এই মুহূর্তে

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর শিলিগুড়ি সফরে মানা হয়নি শিষ্টাচার! কেন্দ্র-রাজ্য ‘মহাযুদ্ধ’

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলার শাসক দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে উঠেছে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে ‘অপমান’ করার অভিযোগ। ভোটমুখী বাংলায় রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানস্থল নিয়ে শুরু হয়েছিল তুমুল বিতর্ক। যার জল গড়িয়েছে বহুদূর। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর শিলিগুড়ি সফরে মানা হয়নি শিষ্টাচার। এই অভিযোগই উথেছিল। সেই বিষয় নিয়ে ফের একবার সরব হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রবিবার দিল্লিতে একটি সরকারি অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে তৃণমূলকে তোপ দেগে বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকার কেবল দেশের রাষ্ট্রপতিকেই অপমান করেনি পাশাপাশি দেশের সংবিধানকেও অপমান করেছে। তার পরেই প্রধানমন্ত্রী তোপ দেগে বলেন, রাষ্ট্রপতিকে অপমান করার জন্য রাজ্যের মানুষ তৃণমূলকে কখনও ক্ষমা করবে না।

বাংলার শাসকদলকে নিশানা করে তোপ দেগে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এক জন মহিলা তথা আদিবাসী তথা দেশের রাষ্ট্রপতিকে অপমান করার জন্য পশ্চিমবঙ্গের বিচক্ষণ মানুষজন কখনও তৃণমূলকে ক্ষমা করবেন না। দেশও কখনও তাদের ক্ষমা করবে না।” সেই সঙ্গেই বাংলার শাসক দলের ‘ক্ষমতার ঔদ্ধত্যের’ প্রতিবাদে বঙ্গের মানুষকে সরব হওয়ার আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী।  এখনেই শেষ নয় এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টের মাধ্যমেও প্রতিবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি লেখেন রাষ্ট্রপতির ক্ষোভ গোটা দেশের মানুষকে দুঃখ দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ঘটনার কথা তুলে ধরে লিখেছেন, ” এটা লজ্জাজনক এবং নজিরবিহীন। গণতন্ত্র এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী সকলেই হতাশ” তিনি আরও বলেন, আদিবাসী সম্প্রদায় থেকে আসা রাষ্ট্রপতির বেদনা নাগরিকদের মনে গভীর দুঃখ দিয়েছে। পরিস্থিতির জন্য রাজ্য প্রশাসনকে দায়ী করে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন,  তৃণমূল  সরকার “সমস্ত সীমা অতিক্রম করেছে” এবং ঘটনাটিকে রাষ্ট্রপতির অপমান বলে  উল্লেখ করেছেন।  তিনি সাঁওতাল সংস্কৃতির বিষয়টি যেভাবে পরিচালনা করা হয়েছে তারও সমালোচনা করেছেন। বলেছেন যে এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে কখনই হালকাভাবে দেখা উচিত নয়। সাংবিধানিক মর্যাদার গুরুত্বের উপর জোর দিয়ে মোদি রও বলেন যে রাষ্ট্রপতির পদ রাজনীতির ঊর্ধ্বে এবং সর্বদা সম্মানিত হওয়া উচিত। 

আরও পড়ুন: চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে জমি অধিগ্রহণ,আদিবাসী পরিবারের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ

যদিও রাষ্ট্রপতির ‘অপমান’-বিতর্কে আয়োজক সংস্থাকেই দায়ী  করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  তিনি বলেছেন,  “আয়োজক সংস্থার খামতি। অথচ দোষারোপ করা হচ্ছে আমাদের। রাষ্ট্রপতির প্রোগ্রাম (কর্মসূচি) আমরা আয়োজন করিনি। রাজ্য সরকার চিঠি দিয়ে বলেছিল এই সংগঠনের এই কর্মসূচি আয়োজন করার ক্ষমতা নেই। তার পরেও রাষ্ট্রপতি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আসার। এটা তাঁর ব্যাপার।” এখনেই শেষ নয়  মুখ্যমন্ত্রী  এটাও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে,  শনিবার রাষ্ট্রপতির কর্মসূচিটি যে জায়গায় হয়, সেটি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (এয়ারপোর্ট অথোরিটি অফ ইন্ডিয়া)-এর অধীনে। 

প্রসঙ্গত, অনুষ্ঠানস্থল বদলের ঘটনায় বাংলায় এসে রাজ্য সরকারের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। অভিযোগ   অনুষ্ঠানের জন্য অনুমতি দেয়নি রাজ্য। বারবার জায়গা বদল হয়েছে। পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্বেও অনুমতি দেয়নি। পরে তিনি নিজেই চলে যান বিধাননগরে, যেখানে অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। সেখান থেকে মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে তোপ দেগে দ্রৌ মুর্মু বলেন, ‘‘সাধারণত রাষ্ট্রপতি এলে মুখ্যমন্ত্রীরও আসা উচিত। মন্ত্রীর থাকা উচিত। মমতা আমার ছোট বোনের মতো। জানি না, হয়তো কোনও কারণে আমার উপর রাগ করেছেন।’’ জায়গা নিয়ে   তিনি বলেন, ‘‘প্রশাসনের মনে কী চলছিল জানি না। আমি তো সহজে চলে এলাম। ওরা বলেছিল পর্যাপ্ত জায়গা (অনুষ্ঠান করার) নেই। এখানে এত বড় জায়গা আছে। তা-ও কেন হল না, জানি না। এখানে হলে আরও অনেক মানুষ আসতে পারতেন।” 

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

মদে প্রস্রাব মিশিয়ে মহিলাকে জোর করে খাওয়ানোর অভিযোগ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

‘এ কী লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণ’, ধর্নামঞ্চে রবীন্দ্রসঙ্গীতে গলা মেলালেন মমতা

‘আইন মেনেই নিরপেক্ষ ভোট হবে’, বৈঠকের পরে জানালেন জ্ঞানেশ কুমার

কারুরের জনসভায় পদপিষ্টের ঘটনায় ফের থালাপথি বিজয়কে তলব করল CBI

কয়েকশো মৃত্যু, এত অসুস্থতার দায় কার? প্রশ্ন তুললেন ফিরহাদ হাকিম

মমতার ধর্না মঞ্চের সামনে বিজেপির লিফলেট বিলি ঘিরে অশান্তি

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ