আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

রামধনুকে আরও আঁকড়ে ধরছে সিপিআই(এম)

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভারতীয় সংবিধানে ৩৭৭ নম্বর ধারা আগেও ছিল, এখনও আছে। তবে দিল্লি হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের(Supreme Court) দুই ঐতিহাসিক রায়ের হাত ধরে সেই ধারা থেকে বাদ পড়েছে সমকামিতা। তাই এদেশে আর নিষিদ্ধ নয় দুই পুরুষ বা দুই নারী কিংবা এক পুরুষ বা নারীর সঙ্গে তৃতীয় লিঙ্গের কারও প্রেম, ভালবাসার সম্পর্ক। নিষিদ্ধ নয় তাঁদের শারীরিক সম্পর্কও। যদিও এখনও এদেশে তাঁদের বিয়েকে আইনত মান্যতা দেওয়া হয়নি। তাই দেশে দুই পুরুষ, দুই নারী বা এক পুরুষ কিংবা এক নারীর সঙ্গে কোনও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ বা রূপান্তরকামীর বিয়ে হেলেও সেই সব বিয়ে রেজিস্টার্ড হচ্ছে না। আর সেই কারনেই দেশের আর পাঁচটি দম্পতি যে সব সুযোগসুবিধা সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে পেয়ে থাকে তার ছিঁটেফোঁটাও তাঁদের কপালে জুটছে না। দেশের নাগরিক হয়েও তাঁরা বঞ্চিত থাকছেন অনেক অধিকার থেকেই। এবার এই সমকামী পুরুষ, নারী, উভকামী, রূপান্তরকামী, তৃতীয় লিঙ্গের রামধনু পরিবারকেই বাংলার(Bengal) মাটিতে আঁকড়ে ধরতে পদক্ষেপ নিচ্ছে বাংলায় ৩৪ বছর ধরে রাজত্ব করে যাওয়া বামফ্রন্টের বড় শরিক সিপিআই(এম)।

ঠিক কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিপিআই(এম)? রামধনু পরিবারকে আঁকড়ে ধরার কাজ আগেই শুরু করেছিল লালপার্টি। কিন্তু প্রথম দিকে তা ছিল রামধনু(Rainbow) পরিবারের প্রতি তাঁদের সমর্থন। কিন্তু এবার ধীরে ধীরে রামধনু পরিবারের মানুষদের নিজেদের দিকে টেনে আনার কৌশল নিয়েছে সিপিআই(এম)(CPIM)। লক্ষ্য নিজেদের সংগঠনের আরও বিস্তার ও তা আরও শক্তিশালী করে তোলা। সেই লক্ষ্যেই বাংলায় তাঁরা গড়ে তুলেছেন নতুন এক গণসংগঠন ‘ডেমোক্রেটিক অ্যাসোসিয়েশন অব এলজিবিটিকিউআইএ+’, বাংলায় ‘এলজিবিটিকিউ+ গণতান্ত্রিক সমিতি’। সেই সংগঠনের কাজকর্ম চালানোর জন্যই ১৯জনের এক কমিটি গড়ে তোলাও হয়েছে। তাতে যুগ্ম আহ্বায়ক হয়েছেন সিপিএমের সারা ভারত মহিলা গণ সংগঠনের সভানেত্রী কণীনিকা ঘোষ ও অপ্রতিম রায়। ঠিক হয়েছে, এই সংগঠন তাঁদের নিজস্ব ও স্বতন্ত্র পথে বামপন্থীদের লড়াইয়ের সঙ্গী হবে। সেই সঙ্গে রামধনু পরিবারের যাবতীয় দাবিদাওয়ার বিষয়টিও দেখবে। ইতিমধ্যেই ১৯ জনের ওই কমিটি সংগঠনের নিজস্ব স্লোগান, গঠনতন্ত্র, সংবিধান, পতাকা ও কর্মসূচি তৈরির মতো প্রাথমিক বিষয়গুলি তৈরি করার কাজও শুরু করে দিয়েছে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এতে লাভের লাভ কী হবে? বামেরা কী পারবে আবারও বাংলার ক্ষমতায় ফিরে আসতে? নাহ, খোদ লালপার্টির নেতা থেকে কর্মী সমর্থক সকলেই প্রকাশ্যে স্বীকার করে নিচ্ছেন বাংলায় ক্ষমতা দখলের আশা এখন দূরঅস্ত। আপাতত লক্ষ্য বিজেপিকে হটিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ফের প্রধান বিরোধী দলের পরিসরটির দখল নেওয়া। আর এই লড়াইয়ে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সমর্থন প্রয়োজন। এক একটি ভোট তাই খুবই মূল্যবান। তাছাড়া এখনও পর্যন্ত দেশের রাজনীতিতে যৌনতার নিরিখে প্রান্তিক গোষ্ঠীদের জন্য কোনও রাজনৈতিক দলই উদ্যোগী হয়নি। সত্যি কথা বলতে কী দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল যৌনতার নিরিখে প্রান্তিক গোষ্ঠীর(LGBTQ) মানুষদের চূড়ান্ত রকমের অবহেলা করা পাশাপাশি তাঁদের মানুষ বলেও গণ্য করেন না। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে ভারতের রাজনীতিতে সিপিএমের এই গণ সংগঠন এক নতুন দিশা দেখাচ্ছে অবশ্যই। কিন্তু তারপরেও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, রামধনু পরিবারের সদস্যদের মূল যে দাবি সমাজের আর পাঁচটা নাগরিকেরা যে যে সুযোগ সুবিধা পান সেই সব সুযোগ সুবিধা এনে কী দিতে পারবে সিপিআই(এম)? বিয়ের ক্ষেত্রে, বিমার ক্ষেত্রে, চাকরির ক্ষেত্রে, ব্যাঙ্ককিংয়ের ক্ষেত্রে, সম্পত্তি কেনাবেচার ক্ষেত্রে, মেডিক্লেমের ক্ষেত্রে, দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে, বাড়ি ভাড়া পাওয়ার ক্ষেত্রে, বিভিন্ন বিষয়ের নমিনির ক্ষেত্রে দেশের আর পাঁচটা দম্পতি যে সব সুযোগ সুবিধা পায় তা কী এনে দিতে পারবে সিপিআই(এম)? এই প্রশ্নের উত্তর কিন্তু লালপার্টির নেতানেত্রীদেরই দিতে হবে আগামী দিনে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

‘আমি এইরকম ভোট কখনও দেখিনি’, মিত্র ইনস্টিটিউট থেকে বেরিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ মমতার

ভোটকেন্দ্রে দুর্ঘটনা, টালিগঞ্জে সিলিং ফ্যান ভেঙে আহত ভোটার

নবান্নের কুর্সিতে কাকে দেখতে চান? সপরিবারে ভোট দিয়ে যা জানালেন দেব

স্ত্রী ডোনাকে সঙ্গে নিয়ে বড়িশার জনকল্যাণ স্কুলে ভোট দিলেন সৌরভ

কেউ টালিগঞ্জে, কেউ বেহালায়, ভোট উৎসবে সামিল প্রসেনজিৎ থেকে জিৎ, কোয়েল, শ্রাবন্তী

‘রাজনৈতিক ডাস্টবিনে পরিণত করা যাবে না’, বাড়িতে বসে বিস্ফোরক পার্থ

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ