এই মুহূর্তে




মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের উদ্যোগে রেশম গুটির রেকর্ড দাম, মালদার চাষিদের মুখে হাসি

নিজস্ব প্রতিনিধি, কালিয়াচক:ছাব্বিশ হাজার টাকা ৪০ কেজি রেশম গুটির রেকর্ড দামে মুখে হাসি ফুটেছে মালদার চাষিদের ।চলতি অগ্রহায়ণ মরশুমে রেশম(Silk) গুটি (কোকুন) বাজারে অভাবনীয় দাম উঠতেই জেলার রেশম চাষিদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি। শনিবার কালিয়াচক(Kaliyachak) কোকুন মার্কেটে উন্নত জাতের রেশম গুটির দাম উঠেছে ৪০ কেজি প্রতি ২৬,০০০ টাকা পর্যন্ত। গত কয়েক বছরের মধ্যে এটাই সর্বোচ্চ দর।সকাল থেকেই চাঁচল, মানিকচক, মোথাবাড়ি, সুজাপুর, কালিয়াচক, জালালপুর ও কালিয়াচক-৩ ব্লকের শত শত চাষি ট্রাক-ভ্যানে করে রেশম গুটি নিয়ে হাজির হন কালিয়াচক মার্কেটে। বিক্রি শেষে হাতে টাকা নিয়ে ফেরার পথে তাঁদের মুখে ছিল একটাই কথা, “এবার একটু লাভ হবে।”মালদা জেলায় প্রায় ৭০ হাজার পরিবার রেশম চাষের সঙ্গে যুক্ত। এক সময় ধুঁকতে থাকা এই শিল্পকে পুনরুজ্জীবন দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(CM Mamata Banerjee) । রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প, উন্নত জাতের ডিম্ব সরবরাহ, চাষিদের প্রশিক্ষণ ও বাজার সংযোগের ফলে মালদার রেশম চাষ আজ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

জেলার মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন(Minister Sabana Ieysmin) নিজে মাঠে নেমে চাষিদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে নতুন নতুন রেশম গাছের চারা রোপণ, আধুনিক রিয়ারিং হাউস তৈরি মাধ্যমে বাজার নিশ্চিত করা হয়েছে।মালদা ডিস্ট্রিক্ট সিল্ক ইয়ার্ন প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন তথা মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের জেলা সভাপতি উজ্জ্বল সাহা জানান, “গত কয়েক বছরে মানের উন্নতি ও জিআই ট্যাগ পাওয়ায় মালদার নিস্তারি রেশমের চাহিদা দেশ-বিদেশে বেড়েছে। এবার যে দাম উঠেছে, তা চাষিদের অনেকটাই ক্ষতি পোষাতে সাহায্য করবে।” পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

জেলা প্রশাসন ও রেশম দপ্তরের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কোকুন মার্কেটগুলিতে স্বচ্ছ নিলাম ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ফলে চাষিরা এখন ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন। মালদার ঐতিহ্যবাহী নিস্তারি রেশম ভারতের মধ্যে জিআই ট্যাগ পাওয়া একমাত্র রেশম। এই স্বীকৃতি রেশমের ব্র্যান্ড মূল্য আরও বাড়িয়েছে। উজ্জ্বল সাহা আরো বলেন, সিল্কের মুঘল ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে পারলে, পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যার সমাধান হবে।জেলার মহিলারাও এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আর্থিক লাভবান এবং স্বাবলম্বী হতে পারবেন।চাষিরা বলছেন,আগের বছরগুলোতে দাম কম পেয়ে অনেকে রেশম চাষ ছেড়ে দিয়েছিলেন। এবার যা দাম উঠেছে, তাতে আবার নতুন করে গাছ লাগানোর উৎসাহ ফিরে এসেছে।”আগামী দিনে মালদার ঐতিহ্যবাহী রেশম শিল্পকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সরকার, প্রশাসন, সংগঠন ও চাষিদের একযোগে কাজ করতে হবে বলে মত সকলের। রেশম গুটির এই রেকর্ড দাম যেন কেবল শুরু, এমনটাই প্রত্যাশা মালদার ছয় দশক ধরে রেশমের সঙ্গে জড়িত পরিবারগুলির।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

শীতের মরশুমে কম খরচে গাঁদা ফুলের চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা

হাড়োয়াতে বিজেপি নেতাদের বিদ্যাধরী নদীতে ছুঁড়ে ফেলার হুংকার তৃণমূল নেতার

জরায়ুর অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে রোগিনীর মূত্রথলি কেটে ফেললেন চিকি‍ৎসক, আজব কাণ্ড ফালাকাটায়

গিন্নির সঙ্গে ঝগড়া, অভিমানে ফেসবুক লাইভেই আত্মহত্যা যুবকের

তৃণমূল কংগ্রেসকে শিক্ষা দেওয়াই উদ্দেশ্য, স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন ‘বিদ্রোহী’ হুমায়ুন

নদিয়া সফরে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী,কৃষ্ণনগরের কলেজ মাঠ পরিদর্শনে পুলিশকর্তারা

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ