আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

মদে প্রস্রাব মিশিয়ে মহিলাকে জোর করে খাওয়ানোর অভিযোগ, হাসপাতালে মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি: বিহারের মধুবনী জেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক মহিলার উপর নৃশংস অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, গ্রামের প্রধানের বাড়িতে সাহায্য চাইতে গিয়েছিলেন ওই মহিলা। সেখানেই তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং অপমানজনকভাবে মদের সঙ্গে প্রস্রাব মিশিয়ে জোর করে খাওয়ানো হয়। ঘটনার কয়েকদিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনাটি ঘটেছে মধুবনী জেলার ঘোঘরডিহা থানার অন্তর্গত আমহি গ্রামে। পুলিশ ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মহিলাকে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে কয়েকজন মিলে মারধর করে। তিনি জল চাইলে তাঁকে মদের সঙ্গে প্রস্রাব মিশিয়ে পান করতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর গ্রামপ্রধান কুমারী দেবী এবং তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি। গত শনিবার মধুবনী পুলিশের পক্ষ থেকে সামাজিক মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত জানানো হলে বিষয়টি সামনে আসে।

আরও পড়ুন: বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা তোলার অভিযোগ, সাঁটানো হল পোস্টার

মধুবনীর ডিএসপি অমিত কুমার জানান, ২৫ ফেব্রুয়ারি পুলিশ আমহি গ্রামে এক মহিলার উপর হামলার খবর পায়। সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত মহিলাকে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পটনায় স্থানান্তর করা হয়।

ডিএসপি জানান, ১ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মহিলার মৃত্যু হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং সেই ভিত্তিতেই মামলা রুজু করা হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং প্রধান অভিযুক্ত মগনু সিংকে গ্রেফতার করে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।

স্থানীয়দের দাবি, জমি সংক্রান্ত বিরোধের সমাধান চেয়ে ওই মহিলা গ্রামপ্রধান কুমারী দেবীর বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখানে প্রথমে তর্কাতর্কি শুরু হয়, পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, গ্রামপ্রধান আরও কয়েকজনকে ডেকে এনে মহিলাকে মারধর করান। মৃতার স্বামী জানান, তাঁর স্ত্রী পঞ্চায়েতের সাহায্য চাইতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে তাঁকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। পরে পুলিশ এসে তাঁকে থানায় নিয়ে গেলেও পরে সকলকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

পরিবারের দাবি, প্রথমে তাঁকে ঘোঘরডিহার প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ফুলপাড়ার মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে আরও গুরুতর হওয়ায় তাঁকে দারভাঙ্গা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং সেখান থেকে শেষ পর্যন্ত পটনায় পাঠানো হয়। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বাঁশ দিয়ে মহিলাকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছিল এবং মারধরের জেরে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। স্থানীয় এক মহিলার অভিযোগ, মারধরের পর মদের সঙ্গে প্রস্রাব মিশিয়ে তাঁকে জোর করে পান করানো হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মানসুরি সম্প্রদায়ের রাজ্য সভাপতি অজয় মানসুরি। তিনি বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধ মেটাতে পঞ্চায়েতে বিষয়টি উঠেছিল। কিন্তু গ্রামপ্রধানের ছেলে মগনু সিং ওই মহিলার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে এবং পরে গ্রামপ্রধানের বাড়িতে গেলে তাঁকে মারধর ও অপমান করা হয় বলে অভিযোগ।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

বাড়ির শৌচালয় থেকে বিচারকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, ভয়ঙ্কর ঘটনা দিল্লিতে

ছত্তিশগড়ের কাঙ্কেরে মাইন নিস্ক্রিয় করতে গিয়ে বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন চার নিরাপত্তারক্ষী

১০০ বছরের পুরনো মহাকাল মন্দিরে,চারিদিকে সবুজের সমাহার,নেই শহরের কর্মব্যস্ততা

পর্যটকদের নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত লক্ষদ্বীপ প্রশাসনের, ঢুকতে প্রয়োজন হবে না পুলিশি ছাড়পত্রের

৭১ বছর বয়সে নেট দুনিয়ার হিরো বনগাঁর আবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, নেটিজেনদের মন জয় ‘গান দাদু’র

সমুদ্রে ডাইভ করার সময় খেলেন কচ্ছপের ‘থাপ্পড়’! ভাইরাল ভিডিও দেখে হেসে লুটোপুটি নেটনাগরিকরা

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ