিয়ে অর্থাৎ অবিভক্ত মেদিনীপুরের মাটি থেকে ৩৫টি আসনের মধ্যে অন্তত ২১টি ছিনিয়ে আনা। যদিও সেই লক্ষ্যপূরণ সম্ভব হয়নি। ঝাড়্গ্রামের মাটি থেকে জোটেই ৪টির মধ্যে ১টিও আসন। পশ্চিম মেদিনীপুরের ১৫টি আসনের মধ্যে জুটেছিল মাত্র ২টি। আর অধিকারীদের নিজেদের জেলা পূর্ব মেদিনীপুরের ১৬টি আসনের মধ্যে বিজেপি পেয়েছিল ৭টি আসন। বাকি সবই গিয়েছে তৃণমূলের দখলে।

একুশের ভোটে তৃণমূলের কাছে হারের পরে পুরসভা নির্বাচনেও ধাক্কা খেয়েছে অধিকারীরা। হাতছাড়া হয়েছে কাঁথি ও তমলুক পুরসভা। পরবর্তীকালে হাতছাড়া হয়েছে পাঁশকুড়া, হলদিয়া আর এগরাও। গত বছরের পঞ্চায়েত নির্বাচনেও জেলা পরিষদের দখল নিয়েছে তৃণমূল। জেলার ২৫টি পঞ্চায়েত সমিতির মধ্যে গোটা ৯ এখন রয়েছে বিজেপির দখলে। বাকি সব তৃণমূলের দখলে। এই অবস্থায় এবারের লোকসভা নির্বাচনে অদিকারীদের পক্ষে রয়েছে শুধুমাত্র একুশের ভোটে কাঁথি লোকসভা কেন্দ্রে পাওয়া প্রায় ৩০ হাজার ভোটের লিড। একুশের ভোটে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় বিজেপি যে ৭টি আসনে জয়ের মুখ দেখেছিল তার মধ্যে ৪টি আসন এই কাঁথি লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যেই পড়ে। এই ৪ বিধানসভা কেন্দ্র হল – কাঁথি উত্তর, কাঁথি দক্ষিণ, ভগবানপুর ও খেজুরি। এই ৪ কেন্দ্রের দৌলতেই কাঁথি লোকসভা কেন্দ্রে এগিয়ে আছে বিজেপি থুড়ি অধিকারীরা। এই কেন্দ্রের আওতায় থাকা বাকি ৩ বিধানসভা কেন্দ্র চণ্ডীপুর, পটাশপুর ও রামনগর রয়েছে তৃণমূলের দখলে।

তবে ৩০ হাজারের লিড থাকা মানেই যে জয় সুনিশ্চিত একথা কেউই জোর গলায় বলার মতো অবস্থায় নেই। কেননা একুশের মতো পরিস্থিতি আর ২৪’র ভোট আবহে নেই। দেশজুড়ে কার্য মোদিও তথা বিজেপি বিদায়ের ডঙ্কা বেজে গিয়েছে। তাই যারা একুশের ভোটে বিজেপিকে দুই হাত উপুড় করে ভোট দিয়েছিলেন তাঁরা এবার তা নাও করতে পারেন। বরঞ্চ যে অন্ধ তৃণমূল বিরোধী বাম ভোটাররা বিজেপিকে ভোট দিয়েছিলেন একুশের নির্বাচনে সেই ভোটাররা এবার আর ভোট নাও দিতে পারেন পদ্মের বাক্সে। পরিবর্তে তাঁরা ফিরতে পারেন লাল পার্টির বাক্সেই। যা কার্যত বিজেপির যাত্রা ভঙ্গের জন্য যথেষ্ট। একই সঙ্গে অদিকারীদের মাথা ব্যাথা বাড়িয়েছে বিজেপির অন্দরের বিদ্রোহ। জেলায় বিজেপির সংগঠনে যেভাবে অধিকারীদের জমিদারী কায়েম হয়েছে তার জেরে সম্প্রতি এক ঝাঁক আদি বিজেপি নেতা দলত্যাগ করেছেন। বসে গিয়েছে দলের আদি কর্মীরাও। অর্থাৎ পদ্মের আদি ভোটারদের ভোটও আর নাও জুটতে পারে অধিকারীদের সমর্থনে। অন্যদিকে তৃণমূলের ভরসা জেলার উন্নয়ন এবং লক্ষ্মীর ভান্ডার। এই দুইয়ে ভর দিয়েই অধিকারীদের এবার ‘গদ্দারি’র জবাব দিতে চাইছে তৃণমূল। তাঁদের হয়ে মাঠে লড়ছেন জেলা পরিষদের সভাপতি উত্তম বারিক।

‘পুশ ইন হলে ব্যবস্থা’, মোদি সরকারকে হুমকি বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রীর

শুটিংয়ের পথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, প্রভাসের ‘ফৌজি’ ইউনিটের ১ সদস্যের মৃত্যু, আহত ৫

‘আমার গায়ে রাজনৈতিক রঙ লাগাবেন না’, বিজেপি জেতার পরেই এমন কেন বললেন প্রসেনজিৎ?

মধু বিক্রি করে মেটাচ্ছেন টিউশন ফি, পড়াশোনার খরচ জোগাতে ছাত্রের অনন্য উদ্যোগ

৫ কোটি টাকা না দেওয়ায় টিকিট পাইনি, তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মনোজ তিওয়ারি

মেট গালা’য় ‘মটকা কিং’-এর এন্ট্রি, সাদা লুঙ্গি-শার্টে নজর কাড়লেন বিজয়

গুরুদক্ষিণা, অমিত শাহের মূর্তি বসছে মধ্য হাওড়ায়

৭ তারিখ পর্যন্তই সময়, মমতাকে সাফ জানাল বিজেপি

মমতার নিরাপত্তা হ্রাস করল কলকাতা পুলিশ, বাড়ির সামনে থেকে সরানো হল গার্ডরেল

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের উপর মার্কিন হামলায় নিহত ৫, আমিরশাহিতে ড্রোন হামলা ইরানের

কলকাতা সহ একাধিক জেলায় ধেয়ে আসছে ঝড়-বৃষ্টি, সঙ্গে রাখুন ছাতা

টি-টোয়েন্টির ক্রমতালিকায় শীর্ষে ভারত, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে কারা?

মমতা ইস্তফা না দিলে কি পদক্ষেপ নেবেন রাজ্যপাল? শুরু জোরদার চর্চা

ঋষভ পন্থকে অধিনায়কের পদ থেকে সরানোর দাবি রোহান গাভাস্কার-মনোজ তিওয়ারির