শান্তিপুরের প্রায় ৫০০ বছরের পুরানো চাঁদুনী বাড়ির পুজোয় বাজল নহবৎ

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ নদীয়ার শান্তিপুরের সুপ্রাচীন ঐতিহ্য ও ইতিহাসের অন্যতম সাক্ষী চাঁদুনী বাড়ির কালীপুজো। চৈতন্যদেবের গৃহশিক্ষক কাশীনাথ সার্বভৌমের স্মৃতিবিজড়িত আনুমানিক প্রায় সাড়ে পাঁচশ বছরের পুরানো এই পুজো ঘিরে প্রতি বছরের মতো এবারও উৎসবের আবহ তুঙ্গে। একাদশী তিথি থেকেই মন্দিরে বেজে উঠেছে বহু যুগের ঐতিহ্যের নহবৎ। মুর্শিদাবাদের কান্দি থেকে আসা বাজনদারেরা প্রতি তিন ঘণ্টা অন্তর সানাই ও নহবতের সুর তুলছেন, যার সঙ্গে প্রাচীন ধারা মেনে যুক্ত হয়েছে ডগর ও ব্যাগপাইপের সম্মিলিত বাদন।

বল্লভী মুখার্জী পরিবারের এই ঐতিহ্যবাহী পুজো ২০১৮ সাল থেকে একটি ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। পরিবারের অন্যতম সদস্য প্রীত মুখার্জি জানান, পুজোর আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে বিজয়াদশমীর দিন। পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠা মহিলার হাতে প্রতিমায় প্রথম মাটি দেওয়ার প্রথা পালিত হয়। সার্বভৌম বংশের সুপ্রাচীন রীতি মেনে এ বছর আনুমানিক ৮৩ বছর বয়সী প্রবীণা মনীষা মুখার্জি হাওড়া থেকে এসে মায়ের গায়ে প্রথম মাটি দেন। দুর্গামন্দিরের ঠাকুরদালানে প্রতিমা নির্মাণ করেছেন মৃৎশিল্পী অনিল পাল। 

আরও পড়ুনঃ স্বাধীনতার পর প্রথম জ্বলল আলো, কালীপুজোর আগে খুশির হাওয়া তারকেশ্বরের এই গ্রামে

পুজোর দিন পঞ্জিকা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে মাকে মূল বেদিতে ওঠানো হয়। এবার দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে মাকে বেদিতে তোলার মাহেন্দ্রক্ষণ চাক্ষুষ করতে দূরদূরান্ত থেকে বহু ভক্তের সমাগম ঘটে। মন্দিরে মা অধিষ্ঠিত হওয়ার পর খড়্গ পুজো, সরা পুজো ও চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে আচার শুরু হয়। এরপরই আরম্ভ হয় ভোগ রান্নার আয়োজন। প্রথা অনুযায়ী, কেবল পরিবারের গৃহবধূরাই এই ভোগ রান্না করতে পারেন, গোত্র পরিবর্তনের কারণে বিবাহিত মেয়েরা ভোগ রন্ধনে অংশ নিতে পারেন না। মায়ের ভোগে থাকে অন্ন, খিচুড়ি, ফ্রাইড রাইস, ডাল, নানা পদের ভাজা ও তরকারি, চাটনি এবং পায়েস। সেই সঙ্গে গজা, পাকানো ক্ষীরের মিষ্টি ও বিবিধ মরসুমি ফলের বিপুল সম্ভার সাজিয়ে নৈবেদ্য নিবেদন করা হয়। নিশীথ রাতে পঞ্চমুণ্ডির আসনে ঠিক রাত ১২টায় চাঁদুনী বংশের ছেলের হাত দিয়ে তন্ত্রমতে পুজো শুরু হয় এবং শেষ হতে হতে ভোর হয়ে যায়। শতাব্দী প্রাচীন বলিদান প্রথা এখনও এখানে বজায় রয়েছে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে শান্তিপুর থানা এবং পুরসভার সহায়তায় গোটা চত্বর সিসিটিভি নজরদারির আওতায় রাখা হয়।

উল্লেখ্য, প্রায় ১২৮-১৩০ বছর আগে পারিবারিক মনোমালিন্যের জেরে ব্যানার্জী পরিবার আলাদা পুজো শুরু করায় তা লোকমুখে ‘ভেতর চাঁদুনী’ বা ‘ঘর চাঁদুনী’ হিসেবে পরিচিতি পায়, আর এই আদি পুজোটি পরিচিত ‘বাহির চাঁদুনী’ নামে। এ বছর পরিবারের এক সদস্যের ব্যক্তিগত উদ্যোগে মন্দিরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী লোহার কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে নতুন শেড ও চাতাল সংস্কার করা হয়েছে। পুজোর পরদিন দুপুরে  প্রসাদ বিতরণ এবং সন্ধ্যায় গৃহবধূদের বরণ শেষে প্রতিমা নিরঞ্জন সম্পন্ন হয়।

 

হামজার সেঞ্চুরিতে কুপোকাত ভারত, ছোটদের এশিয়া কাপে ৩ উইকেটে জিতল পাকিস্তান

প্রেমিকাকে বিয়ের দাবিতে টাওয়ারে চড়ে বসল যুবক, শোরগোল নন্দীগ্রামে

বাজির শব্দে ভয় পাচ্ছে আপনার বাড়ির পোষ্য? শান্ত রাখুন এই ৬ উপায়ে

হীরের টিপ থেকে ১১০ কেজি সোনা-রুপোর গয়না! ১০৩ বছরে আরও জাঁকজমক নৈহাটির বড়মা

চন্দননগরে জগদ্ধাত্রী পুজোর ঢাকে কাঠি,একসঙ্গে আলপনা দিলেন ১২০০ জন

কালীপুজোর ভোগের মতো লাবড়ার স্বাদ পেতে চান বাড়িতেই? রইল সহজ রেসিপি

দীপাবলিতে মাংস কিনতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, বাবা-ছেলে-সহ মৃত ৩

অভাবের সংসার, টিনের চালেই ৩৫ বছর ধরে পূজিত হচ্ছেন ৬ দেবী, জানেন কোথায়?

‘দেশ থেকে মাওবাদীদের মুছে ফেলা হয়েছে,’ দীপাবলিতে ঘোষণা মোদির

তৃণমূলের আচরণের জন্য বিএসএফের কাছে ক্ষমা চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

সোমবার থেকে তিন দিন বদলাচ্ছে একাধিক ট্রেনের রুট! কেন এই সিদ্ধান্ত পূর্ব রেলের?

দীপাবলিতে ভক্তদের উপহার দিলেন ভিকি ক্যাটরিনা, প্রকাশ্যে আনলেন ছেলে বিহানকে

রাস্তার ধারে কুলচা বিক্রি করতেন বাবা, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শতরান করে চমকে দিল ছেলে অর্জুন

মুর্শিদাবাদে চার বছরের শিশুকে নির্যাতন করে খুনের অভিযোগ, কাঠগড়ায় সৎ মা