এই মুহূর্তে

৭২ ঘন্টায় বাংলাদেশের ৩৯ জায়গায় আওয়ামী লীগ কার্যালয় চালু, ঘুম ছুটেছে জামায়াতের

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বাধীনতা পক্ষের শক্তি বিএনপি ক্ষমতায় ফিরতেই নয়া উদ্যমে গা ঝাড়া দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় আত্মপ্রকাশ করতে শুরু করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা। গত ৭২ ঘন্টায় দেশের ৩৯ জায়গায় তালাবন্ধ হয়ে পড়ে থাকা দলীয় কার্যালয় খুলে দখল নিয়েছেন শেখ হাসিনার দলের নেতা-কর্মীরা। ইউনূস সরকারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নতুন করে কার্যক্রম শুরু করেছেন। আর তাতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। বিভিন্ন জায়গায় যেভাবে সাধারণ মানুষের সমর্থন পেতে শুরু করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা, তাতে ভয় পেয়ে ইতিমধ্যেই আত্মগোপনে যেতে শুরু করেছেন গুপ্ত হিসাবে পরিচিত রাজাকারদের উত্তরসূরিরা।

গত বছরই জামায়াতে ইসলামী-জাতীয় নাগরিক পার্টি সহ পাকিস্তানি দোসরদের চাপের মুখে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার। শুধু তাই নয়, গণহারে গ্রেফতার করা হয় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের। বেশ কয়েকজনকে জেলের মধ্যে খাবারের মধ্যে বিষ মিশিয়ে হত্যাও করা হয়। সেই তালিকার সর্বশেষ সংযোজন হাসিনা জমানার কারামন্ত্রী তথা হিন্দু নেতা রমেশ চন্দ্র সেন। নিষিদ্ধ থাকার কারণে গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও অংশ নিতে পারেনি হাসিনার দল। যদিও ওই নির্বাচনে ৬০ শতাংশ মানুষই ভোটকেন্দ্রমুখো হননি।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন মিটে যাওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ‘সেলাম’ জানান বেশ কয়েকজন রিকশা চালক ও হকার। ওই খবর সংবাদমাধ্যমে সম্প্রচারিত হওয়ার পরেই নতুন সাহসে ভর করে বিভিন্ন জায়গায় কার্যালয় খুলতে শুরু করে দেন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা। কুমিল্লার দেবীদ্বার, ঠাকুরগাঁও, খুলনা, দিনাজপুরের বীরগঞ্জ সহ একাধিক এলাকায় দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙে দখল নেন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা। সিংহভাগ ক্ষেত্রেই স্থানীয় বাসিন্দারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে পাশে দাঁড়ান। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা তিনটের দিকে বরগুনার বেতাগীর পুর মার্কেট এলাকায় অবস্থিত উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ছাত্রলীগের নেতারা প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁরা কার্যালয়ের ভেতরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি টাঙান। দলীয় কার্যালয়ের সাইনবোর্ডও টাঙানো হয়। উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিফাত সিকদার এ প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘গত ১৮ মাস দেশ একটি জঙ্গি গোষ্ঠীর দখলে ছিল। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন, ধানমন্ডি ৩২সহ আমাদের স্থানীয় দলীয় কার্যালয়ে যাতায়াত শুরু করতে। তাঁর নির্দেশ পেয়েই আমরা বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে যাই এবং দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও দলীয় কার্যালয়ের ব্যানার টাঙিয়েছি।’

বরগুনার পাশাপাশি হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গড় হিসাবে পরিচিত বগুড়ার সাতমাথা টেম্পল সড়কে জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ভাঙচুর করা কার্যালয়ের দোতলায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। পাশাপাশি ফেসবুকে লেখা হয়েছে, ‘বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন দলীয় নেতা–কর্মীরা। আমাদের কেউ দাবায়া রাখতে পারবা না। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় হোক দেশরত্ন শেখ হাসিনার।’

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী নিধনে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ শুরুর নির্দেশ তারেকের

ড্যামেজ কন্ট্রোল! বাংলাদেশের মন্দিরের পুরোহিতদের মাসে ৫ হাজার করে সরকারি ভাতা

রাজাকারদের মুক্তিযোদ্ধার তকমা দেওয়ার উদ্যোগ পাকপ্রেমী তারেক রহমানের

তারেকের ইন্ধনে বাংলাদেশে আরও ৩৫ প্রশিক্ষণ শিবির খুলল পাক জঙ্গি সংগঠন লস্কর

তারেক জমানায় হিন্দু নির্যাতন চরমে, তিন সপ্তাহে খুন ১১ জন, গণধর্ষিতা ৫ জন

সাবধান! ধেয়ে আসছে বছরের প্রথম বৃষ্টিবলয় ‘গোধূলি’

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ