চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

বাবার ভুলের মাশুল নিজের জীবন দিয়ে চোকাল মেধাবী ধ্রুবজ্যোতি

Courtesy - Google

নিজস্ব প্রতিনিধি: মাত্র ১৫ বছর আগে তৈরি হয়েছিল এই বাড়িটি। কয়েকদিন আগে থেকেই বাড়ির বেশ কয়েক জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছিল। বাড়িটিতে ছিল না লোহার কোনও কাঠামো। কাঠের ঝরনার ওপর বাঁশের কাঠামো বিছিয়ে বাড়ির ছাদ ঢালাই করা হয়েছিল। তাই বাড়িটি শুরু থেকেই ছিল দুর্বল। বাড়িটি এভাবে যখন তৈরি হচ্ছিল, তখনই নিষেধ করেছিল পাড়াপ্রতিবেশীরা। কিন্তু যিনি সেই বাড়ি তৈরি করেন তিনি ছিলেন এলাকার ডাকাবুকো লালপার্টির নেতা(CPIM Leader), কৃষ্ণ মণ্ডল(Krishna Mondol)। বাংলার ক্ষমতায় তখনও লালপার্টি। তাই পাড়াপ্রতিবেশী থেকে আত্মীয়স্বজন কারোর কথাতেই কান দেননি তিনি। সম্ভবত বাড়িটির প্ল্যানও পাশ করানো নেই। আজ তিনিও নেই। প্রয়াত হয়েছেন কয়েকবছর আগেই, ২০১৮ সালে। কিন্তু তাঁর ভুল কাজের মাশুল আজ গুণতে হচ্ছে তাঁরই পরিবারকে। আরও বলা ভাল তাঁরই মেধাবী ছোট ছেলেকে। নিজের জীবন দিয়েই সেই মাশুল গুণতে হল তাকে। বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতার(Kolkata) উত্তর-পূর্ব শহরতলির বাগুইহাটিতে(Baguihati) বাড়ি ভেঙে(Building Collapsed Incident) পড়ে কিশোর মৃত্যুর ঘটনায় এটাই চাঞ্চল্যকর সত্য।   

আরও পড়ুন ১৫ বছরের বাস বসে যাওয়ার নিয়ম লাগু শুধুমাত্র বৃহত্তর কলকাতায়, জানালেন পরিবহণমন্ত্রী

বাগুইহাটি থানা এলাকার অশ্বিনীনগরের নজরুল পার্কে বৃহস্পতিবার রাতে একটি বাড়ি ভেঙে পড়ে। সেই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে উচ্চমাধ্যমিকে প্রায় ৮০শতাংশ নম্বর পেয়ে পাস করা ধ্রুবজ্যোতি মণ্ডল। বয়স মাত্র ১৭। গতকাল সন্ধ্যায় ওই বাড়ির এক তলার ছাদের অংশ ভেঙে পড়ে আচমকাই। সেই সময় ধ্রুবজ্যোতির পরিবার সেখানে ছিল। পরিবার বলতে ধ্রুবজ্যোতি, তার মা আর দাদা। বাড়ির ৩ তলা ভেঙে পড়তেই তা৬রা বুঝতে পারেন, এই বাড়িতে থাকা আর নিরাপদ নয়। তাই ধ্রুবজ্যোতির মা আর দাদা বেড়িয়ে পড়েন বাইরে ভাড়া বাড়ির সন্ধানে। রাত ৯টা নাগাদ যখন তাঁরা বাইরে ছিলেন, সেই সময়েই বাড়িটির দোতালার ছাদ ভেঙে পড়ে একতলায় ঘরে বসে থাকা ধ্রুবজ্যোতির গায়ের ওপর। সেই সময় টিভি দেখছিল ধ্রুবজ্যোতি। বাড়ি ভেঙে পড়ার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে আসে বাগুইহাটি থানার পুলিশ, দমকল। আসে বিপর্যয় মোকাবিলা দলও। শুরু হয় উদ্ধারকাজ। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে হাত লাগান। বাড়ির বিভিন্ন অংশের দেওয়াল মেশিন দিয়ে কাটা হয় কিশোরকে উদ্ধার করার জন্য। কিন্তু সফল হননি তাঁরা।  

আরও পড়ুন কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস আপাতত নেই

বাড়ি ভেঙে পড়ার ৫ ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল। অচৈতন্য অবস্থায় ভোর ৪টে নাগাদ তাঁরা ওই কিশোরকে উদ্ধার করে আর জি কর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই ধ্রুবজ্যোতিকে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। এখন সামনে আসছে ভয়াবহ তথ্য। লোহা, রডের জায়গায় এই বাড়ি ধ্রুবজ্যোতির বাবা গড়ে তুলেছিলেন বাঁশের চটা দিয়ে। তারওপর ছিল সিমেন্টের ঢালাই। গতকাল রাতে সেই সিমেন্টের চাঙড়ের নীচে চাপা পড়ে গিয়েছিল ধ্রুজ্যোতি যা সরিয়ে তাকে বার করতে কেটে যায় মূল্যবান ৮ ঘন্টা। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, রাত দেড়টা অবধি ধ্বংসস্তূপের ভিতরে আটকে থাকা ধ্রুবজ্যোতির গলার আওয়াজ পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু যখন তাকে উদ্ধার করা হয় তখন সে ছিল অচেতন। আর জি করের চিকিৎসকেরা কিন্তু জানিয়ে দিয়েছেন, সাত ২টোর আশেপাশেই মারা যায় ধ্রুবজ্যোতি। বাবার ভুলের মাশুল গুনতে হল ধ্রুবজ্যোতিকে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা, কী কারণ?

বাইকই ভরসা! কমিশনের নিষেধাজ্ঞায় চরম সমস্যায় সাধারণ মানুষ

তৃণমূল প্রার্থী-ভোট ম্যানেজারদের প্রয়োজনে আটকে রাখার নির্দেশ কমিশনের

ভোটের মুখে ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হওয়া নামের প্রথম তালিকা প্রকাশ করল কমিশন, কীভাবে দেখবেন?

পুলিশের অনুমতি না মেলায় বৃহস্পতিবার রাহুল গান্ধির বঙ্গ সফর বাতিল

নন্দীগ্রামের পুলিশ পর্যবেক্ষক বদল কেন, সদুত্তর দিতে পারলেন না মনোজ

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ