আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

জানুন, আঙ্গুলের ছাপ থেকে অপরাধী শনাক্তকরণের প্রণেতার অজানা কাহিনী

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : আঙ্গুলের ছাপ থেকে অপরাধী শনাক্তকরণের প্রসঙ্গ উঠলেই স্বনামধন্য চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের “সোনার কেল্লা”-র কথা উঠে আসে। এই সিনেমায় হরিন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় তথা সবজান্তা সিধু জ্যাঠাকে ফেলুদা তথা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করতে দেখা গিয়েছিল “উইলিয়াম জেমস হার্শল কে ছিল?” কোনও বিলম্ব না করে ফেলুদা অনায়াসে সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন। সিধু জ্যাঠা  ফেলুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে যান।

কে এই স্যার উইলিয়াম জেমস হার্শেল (William James Herschel)? জানা যায় , উইলিয়াম জেমস হার্শেল দ্বিতীয় ব্যারোনেট, ছিলেন একজন প্রভাবশালী ব্রিটিশ আইসিএস (ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস) কর্মকর্তা, যিনি মূলত অপরাধ তদন্ত এবং ব্যক্তি শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে আধুনিক পদ্ধতির সূচনা করেছিলেন। তাঁর জন্ম ১৮৩৩ সালের ৯ জানুয়ারি এবং মৃত্যু ১৯১৭ সালের ২৪ অক্টোবর। তিনি ছিলেন সেই যুগের অগ্রদূত, যিনি প্রথম ইউরোপীয় হিসেবে হাতে কলমে আঙুলের ছাপ ব্যবহারের বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব উপলব্ধি করেন এবং সরকারি কাজে এর বাস্তব প্রয়োগ ঘটান।

হার্শেল ১৮৫০ সালে ব্রিটিশ প্রশাসনের অধীনে একজন আইসিএস অফিসার হিসেবে বাংলায় (তৎকালীন ব্রিটিশ ভারত) যোগ দিয়েছিলেন। তাঁর কর্মস্থল ছিল মূলত নদিয়া জেলা এবং পরে হুগলি অঞ্চলে। বিভিন্ন নথি থেকে জানা যায়, তিনি প্রথমে বাংলার মালদহে অ্যাসিস্টান্ট কালেক্টর অ্যান্ড ম্যাজিস্ট্রেট পদে এবং পরে ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসে মনোনীত হয়ে মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গিপুর মহকুমায় আসেন। তৎকালীন সময়ে দরপত্র, চুক্তিপত্র বা সরকারি নথিতে সাধারণত সাক্ষর বা কোনো প্রতীক ব্যবহার করা হতো, যাতে জালিয়াতির আশঙ্কা ছিল। হার্শেল লক্ষ্য করেছিলেন, দরিদ্র বা অশিক্ষিত জনগণ নিজেদের নাম লিখতে না পারায় অনেক সময় জালচুক্তির ঘটনা ঘটত।

এই সমস্যার সমাধানে তিনি প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলকভাবে আঙুলের ছাপ ব্যবহার শুরু করেন। ১৮৫৮ সালে বাংলার হুগলি জেলার কোনও এক চুক্তিপত্রে প্রথম তিনি একজন স্থানীয় ঠিকাদার রাজ্যধর কোনাইয়ের হাতের ছাপ নেন। উদ্দেশ্য ছিল – চুক্তি অস্বীকারের সুযোগ কমানো এবং শনাক্তকরণ নিশ্চিত করা। তিনি লক্ষ্য করেন, প্রতিটি মানুষের আঙুলের ছাপ ভিন্ন এবং সারা জীবনে অপরিবর্তিত থাকে। এখান থেকেই শুরু হয় অপরাধী শনাক্তকরণের ইতিহাসের নতুন অধ্যায়।

হার্শেল এই পদ্ধতিটিকে শুধুমাত্র চুক্তির প্রমাণ হিসেবে নয়, অপরাধী শনাক্তকরণ এবং নথিপত্রে ব্যক্তির নিশ্চিত পরিচয় নির্ধারণের মাধ্যম হিসেবে গুরুত্ব দেন। যদিও সে সময় ব্রিটিশ প্রশাসন থেকে এই পদ্ধতির কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছিল না, তিনি তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগেই আঙুলের ছাপ সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ চালিয়ে যান। নিজের জীবনের বিভিন্ন সময়ে নিজস্ব আঙুলের ছাপ নথিভুক্ত রেখে তিনি প্রমাণ করেন, এটি জীবনের সঙ্গে অপরিবর্তনীয়ভাবে যুক্ত।

এই পদ্ধতির কার্যকারিতা এতটাই প্রমাণিত হয় যে, পরবর্তীতে আঙুলের ছাপ অপরাধ তদন্তে এবং নথিভুক্ত শনাক্তকরণে একটি বৈজ্ঞানিক ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃতি পায়। পরবর্তীতে স্যার ফ্রান্সিস গ্যালটন এবং স্যার এডওয়ার্ড হেনরি এই পদ্ধতির ভিত্তিতে আধুনিক ‘ফিঙ্গারপ্রিন্ট সিস্টেম’ গড়ে তোলেন, যার মূল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন হার্শেল।

স্যার উইলিয়াম জেমস হার্শেল, তাঁর উদ্যোগ, পর্যবেক্ষণ ও দূরদর্শিতার মাধ্যমে মানব ইতিহাসে অপরাধী শনাক্তকরণ এবং ন্যায়বিচারের জগতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলেন। আঙুলের ছাপ প্রযুক্তি আজ বৈশ্বিকভাবে ব্যবহৃত একটি মানদণ্ড, এক ব্রিটিশ প্রশাসকের দূরদর্শী চিন্তার মাধ্যমে বাংলার মাটি থেকেই যার সূচনা হয়েছিল। ১৮৮০ সালে ইংল্যান্ডের নেচার পত্রিকায় হার্শেলের একটি চিঠি প্রকাশিত হয়েছিল, যে চিঠি থেকে হাতের ছাপ থেকে অপরাধী শনাক্তকরণের উপায়টি প্রথম জানা যায়।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

বেহুলা লখিন্দরের কাহিনী বিজড়িত পুরাতন মালদার দেবকুন্ডকে ঘিরে গন্ধেশ্বরী মাতার পুজো

আমেরিকায় পড়তে গিয়ে খুন, বাংলাদেশি ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করল ফ্লোরিডা পুলিশ

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে আমেরিকার ক্ষতি ২৪ হাজার কোটি টাকা, দাবি মার্কিন থিঙ্কট্যাঙ্কের

উজ্জয়নের মহাকাল মন্দির চত্বর খুঁড়তেই মিলল একবিংশ শতাব্দীর বিশাল শিবলিঙ্গ

মদ্যপান করে বিধানসভায়? মুখ্যমন্ত্রীর ‘কীর্তি’ নিয়ে ব্যাপক শোরগোল, দেখুন ভিডিও

শপিং মলে ঢুকে মহিলাদের অন্তর্বাস নিয়ে যা করলেন পুলিশ কর্মী.., গা ঘিন ঘিন করে উঠবে

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ