আর জি কর কাণ্ডে রাজ্য সরকারের পাশে দাঁড়িয়ে বিবৃতি WBCUPA-র

রাজ্যের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের সংগঠনটি আন্দোলনের নামে রাজ্য সরকারের ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করার প্রয়াসকে তীব্র নিন্দা করেছে।

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: আর জি কর কাণ্ডে(R G Kar Incident) সমাজমাধ্যমে প্রচুর ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এখনও বেশ সুপরিকল্পিত ভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সেই সব তথ্য তুলে ধরে আবার প্রকাশ্যে বাম ও বিজেপির নেতানেত্রীরা, কর্মীরা এবং সমর্থকেরা মূল তদন্তকে প্রভাবিত করার মতো নানান দাবি করে চলেছেন। একই সঙ্গে চলছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Mamata Banerjee) পদত্যাগের দাবিও। এই অবস্থায় রাজ্য সরকারের পাশে দাঁড়িয়ে বাম-বিজেপিকে নিশানা বানালো West Bengal College & University Professor’s Association বা WBCUPA। এদিন অর্থাৎ সোমবার তাঁরা এক বিবৃতি প্রকাশ করে আর জি কর কাণ্ডকে ঘিরে আন্দোলনের নামে রাজ্য সরকারের ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করার প্রয়াসকে তীব্র নিন্দা করেছে এবং সমালোচনায় কার্যত বাম-বিজেপিকে(Left and BJP) তুলোধনা করেছে। মূলত রাজ্যের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের এই সংগঠনটি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আর জি কর কাণ্ডে রাজ্য সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে, সরকার বিপাকে পড়েছে, সরকার পড়ে যাবে, মুখ্যমন্ত্রী যে কোনওদিন যে কোনও মুহুর্তে পদত্যাগ করে দেবেন – এই সব প্রচারকে ভ্রান্ত ও ভুয়ো বলে জানিয়ে দিয়েছে।

আরও পড়ুন, অভিষেকের ডায়মন্ডহারবারে পুজোর আগেই Mother and Child Hub চালু হয়ে যাচ্ছে

কী বলা হয়েছে WBCUPA’র বিবৃতিতে? বলা হয়েছে, ‘অনেকেরই মনে হচ্ছে, এই আর জি কর কাণ্ডে রাজ্য সরকার তথা তৃণমূল বিপাকে পড়েছে। এই ধারণা ছড়ানো হচ্ছে। জনমানসে, মধ্যবিত্তের মাঝে তৃণমূল বিশ্বাস হারিয়েছে। এসব কথা ছড়ানো হচ্ছে। আমাদের মনে হয়, আমাদের শহরকেন্দ্রিক, সমাজমাধ্যম সর্বস্ব, উনিশ শতকীয় ভুয়ো ভাঁওতা রেনেসাঁ বিশ্বাসী মনের প্রতিফলন এটি। আমাদের ব্যক্তিগত ধারণার ফসল। মাটি বিচ্যুত সম্পূর্ণ ভারচুয়াল একটি ভাবনা। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিকভাবে পর্যুদস্ত কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষের মৃত্যু নিয়ে কাঙালপনা আর হাহাকার! যারা সবাই অলস জীবনে, দেরিদার ভাষায় ইভেন্ট খুঁজি বেড়ায় তাদের বেহায়াপনা। গালভরা কথায় resonate করেছে, তাই রাস্তায় এইসব বলেন। আসলে এটাকে মনস্তত্ত্বের ভাষায় fad বলে। বিনিময়ে তাঁদের রুজি হয় হয়তো। কিন্তু জীবনদায়ী বস্তুর কোনও বিনিময় মূল্য হয় না। যাদের শহরে কাজের লোক আছে, মাস মাইনের নিশ্চিত জীবন আছে, এই ভয়ংকরতম মানবতা বিরোধী ঘটনা নিয়ে তাঁরা মিডিয়ার সঙ্গে নিয়ে বিলাসিতা দেখাতে পারেন। মনে মনে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করেন, ড্রয়িং রুমে নিজেদের হোমে বসে বড় বড় হোম হয়ে উঠছেন। আসলে ওটা অবদমিত যৌনতা এবং পাশবিক আনন্দ। বাস্তব কিন্তু অন্য কথা বলছে।’

আরও পড়ুন, রোগীর পরিজনদের হয়রানি কমাতে অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া বেঁধে দিল রাজ্য

এদিনের বিবৃতিতে ১৪ আগস্ট মধ্যরাতে আর জি করে হামলার ঘটনারও তীব্র নিন্দা করা হয়েছে ওয়েবকুপার তরফে। বলা হয়েছে, ‘ঘটনার পরে স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে একটি আড়াল থেকে সংগঠিত মুখোশধারী ‘মাকু’ কিছু স্বতঃস্ফূর্ত মানুষকে ভিড়ে ঠেলে নিজেদের ফায়দা লোটার চেষ্টা করেছিলেন মধ্যরাতে। তারপর থেকে পুরোটা রাজনৈতিক খেলা। রামেরা ঘাবড়ে আছে বামেরা বুঝি বেশি স্কোর করলো, আবার মাকুরা ভাবছে শূন্যের মহিমা কীর্তন করতে গিয়ে আমরা পিছিয়ে পড়লাম না তো? এর ফলে একটা অসুস্থ প্রতিযোগিতার আমদানি হয়েছে, আর যার শিকার প্রতিদিন আমজনতা অফিস যাওয়া কিংবা ফেরা, বিশেষত ফেরার সময় হচ্ছেন, যাঁদের বাসে, ট্রেনে যাতায়াত একটু কান পাতলেই শুনতে পাবেন। এখন এই ফেসবুকীয়, হোয়াটসঅ্যাপি মানুষজন একটু জেগে উঠেছেন, বিংশ শতাব্দীর শুরুতে আমাদের বাংলায় যে স্বদেশী আন্দোলনের হুজুগ উঠেছিল, ঠিক ওই একই রকম কায়দায়, মিছিল আয়োজন করছেন। মিছিলে যোগ দিতে হয়, না হলে পিছিয়ে পড়তে হয়, তার ডিপি দিতে হয়, স্ট্যাটাস দিতে হয়, ডিপিতে কখনও প্রতিবাদী আলো মোমবাতি আবার কখনও আলো নিভে গেছে নিস্তেজ অন্ধকার দেখাতে হয়। রাস্তায় না বেরলে ঠিক ঠিক প্রতিবাদী হওয়া যায় না। আপনাকে ভারচুয়াল সমাজে একঘরে করে দেওয়া হবে। তার ভয় আছে। সবই ওই স্বদেশী সময়ের দৃশ্য, ছবি।’

আরও পড়ুন, ‘নবান্ন অভিযান বেআইনি’, জানিয়ে দিলেন মনোজ বর্মা

আর জি কর কান্ডের জেরে সোশ্যাল মিডিয়াতে রাজ্য সরকারের ‘লক্ষ্ণীর ভাণ্ডার’(Lakhir Bhandar) প্রকল্প নিয়েও তীব্র কটাক্ষ শুরু হয়েছিল। তা নিয়ে শাসকদলের অনেকেই তোপ দেগেছেন। অধ্যাপক সংগঠনের তরফে বলা হচ্ছে, ‘গ্রামবাংলার মেয়েরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সঙ্গে আছে। বাজার গরম করে লাভ নেই। জ্বালা আমরা বুঝি, ভোটের সময় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বাড়িয়ে দেব, আর হেরে গিয়ে মাস্টার স্ট্রোকের বিরোধিতা করব। এসব পুরোনো খেলা আর খেলবেন না। মানুষের পাশে যান, মানুষকে বুঝুন সঙ্গে থাকুন, তাতেই রাজনৈতিক স্কোর বাড়বে। খুনির কথা, হতভাগ্য মেয়েটির কথা না বলে কলকাতা তথা বাংলাকে হারিয়ে দেওয়ার, বদনাম করার চক্রান্ত ধরা পড়ে গিয়েছে। সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচে। চক্রান্ত করে সেই ব্যবস্থাকে অচল করলে গ্রাম শহরের সাধারণ মানুষ আপনাদের ছাড়বে না। এই ফেকু আন্দোলনের বিসর্জনের দিন ঘনিয়ে এসেছে। শুধু কয়েকটা দিনের অপেক্ষা।’

শ্রীরামপুরে ‘অত্যাচারিত’ তৃণমূল কাউন্সিরের বিরুদ্ধে পুরসভার গেটে বিক্ষোভ বাসিন্দাদের

মাছের ভেড়িতে লুটে বাধা, বসিরহাটে ১৫ বছরের পড়ুয়াকে এলোপাথাড়ি কোপ

‘আলবিদা সলিম কুমার’, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য মালায়ালি অভিনেতার

চুক্তি শেষ, মেট্রোপলিটনের ‘তৃণমূল ভবন’ খালি না হওয়ায় পুলিশের দ্বারস্থ বাড়ির মালিক

কবে রাজনীতি ছাড়বেন জানিয়ে দিলেন পদকজয়ী কুস্তিগির বিনেশ ফোগাট

বেহালার রায় বাহাদুর রোডের পরিত্যক্ত জমি থেকে উদ্ধার কলকাতা পুরসভার লক্ষ লক্ষ বালতি

সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হলেন তামিম ইকবাল

দারিদ্র্যতা কাটিয়ে সুপারস্টার, প্রেম, বিতর্কিত বিবাহিত জীবন, তৈরি হচ্ছে পবন সিংহের বায়োপিক

শনিবার পর্যন্ত কত লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে গেল ৩ হাজার টাকা? জানালেন শুভেন্দু

কলকাতা সহ দক্ষিণের ৪ জেলাতে ধেয়ে আসছে প্রবল দুর্যোগ, জারি লাল সতর্কতা

যুদ্ধের দামামা, ভারত সীমান্তে আচমকা ৬০ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন তারেক সরকারের

তারাতলায় গাছ ভেঙে পড়ায় যান চলাচল ব্যাহত, উদ্ধার কাজে পুলিশ ও পুরকর্মীরা

কারও ‘ছত্রছায়ায়’ থাকব না, নাম না করে গম্ভীরকে খোঁচা অধিনায়ক শ্রেয়সের

বিজেপি কর্মীদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি, গ্রেফতার তৃণমূল নেতা