ইংরেজরা দেশ ছাড়লেই বলি সাদা পাঁঠা, আজও অষ্টমীর দিন এই নিয়ম বজায় রয়েছে এখানে…

একশো বছর আগে ব্রিটিশদের দখলে ছিল ভারত। তখনই জন্ম হয়েছিল, অবিভক্ত ভারতের অবিভক্ত বাংলার বীরভূমের রামপুরহাট এলাকায় একটি অখ্যাত গ্রামের।

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: আর মাত্র কয়েকটা দিন, এরপরেই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গোৎসব। এই চারটে দিন ধরে বাঙালির আনন্দ যে চরম পর্যায়ে পৌঁছয় তা বলাই বাহুল্য। সারা বছরের দুঃখ, দুর্দশা সবটাই যেন নিমেষেই দূর হয়ে যায় এই চারটে দিন।মায়ের আগমনে সকলের মনে যেন উজ্জ্বল দ্যুতির সৃষ্টি করে। তবে দুর্গাপুজোকে ঘিরে আমাদের বাংলায় অনেক ইতিহাস রয়েছে। একশো বছর আগে ব্রিটিশদের দখলে ছিল ভারত। তখনই জন্ম হয়েছিল, অবিভক্ত ভারতের অবিভক্ত বাংলার বীরভূমের রামপুরহাট এলাকায় একটি অখ্যাত গ্রামের। যেটি এখন বীরভূমের একেবারে ঝাড়খণ্ড সীমানার গা ঘেঁষে অবস্থান করছে। সেখানেই প্রথম শুরু হয় দুর্গাপুজো। আর স্বাভাবিক ভাবেই সেই পুজো শুরুর পিছনে রয়েছে ব্রিটিশদের বিশাল অত্যাচারের ইতিহাস। ব্রিটিশদের সময়কালে মানত করা এখনও দুর্গা পুজোর সময় সাদা পাঠা বলি দেওয়া হয়।

গ্রামটির নাম সুলুঙ্গা গ্রাম। যেটি বর্তমানে অধুনা ঝাড়খণ্ড (Jharkhand) সীমানার গা ঘেঁষা বীরভূমের (Birbhum) রামপুরহাট (Rampurhat) ১ নম্বর ব্লকের অধীনে রয়েছে। গোড়া থেকেই এই গ্রামটিতে বাস আদিবাসী জনগোষ্ঠীর। 1930-এর দশকে গঠিত এই গ্রামটি পুরোপুরি চাষের উপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছিল। ১৯২৮ সালে প্রথম দুর্গাপুজো শুরু হয়েছিল সেই গ্রামের বাসিন্দা ব্রজ মুর্মুর হাত ধরে। আদিবাসী পদ্ধতিতেই তাঁরা এই পুজো করেছেন।

পুজোর ইতিহাস

কথিত রয়েছে, ব্রিটিশদের অত্যাচারেই এই পুজোর শুরু। একদিকে ব্রিটিশদের হাত ধরে সেখানে খ্রিষ্টধর্মের প্রচার, অন্যদিকে ওখানকার বাসিন্দাদের নিজস্ব নিয়ম। তাই নিজের গ্রামের গোষ্ঠীকে আরও পরস্পরের সঙ্গে বেঁধে রাখার চেষ্টা করতে থাকেন ব্রজ মুর্মু, দুর্গা মুর্মুরা। এক সময় ব্রিটিশদের অত্যাচার চরম পর্যায়ে পৌঁছলে, ওই জনগোষ্ঠী আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। সেই সময়ে ব্রিটিশরা নদীর বাঁধ ভেঙে দেয়। বৃষ্টি নির্ভর এই এলাকার পাশে রয়েছে একটি কাঁদর। ঝাড়খণ্ডের মানুষজন পাহাড়ের গুহা বা বড় কোনও গর্তকে কাঁদর বলেন। যেখানে বাঁধের মতো গিয়ে জল ধরে রাখা হয়। তেমনি ওই এলাকাতেও একটি কাঁদর ছিল, যার নাম ভুটকা কাঁদর। ভুটকা কাঁদরে একটি বাঁধ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন ব্রজ মুর্মু ও দুর্গা মুর্মু। সেই মতো ১৯২৫ সালে বাঁধ নির্মাণের আবেদন জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয় তৎকালীন সিউড়ি কালেক্টর অফিসে। কিন্তু বারবার আবেদন জানিয়েও ইংরেজদের সাড়া মেলেনি। শেষ পর্যন্ত এক প্রকার গায়ের জোরেই নুড়ি-পাথর এবং চুন-সুরকি দিয়ে বাঁধ তৈরি করেন তাঁরা। ঠিক সেই সময়েই তাঁরা তখন মা দুর্গার কাছে শপথ নিয়েছিলেন যে, যদি ভারত থেকে ব্রিটিশদের তাড়াতে পারেন তাহলে সাদা পাঁঠা বলি দেওয়া হবে। তখন থেকেই শুরু হয় দুর্গা পুজোর। তারপর থেকে এখনও মা দুর্গার পুজোর সময় ঠিক অষ্টমীর দিন সাদা পাঁঠা বলি দেওয়া হয় ওই গ্রামে। সুলুঙ্গা গ্রামে ১১৮টি পরিবারের মধ্যে অর্ধেক মানুষ খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী। এমনকি আদিবাসী রীতি মেনেই পুজো হয় এই গ্রামে। পুরোহিতও আদিবাসী। কলা বউ স্নানের রীতি নেই। পাথর খাদানের পরিত্যক্ত জলাশয়ে ঘট ভরে প্রতিষ্ঠা করা হয় মণ্ডপে। এরপরেই শুরু হয় পুজো পাঠ। একসময়ে অস্থায়ী ভাবে পুজো হলেও এখন গ্রামের মানুষদের প্রচেষ্টায় এখানে দেবী দুর্গার মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। সেখানেই পুজো হয়।

কালীপুজোর ভোগের মতো লাবড়ার স্বাদ পেতে চান বাড়িতেই? রইল সহজ রেসিপি

দীপাবলিতে মাংস কিনতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, বাবা-ছেলে-সহ মৃত ৩

অভাবের সংসার, টিনের চালেই ৩৫ বছর ধরে পূজিত হচ্ছেন ৬ দেবী, জানেন কোথায়?

দীপাবলিতে ভক্তদের উপহার দিলেন ভিকি ক্যাটরিনা, প্রকাশ্যে আনলেন ছেলে বিহানকে

রাস্তার ধারে কুলচা বিক্রি করতেন বাবা, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শতরান করে চমকে দিল ছেলে অর্জুন

‘বাজি ফাটালে অসুখ-বিসুখ চলে যায়’, মন্তব্য পাপিয়া অধিকারীর

পুড়ে ছাই হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তৈরি মণ্ডপ, অবশেষে পুজো হচ্ছে পাঁশকুড়ায়

মুর্শিদাবাদে চার বছরের শিশুকে নির্যাতন করে খুনের অভিযোগ, কাঠগড়ায় সৎ মা

‘দেশ থেকে মাওবাদীদের মুছে ফেলা হয়েছে,’ দীপাবলিতে ঘোষণা মোদির

তৃণমূলের আচরণের জন্য বিএসএফের কাছে ক্ষমা চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

সোমবার থেকে তিন দিন বদলাচ্ছে একাধিক ট্রেনের রুট! কেন এই সিদ্ধান্ত পূর্ব রেলের?

মায়ের সঙ্গে মিলে লিভ ইন পার্টনারকে খুন করল প্রেমিকা, চাঞ্চল্য গড়িয়ায়

রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপ থেকে ছিটকে গেলেন রজত পতিদার, সুযোগ পেলেন কে?

কালীঘাটে পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের FIR, গ্রেফতার ২