এই মুহূর্তে

জামায়াতে যোগ দিলেন খাগড়াগড় বিস্ফোরণকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড আনসার আল ইসলামের শীর্ষ নেতা

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে হিযবুত তাহরীর, আনসার আল ইসলাম-সহ নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের যোগসূত্র বার বার অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিযোগের যে সারবত্তা রয়েছে, ফের একবার তার প্রমাণ মিলেছে। ভোটের মুখে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী জামায়াতে ইসলামীতে নাম লিখিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণকাণ্ড ও জাতীয় সংসদে হামলার মাস্টারমাইন্ড তথা নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের শীর্ষ নেতা আলী হাসান উসামা। গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুক হালিম ও এহসানুল মাহবুব জোবায়েরের উপস্থিতিতে তিনি দলের সহযোগী সদস্য ফরম পূরণ করেন। ওই ঘটনার কথা জানাজানি হতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কিভাবে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের শীর্ষ নেতাকে দলে নেওয়া হল, তা নিয়ে মুখ খুলতে চাননি জামায়াতের শীর্ষ নেতারা।

বাংলাদেশের সন্ত্রাস দমন শাখা (সিটিটিসি) সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘সিলেটের বাসিন্দা আলী হাসান উসামা রাজবাড়ী জেলায় একটি মাদ্রাসা তৈরি করে জঙ্গিদের ডেরা গড়ে তুলেছিলেন। রাজবাড়ী থেকেই বিভিন্ন ওয়াজে জিহাদের ডাক দেওয়ার পাশাপাশি ইউটিউবে উগ্রবাদী মতাদর্শ ছড়াতেন। উসামা যে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন, তার উপদেষ্টা হলেন কুখ্যাত জঙ্গি ও হেফাজত নেতা মুফতি হারুন ইজহার এবং মাওলানা মাহমুদুল হাসান গুণবী।দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াজ-মাহফিলে ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে ইসলামী জঙ্গিবাদকে ছড়ানোর চেষ্টায় লিপ্ত ছিলেন উসামা। উগ্রবাদ ছড়ানোর পাশাপাশি জিহাদের পক্ষে বক্তব্য দেওয়া এবং গাজওয়াতুল হিন্দের মাধ্যমে ভারতে সশস্ত্র হামলা চালানোর উস্কানি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি পশ্চিবঙ্গের বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণকাণ্ডের অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন উসামা। ।

সিটিটিসি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে ২০২১ সালের ৫ মে রাতে সংসদ ভবনে সশস্ত্র হামলা করতে যাওয়ার মুখে আনসার আল ইসলামের সদস্য মোহাম্মদ আল সাকিবকে গ্রেফতার করেছিলেন সন্ত্রাস দমন শাখার গোয়েন্দারা। জেরার মুখে তিনি গোয়েন্দাদের জানান, উসামার নির্দেশে হামলার পরিকল্পনা হচ্ছিল। সাকিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সেই রাতেই অভিযান চালিয়ে রাজবাড়ী থেকে আলী হাসান উসামাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও সামাজিক যোগাযোগ অ্যাকাউন্টের ফরেনসিক বিশ্লেষণে ভারতীয় জঙ্গিদের সঙ্গে তার যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়। খাগড়াগড় বিস্ফোরণকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম থেকে গ্রেফতার হওয়া নজিবুল্লাহ নামে এক জেএমবি জঙ্গির ডিভাইসেও উসামার সঙ্গে যোগাযোগের ছবি ও তথ্য পাওয়া যায়। উসামা টেলিগ্রাম ও সিগন্যাল অ্যাপে একাধিক জঙ্গি গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে কাজ করতেন। সিটিটিসির কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, উসামার সঙ্গে বাংলাদেশের আনসার আল ইসলামের প্রধান আল ইমরান, তামিম আল আদনানী এবং জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের নেতা মাইনুলেরও যোগাযোগ থাকার তথ্য মিলেছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে সক্রিয় জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে আল-কায়েদার অনুসারী আনসার আল ইসলাম অন্যতম। আগে এই সংগঠনটি ‘আনসারুল্লাহ বাংলা টিম’ নামে পরিচিত ছিল। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের টার্গেট কিলিং করে আলোচনায় আসা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমকে ২০১৫ সালের ২৫ মে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। তার পর নাম বদলে নিষিদ্ধ এই সংগঠনের সদস্যরা ‘আনসার আল ইসলাম’ নামে তাদের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

বিএনপির কাছে ৫০ হাজারের বেশি ভোটে হারলেন জামায়াতের হিন্দু প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী

২০ বছর বাদে ক্ষমতায় ফিরলেও বিজয় মিছিল করেছে না বিএনপি

দুটি আসনেই জয়ী তারেক রহমান, সরকার গঠনের পথে বিএনপি, ৩৫ বছর পর পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পাচ্ছে বাংলাদেশ

হেরে গেলেন মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী জামায়াতের প্রধান ও মহাসচিব

নেত্রকোনা-৪ আসনে জয়ী ভারতের গোয়েন্দাদের রাতের ঘুম কেড়ে নেওয়া বাবর

কুমিল্লা-৪ আসনে জয়ী সেভেন সিস্টার্সকে আলাদা করার হুমকি দেওয়া হাসনাত আবদুল্লাহ

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ