গ্রাম থেকে প্রথম মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী! সুমিলাকে ঘিরে স্বপ্ন দেখছে ময়নাগুড়ির বুধুরাম বনবস্তির বাসিন্দারা

২০১১ সালের রিপোর্ট বলছে, জলপাইগুড়ি জেলার সাক্ষরতার হার ৭৩.২৫ শতাংশ। তার মধ্যে মহিলাদের সাক্ষাতের হার ৬৫.৭৮ এবং পুরুষদের হার ৮০.৫৭ শতাংশ।

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: গ্রামের মধ্যে প্রথম মাধ্যমিক দিতে চলেছেন জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ি ব্লকের বুধুরাম বনবস্তির বাসিন্দা সুমিলা। বাড়ির পাশেই গুরুমারা জঙ্গল। স্কুল যাওয়ার পথে প্রায় প্রতিদিনই বন্যজন্তুদের মুখোমুখি হতে হয় এই গ্রামের বাসিন্দাদের। সেই ৭ কিলোমিটার পার করা একটা জীবনযুদ্ধই বটে! সেই গ্রামের মেয়ে হয়ে এবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে চলেছে সুমিলা। যাঁকে ঘিরে গ্রামবাসীদের গর্বের শেষ নেই। কারণ সুমিলাই এই গ্রামের প্রথম মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। কিন্তু চোখভরা তাঁর স্বপ্ন, গ্রামবাসীদের জন্যে কিছু করার। সুতরাং কাঁধে তাঁর গুরু দায়িত্ব। মুলত জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ি ব্লকের বুধুরাম বনবস্তি গ্রামের কোনও বাসিন্দা এখনও পর্যন্ত মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোতে পারেননি। এমনকী দশম শ্রেণী পর্যন্ত পৌঁছতেও পারেনি অনেকে। তাঁদের পেশা মূলত কৃষিকাজ। তা ছাড়া চা বাগানের শ্রমিক হিসেবেও কাজ করেন অনেকে। এবার সেই গ্রামের মেয়ে হয়েই ইতিহাস সৃষ্টি করতে চলেছে সুমিলা। এ বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসবে সে।

২০১১ সালের রিপোর্ট বলছে, জলপাইগুড়ি জেলার সাক্ষরতার হার ৭৩.২৫ শতাংশ। তার মধ্যে মহিলাদের সাক্ষাতের হার ৬৫.৭৮ এবং পুরুষদের হার ৮০.৫৭ শতাংশ। আসলে জঙ্গলঘেরা গ্রাম পেরিয়ে জ্ঞান আলোকে প্রবেশ করতে পারেনি এই গ্রামের বাসিন্দারা। তারপর স্কুলছুট আছে। আসলে ৭ কিলোমিটার গুরুমারা জঙ্গলের দুর্গম পথ পেরিয়ে বুধুরাম বনবস্তিতে পৌঁছতে হয় এই গ্রামের বাসিন্দাদের। দিনের বেলাতেই সেখানে ঢুকতে গা ছমছম করবে বাইরের কারও। পাশাপাশি রয়েছে বণ্যপ্রাণীর আতঙ্ক। এমন প্রাকৃতিক পরিবেশ, সঙ্গে আর্থিক সঙ্কট, তাই এই গ্রামের কাছে পড়াশোনা মানে বিলাসিতা। ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই গ্রামের কেউই মাধ্যমিক পরীক্ষাতেই বসেনি। তাই সুমিলাকে ঘিরে গোটা গ্রামের উত্তেজনার শেষ নেই। সুমিলা পড়াশোনা করে পানবাড়ি ভবানী হাই স্কুলে। রাজ্য সরকারের দেওয়া সবুজসাথীর সাইকেল চেপে রোজ দুর্গম পথ পেরিয়ে স্কুলে যায় সে। সকালে স্কুল। তার পর টিউশন। ফিরতে ফিরতে বিকেল হয়ে যায়।

যাতায়াতের পথে বন্যপ্রাণীদের ভয় তাঁকে ঘিরে নিলেও এখন তাঁর কাছে এটা দুধ-ভাত। সুমিলার বাবা মঞ্চাল ওরাওঁ কাজের সূত্রে বাইরে থাকেন। মা রূপালি ওরাওঁ কৃষিকাজ করেন, আবার চা বাগানেও কাজ করেন। সাত জনের সংসার। অভাব তাঁদের নিত্যসঙ্গী। কিন্তু তাঁরা তাঁদের চার কন্যাসন্তানকেই শিক্ষিত করতে চান। অনেক দূর পড়াতে চান। তাই চার সন্তানের মধ্যে প্রথম মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে চলেছে সুমিলা। সে চায় নার্স হতে। না, বাইরে কোথাও নয়, তাঁর গ্রামের মানুষকে পরিষেবা দিতে চায় সে। তাই পড়াশোনা চালিয়ে যেতেই হবে তাঁকে। আর তাঁর মাধ্যমিক পরীক্ষা নিয়ে উত্তেজনার শেষ নেই গোটা গ্রামের। সুমিলা বাড়ি ফেরা না পর্যন্ত মা যেমন প্রহর গোনেন, তেমনই গ্রামের মেয়ের জন্য জেগে থাকে এলাকা৷ আগামী ২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। হাতে মাত্র ২ সপ্তাহ, তাই নিজেকে আবার ঝালিয়ে নিচ্ছে সুমিলা। এবার দেখা যাক, সুমিলারর স্বপ্ন কতদূর বাস্তবায়িত হয়।

চার সন্তানের বাবার প্রেমের ফাঁদে দুই সন্তানের মা, বিয়ের প্রতিশ্রুতির আড়ালে ভয়াবহ নির্যাতন

লখনউ-আগ্রা এক্সপ্রেসওয়েতে বাস উল্টে মৃত ৬, আহত ১৯

৩ জেলার উন্নয়ন নিয়ে কল্যাণীতে পর্যালোচনা বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী

আধুনিক ফিচার্স সহ Realme লঞ্চ করল শক্তিশালী স্মার্টফোন, জানুন দাম কত

আসছে আইফোন ১৮ প্রো, এবার বদলে যেতে পারে বহু পরিচিত ফিচার

RCB vs GT: বৃষ্টিতে কোয়ালিফায়ার ১ বাতিল হলে IPL ফাইনালে খেলবে কোন দল?

দক্ষিণবঙ্গের জেলায় জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা, কলকাতায় আবহাওয়া কেমন?

অবিশ্বাস্য ডিসকাউন্ট Samsung Ultra 5G ফোনে, ২৩ হাজারের বেশি ছাড়ে কেনার সুযোগ

ট্রাম্পের চাপেই জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের পদে ইস্তফা দিয়েছেন তুলসী গ্যাবার্ড!

কর্নাটকে মুখ্যমন্ত্রী বদল নিয়ে জোর জল্পনা, দিল্লি তলব সিদ্দারামাইয়া-শিবকুমারকে

বেঙ্গালুরু বনাম গুজরাতের ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে গেলে কারা ফাইনালে খেলবে?

শিগগিরই লঞ্চ হতে চলেছে Redmi Turbo 5, জেনে নিন ফিচার

অজান্তেই কিডনির ক্ষতি করছেন না তো? প্রতিদিনের এই ৬ অভ্যাস বদলান এখনই

শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনার মাঝেই ইরানে হামলা আমেরিকার, ফের যুদ্ধ শুরু?