জানেন কী নৃসিংহকে প্রশমিত করেছিলেন স্বয়ং মহাদেব

Share:

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায়: দেবাদিদেব মহাদেব আদি, তিনিই অনন্ত। তিনি সকল দেব-দেবীর দেবতা। জানা যায়, শরভ (Sharabha, সংস্কৃত: शरभ) মহেশ্বর শিবের একটি অত্যন্ত বিচিত্র ও শক্তিশালী এক অবতার। শরভ হল হিন্দু ধর্মে একটি অষ্ট-পদ বিশিষ্ট আংশিক-সিংহ এবং আংশিক-পাখিরূপী পশু ও শরীরের সামান্য কিছুটা মানুষের মতো, যাকে ধর্মে বাঘ বা সিংহ বা হাতির চেয়েও বহুগুণ শক্তিশালী হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে। এই ভয়ঙ্কর রূপটি  দেবতা এবং অসুরদের মধ্যে সংঘাতের সময় সৃষ্টির রক্ষাকারী হিসাবে উপস্থাপিত হয়েছিল। সংস্কৃত সাহিত্য অনুযায়ী, এর এক লাফে যে কোনও উপত্যকা অতিক্রম করার ক্ষমতা রয়েছে।

শিবপুরাণে বর্ণিত রয়েছে, বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের দ্বারা উপাসিত বিষ্ণুর উগ্র মানব-সিংহ অবতার নৃসিংহকে শান্ত করার অভিপ্রায়ে দেবাদিদেব মহাদেব শরভের রূপ ধারণ করেছিলেন। এই রূপটি জনপ্রিয়ভাবে শরভেশ্বর (“ভগবান শরভ”) বা শরভেশ্বরমূর্তি নামে পরিচিত। শিবপুরাণ রচনার পরবর্তীকালে মহাভারতে শরভকে সিংহ-নিধনকারী দানব হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছিল, যাঁর আটটি পা, চোখ শীর্ষে; যিনি অরণ্যে বসবাস করেন ও কাঁচা মাংস ভক্ষণ করেন। পুরাণ অনুসারে, শরভ ছিলেন মহেশ্বরের চৌষট্টিটি অবতারের মধ্যে অন্যতম, যিনি স্বর্গীয় দেবতা ও মানবজাতিকে রক্ষা করার জন্য আবির্ভুত হয়েছিলেন।

শিবপুরাণে উল্লিখিত কাহিনী অনুসারে, কাশ্যপ মুনি ও দিতি পুত্র অতি পরাক্রমশালী রাক্ষস রাজা হিরণ্যকশিপু’কে বধ করার পর নৃসিংহ রূপী বিষ্ণুর ক্রোধ বিশ্বকে হুমকির মুখে ফেলেছিল। তখন সমগ্র দেবকুল ভয়ে তটস্ত হয়ে দেবাদিদেবের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। দেবতাদের আদেশে দেবাদিদেব বীরভদ্রকে পাঠিয়েছিলেন নৃসিংহের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে। তখন বীরভদ্র নৃসিংহকে সামলাতে অপারগ হলে স্বয়ং শিব শরভ রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন। শিবপুরাণ এবং অন্যান্য কিছু পুরাণে শরভ নৃসিংহকে আক্রমণ করে তাঁকে অচল করার উল্লেখ আছে। এইভাবে তিনি নৃসিংহের ভয়ঙ্কর ক্রোধ প্রশমিত করেছিলেন। এটাও বলা হয়ে থাকে যে, শরভ নাকি তখন নৃসিংহের শিরশ্ছেদ করেছিলেন এবং চামড়া ছাড়িয়েছিলেন, যাতে মহাদেব তা পোশাক হিসেবে এবং সিংহ-মস্তক অলংকার হিসেবে পরতে পারেন। এছাড়া লিঙ্গ পুরাণ এবং শরভ উপনিষদেও নৃসিংহের অঙ্গচ্ছেদ ও হত্যার উল্লেখ রয়েছে। অঙ্গচ্ছেদের পর বিষ্ণু তার স্বাভাবিক রূপ ধারণ করেন এবং শিবের যথাযথ প্রশংসা করার পর নিজ বৈকুন্ঠে বিশ্রাম গ্রহণ করেন। এখান থেকেই শিব “শরভেশ্বরমূর্তি” বা “সিংহজ্ঞামূর্তি” নামে পরিচিত হন।

শিব মহাপুরাণ, লিঙ্গপুরাণ, স্কন্ধপুরাণ ও ব্রহ্মাণ্ড পুরাণে শরভেশ্বর অবতারের বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। শ্রী ললিতা সহস্রনামার উত্তরভাগে, শ্রী শরভেশ্বর অবতারের একটি বিশেষ বৈদিক মন্ত্র পাওয়া যায় যা অথর্ব বেদে উল্লেখিত। এমনকি মহর্ষি বেদব্যাসও লিঙ্গপূরাণের ৯৬তম অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন যে, শ্রী শরভেশ্বর অবতারের আরাধনা করলে সবরকমের বিপদ আপদ থেকে কিভাবে রক্ষা পাওয়া যায়। বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনী থেকে জানা যায়, ভগবান নৃসিংহের ক্রোধ শান্ত করার পর দেবাদিদেব মহাদেব বলেছিলেন “অসুরদের দমন করতে ভগবান নৃসিংহ অবতার ধারন করে এসেছিলেন, এবং তাঁর ক্রোধকে শান্ত করতে আমি শরভেশ্বরের রূপ ধারন করেছি। কিন্তু এই দুই রূপের  কোন পার্থক্য নেই এবং এক হিসেবেই আরাধনা করতে হবে।”

প্রচলিত নিয়মানুসারে শ্রী শরভেশ্বর দেবের আরাধনা করার পূর্বে ভগবান নৃসিংহদেবের আরাধনা করতে হয়। দক্ষিণ ভারতে মহাদেবের শরভ রূপের আরাধনা বেশি হয়, এই আরাধনার সূচনা করেছিলেন স্বয়ং পিতামহ ব্রহ্মা। শরভ উপনিষদ থেকে জানা যায়, শরভ হিসাবে মহেশ্বরের অবতার পরমাত্মাকে বোঝায়। এই অবতার শরীর, মন ও জীবের সমস্ত দিককে একত্রিত করে।

কালীপুজোয় বারাসত-মধ্যমগ্রামে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, চার ঘণ্টা মণ্ডপে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি

গির্জার আদলে কালীপুজোর মণ্ডপ! রাজনৈতিক মহলে জোর বিতর্ক

হামজার সেঞ্চুরিতে কুপোকাত ভারত, ছোটদের এশিয়া কাপে ৩ উইকেটে জিতল পাকিস্তান

প্রেমিকাকে বিয়ের দাবিতে টাওয়ারে চড়ে বসল যুবক, শোরগোল নন্দীগ্রামে

বাজির শব্দে ভয় পাচ্ছে আপনার বাড়ির পোষ্য? শান্ত রাখুন এই ৬ উপায়ে

হীরের টিপ থেকে ১১০ কেজি সোনা-রুপোর গয়না! ১০৩ বছরে আরও জাঁকজমক নৈহাটির বড়মা

চন্দননগরে জগদ্ধাত্রী পুজোর ঢাকে কাঠি,একসঙ্গে আলপনা দিলেন ১২০০ জন

কালীপুজোর ভোগের মতো লাবড়ার স্বাদ পেতে চান বাড়িতেই? রইল সহজ রেসিপি

‘দেশ থেকে মাওবাদীদের মুছে ফেলা হয়েছে,’ দীপাবলিতে ঘোষণা মোদির

তৃণমূলের আচরণের জন্য বিএসএফের কাছে ক্ষমা চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

সোমবার থেকে তিন দিন বদলাচ্ছে একাধিক ট্রেনের রুট! কেন এই সিদ্ধান্ত পূর্ব রেলের?

দীপাবলিতে মাংস কিনতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, বাবা-ছেলে-সহ মৃত ৩

দীপাবলিতে ভক্তদের উপহার দিলেন ভিকি ক্যাটরিনা, প্রকাশ্যে আনলেন ছেলে বিহানকে

রাস্তার ধারে কুলচা বিক্রি করতেন বাবা, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শতরান করে চমকে দিল ছেলে অর্জুন