এই মুহূর্তে

নির্বাচনে জিতেও উন্নয়নে ব্যর্থ কেন?‌ বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন আলিপুরদুয়ারবাসী

নিজস্ব প্রতিনিধি: কদিন আগেই তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জেলা সফরে আসেন। আলিপুরদুয়ারে সভা করে বলেছিলেন, ‘‌আমরা বারবার আলিপুরদুয়ারে হারছি। তারপরেও কিন্তু এখানে রাজ্য সরকার উন্নয়নের কোনও কাজ বন্ধ করেনি।’‌ সুতরাং বিজেপি জিতে এখানে কোন উন্নয়ন করেছে?‌ তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেন অভিষেক। এবার এই জেলার বাসিন্দারা নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিলেন বিজেপির বিরুদ্ধে। তাই বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে আলিপুরদুয়ারে বিজেপি নেতারা ভোট চাইতে জনগণের দুয়ারে গেলে চাপ সহ্য করতে হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে ২০১৪ সালের ২৫ জুন আলিপুরদুয়ারকে জেলা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু দেখা যায়, ২০১৯ এবং ২০২৪ সালে পর পর দু’বার লোকসভা নির্বাচনে জেতে বিজেপি। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে জেলার পাঁচটি আসনও জেতে বিজেপি। কিন্তু বিজেপি আজ পর্যন্ত আলিপুরদুয়ারে কোনও প্রকল্পই করতে পারেনি বলে অভিযোগ আলিপুরদুয়ারবাসীর। কী কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি?‌ ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে সেগুলিই মনে করিয়ে দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। দলগাঁও রেল স্টেশনে ডলোমাইট সাইডিং সরানো, হাসিমারায় বিমানবন্দর, জেলায় কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং জংশনে রেলের জমিতে ২০০ বেডের হাসপাতাল তৈরি করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। যদিও তা হয়নি বলেই অভিযোগ।

অন্যদিকে বিজেপি নেতারা মানুষজনকে বুঝিয়েছেন রাজ্য সরকার সাহায্য করছে না বলে উন্নয়ন করা যাচ্ছে না। অথচ রাজ্য সরকার একের পর এক উন্নয়ন করে চলেছে। এবার আলিপুরদু্য়ার জেলার সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন, রেলের জমিতে ২০০ বেডের হাসপাতাল তৈরি তো রাজ্য সরকার করবে না। তাহলে রেলের জমিতে সেই হাসপাতাল কেন তৈরি হচ্ছে না? নতুন জেলা করার পর রাজ্য সরকার আলিপুরদুয়ারে প্রশাসনিক ভবন ডুয়ার্সকন্যা, ৬ তলা নতুন জেলা কোর্ট বিল্ডিং, আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, জেলা হাসপাতাল, একাধিক কলেজের পরিকাঠামো উন্নয়ন, জেলা পুলিশ লাইন এবং ঝাঁ চকচকে রাস্তাঘাট তৈরি করে উন্নয়ন করেছে। এই হিসাব দিচ্ছেন সাধারণ মানুষজন।

এছাড়া চা–বাগানগুলিতে রাস্তাঘাট, পানীয় জল এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নও ঘটিয়েছে রাজ্য সরকার। এই বিষয়ে আলিপুরদুয়ার শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা পেশায় হাইস্কুল শিক্ষক রাতুল বিশ্বাস বলেন, ‘‌তিনটি নির্বাচনে জেলার মানুষ বিজেপিকে উজার করে ভোট দিয়েছেন। কিন্তু এই প্রকল্পগুলির একটিও হয়নি।’‌ বনচুকামারির বাসিন্দা রবীন্দ্র বর্মনের বক্তব্য, ‘‌বিজেপির উন্নয়নের কাজ করার কোনও ইচ্ছা নেই।’‌ ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রবীন বাসিন্দা জ্যোতির্ময় রায়ের কথায়, ‘‌জেলায় কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি হোক চাই। কিন্তু বিজেপির জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরেও হয়নি।’‌ তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ প্রকাশচিক বড়াইকের খোঁচা, ‘‌সাধারণ মানুষের মতো আমরাও তো একাধিকবার সেই প্রশ্নই তুলছি। বিজেপি যে আসলে জুমলাবাজ পার্টি এতদিনে জেলার মানুষও বুঝতে পারছেন দেখে ভালো লাগছে।’‌

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

৩৩ হাজার গরিব মহিলার মাথার উপর পাকা ছাদের বন্দোবস্ত করছে নবান্ন

ভয়ঙ্কর কাণ্ড! রিল বানাতে বানাতে শিব ঠাকুরের মাথায় উঠে পড়লেন যুবতী, তারপর..

অভিষেকের প্রস্তাবে মান্যতা দিল কলকাতা হাইকোর্ট, কীসে পড়ল সম্মতি?‌

‘‌বনধ নাগরিক স্বাধীনতার পরিপন্থী’‌, মমতার নীতির সঙ্গে সহমত শশী থারুর

বেলডাঙায় অশান্তির ঘটনায় ধৃতদের জেল হেফাজতের মেয়াদ বাড়ল

পুণেতে খুন পরিযায়ী শ্রমিক, পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতে পুরুলিয়ায় অভিষেক

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ