চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

মমতার ওপর গরিব মানুষের আস্থা ও ভরসা আরও দৃঢ় হয়েছে, চিন্তায় বিজেপি

Courtesy - Google

নিজস্ব প্রতিনিধি: জুনিয়র ডাক্তাররা কর্মবিরতি(Junior Doctors Strike) তুলে নেওয়ায় বিজেপি(BJP) নেতৃত্ব বেজায় ক্ষুব্ধ। কেননা, তাঁদের এই আন্দোলনের নিট প্রাপ্তি শূন্য। আর জি কর কাণ্ডের(R G Kar Incident) প্রেক্ষাপটে বঙ্গ বিজেপি বুকে পেয়েছিল হাতির বল। কর্মবিরতি প্রত্যাহারের শর্তের তালিকা ক্রমশ লম্বা হওয়ায় অনেকেই চিকিৎসকদের আন্দোলনের পিছনে ‘রাজনীতি’র গন্ধ পেয়েছিলেন। সাধারণ মানুষের সেই বোধ থেকেই বিজেপিও বুঝতে পারে গণআন্দোলন(Mass Movement) থেকে রাজনৈতিক ফায়দা তাঁরা ঘরে তুলতে পারবে না। আর জি কর কাণ্ডের জেরে রাজ্য রাজনীতিতে যে সমীকরণ বদলে গিয়েছে সেটাই এখন বঙ্গ বিজেপিকে ভাবিয়ে তুলেছে। সব থেকে বড় কথা বিজেপি এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে, আর জি কর কাণ্ডকে ঘিরে জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতির ঘটনা আদতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Mamata Banerjee) ওপর গরিব মানুষের আস্থা ও ভরসা আরও দৃঢ় করে দিয়েছে। তাঁরা বুঝে গিয়েছেন, তাঁদের জন্য মমতা ছাড়া আর কেউ নেই।

আরও পড়ুন, গজলডোবার টাকিমারিতে বাঁধ ভাঙল তিস্তার, পরিদর্শনে সেচ দফতরের আধিকারিকেরা

চলতি বছরের লোকসভা নির্বাচনের আগে, বিজেপির শ্লোগান ছিল, ‘আবকে বার ৪০০ পার’। কিন্তু দেশের জনগন তাঁদের ২৪০টি আসন দিয়েই থামিয়ে দিয়েছে। গতবারের থেকে ৬০টিরও বেশি আসন কমে গিয়েছে বিজেপির। দেশে এখন আর বিজেপির একক শক্তির সরকার নেই। জোড়াতাপ্পি দিয়ে একটা সরকার চালাতে হচ্ছে কেন্দ্রে। ধাক্কা এসেছে বাংলাতেও। ১৮ কমে হয়েছে ১২। সেই ধাক্কার পরে আর জি কর কাণ্ড ঘিরে বিজেপি চেয়েছিল বাংলার সরকারকে ফেলে দিতে। পারেনি, সেটা শুধুমাত্র মমতার জন্য। ধীর, স্থির, শান্তভাবে, বার বার ডাক্তারদের বার্তা দিয়ে গিয়েছেন মমতা। কর্মবিরতি তুলে নেওয়ার জন্য। ডাক্তারদের কর্মবিরতির জেরে রাজ্যের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল তাতে প্রচণ্ড দুর্ভোগের শিকার হয়েছে গরিব মানুষ। অনেকে চিকিৎসা না পেয়ে মারা গিয়েছেন। সেই অবস্থায় চিকিৎসকদের আন্দোলনকে মুখ্যমন্ত্রী সমর্থন করেও স্বাস্থ্য পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার সবরকম চেষ্টা চালিয়ে ছিলেন। অপমান সহ্য করেও সমাধানসূত্র বের করার চেষ্টা করেছেন এবং পেরেছেন। তাতে হয়তো ‘মমতা হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়’ স্লোগান ওঠেনি, কিন্তু তাঁকে ঘিরে গরিব মানুষের আস্থা ও ভরসা আরও দৃঢ় হয়েছে। এটাই বিজেপিকে সব থেকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছে।

আরও পড়ুন, Online-এ খাজনা জমা দেওয়া হল আরও সহজ, মোবাইলে আসবে OTP

গণআন্দোলনের পোস্টমর্টেম করতে গিয়ে বিজেপি নেতারা বুঝেছেন, চিকিৎসকদের মূল ক্ষোভটা ‘সিস্টেমে’র বিরুদ্ধে। তাঁরা সিস্টেমের বদল চেয়েছেন, সরকারের নয়। আর দাবি পূরণের জন্য তাঁরা বারবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেই বৈঠক করতে চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাননি। এমনকী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদক্ষেপেই তাঁরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছেন। বিজেপির কোনও নেতাই সেই জুনিয়ার ডাক্তারদের কাছে হিরো হয়ে যাননি। বরঞ্চ কর্মবিরতির শেষ দিকে আন্দোলন ‘হাইজ্যাক’ করতে গিয়ে বিজেপি নেতানেত্রীরা রীতিমতো ‘ঘাড়ধাক্কা’ খেয়েছেন, ‘গো ব্যাক’ স্লোগানও শুনেছেন। আর এই আন্দোলনের জেরেই এখন বাংলার রাজনীতির সমীকরণ গিয়েছে আমূল বদলে। অনেকে মনে করছেন, রাজনীতির সমীকরণ বদলে যাওয়ার সম্ভাবনাই বঙ্গ বিজেপির মুখে ছাই ঢেলে দিয়েছে। এখন বাম কর্মী সমর্থকরা অনেকটাই উজ্জীবিত। বিজেপির ভয়টা সেখানেই। যে তৃণমূল বিরোধী ভোট এসেছিল বিজেপির ঝুলিতে, সেটা না এবার বামেদের ঘরে ফেরত চলে যায়। গণআন্দোলনের প্রভাবে রামে যাওয়া ভোট বামে ফিরলেই বিজেপির বিপদ। যদিও তাতে আখেরে লাভ হবে তৃণমূলের। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই আন্দোলনে সরকার সমালোচিত হলেও ভোটের অঙ্কে শাসক দলের তেমন কোনও ক্ষতি হয়নি। নেপথ্যে সেই মমতাই। মানুষ আরও বেশি করে মমতার ওপর নির্ভরশীল হয়েছেন। তা সে স্বাস্থ্যসাথীর জন্য হোক কী লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জন্য।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

তৃণমূলের হয়ে কাজের অভিযোগ! পাঁচ বিএলওকে সাসপেন্ড ও এফআইআরের নির্দেশ কমিশনের

ভোটের মুখেই বিধাননগরের সিপি বদল কমিশনের, সরানো হল মুরলীধরকে

ভোটের মাঝে আচমকাই অভিষেককে ফোন রাহুলের!

ভোটের পরই মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল, জানা যাবে মোবাইল অ্যাপেও

নির্বাচনের আগে উত্তরে দুর্যোগ বাড়লেও দক্ষিণে তাপমাত্রা পৌঁছবে ৪০ ডিগ্রির ঘরে

‘‌আমি আইনি পদক্ষেপ করব’‌, এজেন্সির অপব্যবহার নিয়ে সুর সপ্তমে মমতার

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ