Loading live market data...
Loading active stocks...
Connecting...

মলদ্বীপ না লাক্ষাদ্বীপ? খরচ কম কিন্তু সৌন্দর্যে টেক্কা দেবে ভারতের এই দ্বীপপুঞ্জ

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: একবার চোখ বন্ধ করে কল্পনা করুন চারপাশে শুধু নীল জল, পায়ের নিচে সাদা নরম বালি, দূরে দুলছে নারকেল গাছ, আর বাতাসে ভেসে আসছে লবণাক্ত সমুদ্রের গন্ধ। মনে হচ্ছে যেন মলদ্বীপের কোনও বিলাসবহুল দ্বীপে পৌঁছে গেছেন? কিন্তু না, এই স্বর্গ রয়েছে ভারতেরই বুকে -তার নাম লাক্ষাদ্বীপ।

অনেকেই বিদেশ ভ্রমণের কথা ভাবলেই প্রথমে মলদ্বীপের নাম মনে করেন। নীল লেগুন, জলের উপর ভাসমান কটেজ, স্নোরকেলিং, রোম্যান্টিক সূর্যাস্ত-সবকিছুই যেন স্বপ্নের মতো। কিন্তু খুব কম মানুষই জানেন, ভারতের আরব সাগরের মাঝখানে এমন এক দ্বীপপুঞ্জ রয়েছে, যা সৌন্দর্যে, শান্তিতে এবং প্রাকৃতিক জাদুতে মলদ্বীপের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে। বরং কিছু ক্ষেত্রে আরও বেশি আপন মনে হয়।

আরও পড়ুন: কল্পেশ্বর যাওয়ার প্ল্যান? কখন যাবেন, কীভাবে পৌঁছবেন রইল সব তথ্য

‘লাক্ষাদ্বীপ’ শব্দের অর্থ ‘এক লক্ষ দ্বীপ’। যদিও বাস্তবে এখানে রয়েছে ৩৬টি ছোট-বড় দ্বীপ, যার মধ্যে মাত্র কয়েকটি পর্যটকদের জন্য খোলা। এই সীমিত প্রবেশের কারণেই জায়গাটি আজও প্রায় অক্ষত, নিরিবিলি এবং প্রকৃতির আসল রূপ ধরে রাখতে পেরেছে। ভারতের সবচেয়ে ছোট কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হলেও সৌন্দর্যের দিক থেকে লাক্ষাদ্বীপের গুরুত্ব অসীম। এখানকার জল এতটাই স্বচ্ছ যে নৌকার উপর দাঁড়িয়ে নিচে মাছ সাঁতার কাটতে দেখা যায়। কখনও মনে হবে সমুদ্র যেন কাঁচের তৈরি।

মলদ্বীপে যেতে পাসপোর্ট, আন্তর্জাতিক টিকিট, বেশি খরচ-সবকিছুর প্রয়োজন হয়। কিন্তু লাক্ষাদ্বীপে যেতে এসব ঝামেলা নেই। ভারতীয় নাগরিকদের জন্য এটি অনেক সহজ এবং তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী। লাক্ষাদ্বীপে পৌঁছে প্রথম যে জিনিসটি আপনার মন জয় করবে, তা হলো জলের রঙ। ফিরোজা নীল, হালকা সবুজ আর গভীর সমুদ্রের নীল-সব মিলিয়ে যেন প্রকৃতি নিজের হাতে রঙ মিশিয়ে তৈরি করেছে এক অনন্য ক্যানভাস। মলদ্বীপে যেমন বিলাসবহুল রিসোের্ট ও আন্তর্জাতিক পর্যটকের ভিড় দেখা যায়, লাক্ষাদ্বীপ ঠিক তার উল্টো। এখানে ভিড় কম, শব্দ কম, কোলাহল কম। আপনি চাইলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সৈকতে বসে শুধু ঢেউয়ের শব্দ শুনতে পারবেন।

প্রতিটি জায়গায় আলাদা আলাদা দ্বীপের সৌন্দর্য। চোখ ফিরিয়ে আনা খুব কঠিন। যেমন-

বাঙ্গারাম দ্বীপ – বাঙ্গারামকে অনেকে বলেন ‘লাক্ষাদ্বীপের রত্ন’। এখানে সূর্যাস্ত যেন সিনেমার দৃশ্য। নরম বালির সৈকত, শান্ত জল আর একান্ত পরিবেশ এটিকে হানিমুন বা নিঃসঙ্গ বিশ্রামের জন্য আদর্শ জায়গা বানিয়েছে।

আগাত্তি দ্বীপ – লাক্ষাদ্বীপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান দ্বার হলো আগাত্তি দ্বীপ। এখানকার রানওয়ে পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর বলে ধরা হয়। বিমান নামার সময় দু’পাশে সমুদ্রের নীল জল দেখে মনে হয় যেন আপনি আকাশ আর জলের মাঝখানে ভেসে আছেন।

কাদমাত – যদি আপনি স্কুবা ডাইভিং বা স্নোরকেলিং ভালোবাসেন, তাহলে কাদমাত আপনার জন্য। রঙিন প্রবাল, ছোট ছোট মাছ, সামুদ্রিক কচ্ছপ-সব মিলিয়ে এখানে সমুদ্রের নিচে যেন আরেকটি পৃথিবী। 

কেন প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য স্বর্গ?
লাক্ষাদ্বীপের প্রবাল প্রাচীর ভারতের মধ্যে অন্যতম সেরা সংরক্ষিত সামুদ্রিক অঞ্চল। এখানে স্নোরকেলিং করলে দেখা মিলতে পারে রঙিন মাছ, প্রবাল, অক্টোপাস, কচ্ছপ এমনকি কখনও ডলফিনও। মলদ্বীপের মতো এখানেও রয়েছে লেগুন, জলের উপর নৌকা ভ্রমণ এবং নীল সমুদ্রের অবিশ্বাস্য দৃশ্য। তবে পার্থক্য হলো-এখানে প্রকৃতি এখনও অনেকটাই অক্ষত। লাক্ষাদ্বীপের সংস্কৃতি কেরালার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। এখানকার মানুষ মালয়ালম ভাষায় কথা বলেন, খাবারে নারকেলের প্রভাব স্পষ্ট, আর অতিথি আপ্যায়নে রয়েছে এক বিশেষ আন্তরিকতা। আপনি এখানে পাবেন টাটকা সামুদ্রিক খাবার, নারকেল-ভিত্তিক রান্না এবং ঘরোয়া স্বাদের পদ। ফলে ভারতীয় পর্যটকদের জন্য জায়গাটি একদিকে নতুন, অন্যদিকে পরিচিতও মনে হয়।

লাক্ষাদ্বীপে ভ্রমণের আরেকটি আকর্ষণ হতে চলেছে ভারতের প্রথম বাণিজ্যিক সি-প্লেন পরিষেবা। নতুন উদ্যোগের ফলে দ্বীপগুলোর মধ্যে যাতায়াত আরও দ্রুত ও সহজ হবে। বিমানবন্দর সীমিত হওয়ায় এতদিন দ্বীপ থেকে দ্বীপে যেতে সময় লাগত। এখন সি-প্লেন সেই যাত্রাকে অনেক সহজ করে তুলতে পারে। এই পরিষেবা শুরু হলে পর্যটকদের জন্য লাক্ষাদ্বীপ আরও জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠবে। বিশেষ করে যারা কম সময়ে একাধিক দ্বীপ ঘুরতে চান, তাদের জন্য এটি হতে পারে দারুণ সুবিধা। সম্প্রতি পর্যটকদের জন্য অনুমতি প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে। আগে স্থানীয় পৃষ্ঠপোষকের প্রয়োজন হতো, এখন সেই বাধ্যবাধকতা অনেকটাই কমেছে। পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের ঝামেলাও সহজ হয়েছে। তবে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে-লাক্ষাদ্বীপে ভ্রমণের জন্য আগেভাগে পারমিট আবেদন করা জরুরি। কারণ, দ্বীপগুলোর পরিবেশ রক্ষার জন্য সীমিত সংখ্যক পর্যটককে অনুমতি দেওয়া হয়।

মলদ্বীপ না লাক্ষাদ্বীপ?
যদি আপনি কোলাহলমুক্ত, প্রকৃতির কাছাকাছি, শান্ত এবং তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী দ্বীপ ভ্রমণ চান, তাহলে লাক্ষাদ্বীপ আপনার জন্য আদর্শ। মলদ্বীপ হয়তো আন্তর্জাতিক বিলাসিতার প্রতীক, কিন্তু লাক্ষাদ্বীপের সৌন্দর্য অনেক বেশি আন্তরিক। এখানে সমুদ্র শুধু দেখার জন্য নয়, অনুভব করার জন্য। এখানে সূর্যাস্ত শুধু ছবি তোলার বিষয় নয়, বরং নিজের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ।

লাক্ষাদ্বীপ শুধু একটি ভ্রমণ গন্তব্য নয়, এটি এক অনুভূতি। এমন এক জায়গা, যেখানে সময় ধীরে চলে, মন শান্ত হয় এবং প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে গড়ে ওঠে। পরের বার যদি দ্বীপ ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, বিদেশের দিকে তাকানোর আগে একবার লাক্ষাদ্বীপকে ভাবুন। হয়তো বুঝতে পারবেন-স্বর্গ সবসময় দূরে থাকে না, কখনও কখনও তা আমাদের নিজেদের দেশেই লুকিয়ে থাকে। মলদ্বীপের নীল জল আর বিলাসবহুল রিসর্টের স্বপ্ন অনেকেরই থাকে। তবে তুলনামূলকভাবে অনেক কম খরচে ভারতের লাক্ষাদ্বীপ ঘুরে একই রকম সমুদ্রসৈকতের অভিজ্ঞতা উপভোেগ করা সম্ভব। সঠিক পরিকল্পনা থাকলে এই দ্বীপপুঞ্জে ভ্রমণ হতে পারে যেমন মনোরম, তেমনই বাজেটবান্ধব।

এক মাস আগে থেকে বিমানের টিকিট বুক করলে লাক্ষাদ্বীপ যাওয়া-আসার ভাড়া মাথাপিছু সাধারণত ১২ হাজার টাকার সামান্য বেশি হয়। দ্বীপগুলির ছোট-বড় রিসর্টে থাকতে প্রতিদিন ২ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। বিলাসবহুল ভিলা বা প্রিমিয়াম রিসর্টে এই ব্যয় আরও বেশি। খাবারের জন্য মাথাপিছু দৈনিক প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা ধরা যেতে পারে। দর্শনীয় স্থান ঘোরা, নৌবিহার ও স্থানীয় পরিবহণ মিলিয়ে প্রতিদিন অতিরিক্ত ১,৫০০ থেকে ২,০০০ টাকা খরচ হতে পারে। সব মিলিয়ে এক দম্পতির দৈনিক গড় ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৭,০০০ থেকে ৭,৫০০ টাকা। তবে লাক্ষাদ্বীপ ভ্রমণের আগে প্রশাসনিক অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। অনলাইনে আবেদন করে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে হয়। অনুমতি পাওয়ার পরই হোটেল ও ফ্লাইট বুক করা উচিত। সাধারণত পর্যটকদের ৩০ দিনের বেশি থাকার অনুমতি দেওয়া হয় না। পর্যটকদের জন্য মূলত কাভারত্তি, আগত্তি, বাঙ্গারাম, কদমত ও মিনিকয় দ্বীপ উন্মুক্ত।

অন্যদিকে মলদ্বীপ ভ্রমণে বিমানভাড়াই ২৫ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। মাঝারি মানের রিসর্টে দৈনিক ৭,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা, খাবারে ১,০০০ থেকে ২,০০০ টাকা এবং অন্যান্য খরচ মিলিয়ে এক দম্পতির প্রতিদিন প্রায় ১৭,৫০০ থেকে ১৮,০০০ টাকা ব্যয় হতে পারে। ভারতীয়দের জন্য মলদ্বীপে ভিসা না লাগলেও মোট খরচ লাক্ষাদ্বীপ-এর তুলনায় অনেক বেশি।

নয়াগ্রামে বাজি ফাটাতে গিয়ে বিধ্বংসী আগুন, পুড়ে ছাই খড়ের গাদা

নন্দকুমারে জনপ্লাবনে থমকে গেল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর কনভয়, তারপর কী ঘটল…

উর্বিলের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের কাছে হার মানল পন্থের লখনউ

অ্যাপ অন করলেই টবে পৌঁছবে জল! কীভাবে ফোনের মাধ্যমে যত্ন নেবেন বাগানের?

‘আমার কাছে তুমিই দুর্গা, তুমিই লক্ষ্মী’, মাতৃদিবসে মা তনুজাকে নিয়ে সুন্দর পোস্ট কাজলের

মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ে ৭ আমলাকে নিয়োগ করা হল, জারি হল বিজ্ঞপ্তি

মেদিনীপুর থেকে আরও চার বিজেপি বিধায়ক মন্ত্রিসভায়, তাঁরা কারা?

মমতা সরকারের পতনে ১৪ বছর পর নিজের চুল, দাড়ি কাটলেন প্রৌঢ় আশুতোষ

জশ ইংলিসের চওড়া ব্যাটে ভর করে চেন্নাইকে ২০৪ রানের লক্ষ্য দিল লখনউ

প্রধানমন্ত্রী মোদির সভাস্থলের কাছেই মিলল বিস্ফোরক, নাশকতার ছক দেখছে পুলিশ

নবান্নের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখলেন পুলিশ কমিশনার, প্রশাসনিক বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী

বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই বন্ধ জুলুমবাজি! এবার যৌন পল্লীতেও উড়ল গেরুয়া আবির

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বেতন কত? সোমবার থেকেই শুরু হচ্ছে কাজ

মাত্র ৭ ঘন্টায় পক প্রণালী পার করে ইতিহাস গড়লেন বঙ্গতনয়া আফরিন