এই মুহূর্তে

ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে হতে চলেছে লক্ষ কণ্ঠে হরিনাম সংকীর্তন, মতুয়াদের সিদ্ধান্তে চাপে গেরুয়া শিবির

নিজস্ব প্রতিনিধি:‌ এখন ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে রাজনৈতিক সমাবেশ দেখা যাচ্ছে না। বরং ধর্মীয় সমাবেশ দেখা যাচ্ছে। সদ্য ৫ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ হয়ে গেল। তা নিয়ে বিস্তর চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য–রাজনীতিতে। এরপরই পাল্টা জবাব দিতে আসরে নামতে চলেছে কংগ্রেস। তারা আবার সহস্র কণ্ঠে সংবিধান পাঠ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাতে থেমে থাকছে না কর্মসূচি। কারণ এবার এই ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে এক লক্ষ কণ্ঠে হরিনাম সংকীর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুরপন্থী অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘ। ২০২৬ সালে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে বাংলায়। তার আগে এমন সব কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে উঠেছে।

এদিকে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড বহু রাজনৈতিক সমাবেশের সাক্ষী। সেখানে বিজেপি ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ। তাই কংগ্রেস সংবিধান পাঠ করে বিজেপি নেতাদের হুঁশ ফেরাতে চাইছে। আর এই ধর্মীয় মেরুকরণ ঠেকাতেই এক লক্ষ কণ্ঠে হরিনাম সংকীর্তন করতে চাইছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর বলে সূত্রের খবর। বিধানসভা নির্বাচনে মতুয়া ভোট একটা বড় ফ্যাক্টর। বিজেপি নেতারাও ভোট আসলে ঠাকুরনগরে গিয়ে মতুয়া ভোট ভিক্ষা করেন। সুতরাং ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে এক লক্ষ কণ্ঠে হরিনাম সংকীর্তন হলে তাতে কুমন্তব্য করতে পারবেন না বিজেপি নেতারা। সেক্ষেত্রে এটা একটা মাস্টারস্ট্রোক দিল তৃণমূল কংগ্রেস। নদিয়ার সভা থেকে এই কাজকে ধর্মীয় মেরুকরণের সামিল বলে অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘গীতাপাঠের জন্য পাবলিক মিটিং করার কী আছে? ধর্ম মানে মানবতা, ধর্ম মানে শান্তি। আমরা সকলেই বাড়িতে গীতাপাঠ করি।’

অন্যদিকে বিজেপিকে কড়া বার্তা দিতে আজ শুক্রবার সেই ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডেই এক লক্ষ কণ্ঠে হরিনাম সংকীর্তন করার কথা ঘোষণা করলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মমতাবালা ঠাকুরপন্থী অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের গোসা পরিষদের সভাপতি নান্টু হালদার। আজ সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি বলেন, ‘আমরা একটা অরাজনৈতিক কর্মসূচি করতে চাই। লক্ষ কণ্ঠে হরিনাম সংকীর্তন হবে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসেই কোনও একটা দিন ঠিক করা হবে। এই কর্মসূচিতে কোনও রাজনৈতিক ছোঁয়া থাকবে না। সবাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে করছেন। কেউ গীতাপাঠের আয়োজন করছেন, কেউ কোরান পাঠের করবেন বলছেন। কিন্তু মতুয়ারা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক কর্মসূচি করবে।’

বিজেপিকে জবাব দিতেই কী এমন আয়োজন?‌ এই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন নান্টু হালদার। নান্টু হালদারের বক্তব্য, ‘‌এসআইআরকে মাথায় রেখেই এই হরিনাম অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। হরিনাম শেষে নির্বাচন কমিশনের কাছে ভোটার তালিকায় মতুয়াদের নাম রাখার আর্জি জানানো হবে। সিএএ’‌র ফর্ম ফিলআপ করেও তাঁরা যে এখনও নাগরিকত্ব পাননি তার প্রতিবাদ জানানো হবে।’‌ যদিও বিষয়টি নিয়ে পাল্টা বিজেপি নেতা প্রিয়াংগু পাণ্ডের কথায়, ‘সিএএ নিয়ে ওনাদের কেউ ভুল বুঝিয়েছেন। সব হিন্দুই নাগরিকত্ব পাবেন। আর মতুয়াদের হরিনাম সংকীর্তনের আমন্ত্রণ পেলে আমরা যাব।’‌

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

বাড়ির বাইরে রাখা চাবি ব্যবহার করে জমি কেনার টাকা নিয়ে চম্পট চোরের

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, এবার গণ ইস্তফা দিনহাটার বিএলওদের

‘‌সৈকত পরিষ্কার আমাদের অঙ্গীকার’‌, গঙ্গাসাগর ঝাঁটা হাতে সাফাই করলেন ৬ মন্ত্রী

জোর ধাক্কা হুমায়ুনের, জানুয়ারিতে ব্রিগেডে সভার অনুমতি দিল না সেনা

SIR সংক্রান্ত নথি নিতে অমর্ত্যর বাড়িতে হাজির কমিশনের প্রতিনিধিরা

‘উত্তরবঙ্গকে দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে জুড়বে ভলভো বাস’, নতুন বছরে নয়া পরিষেবা চালু মমতার

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ