এই মুহূর্তে

হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে পুলিশ ও হিন্দু খুনে জড়িতদের ‘রক্ষাকবচ’ দিল মোল্লা ইউনূস সরকার

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: শেখ হাসিনা উচ্ছেদ আন্দোলনের সময়ে পুলিশ-সহ হিন্দুদের খুনের ঘটনায় জড়িতদের বিশেষ রক্ষাকবচ দিল মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস সরকার। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত এক অধ্যাদেশে আনুমোদন দিয়েছে তদারকি সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। বিকেলে ফরেন সার্ভিস আকাদেমিতে সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি এও জানিয়েছেন, ‘শেখ হাসিনা উচ্ছেদ আন্দোলনের সময়ে অর্থা‍ৎ জুলাই-অগস্টে যে সমস্ত আন্দোলনকারীরা পুলিশ ও হিন্দুদের খুন করেছিলেন তাদের বিচার হবে না। তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনও মামলা করা যাবে না। যে সমস্ত মামলা রয়েছে তা বাতিল হবে।আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।’

২০২৪ সালে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে হটাতে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের নির্দেশে শুরু হয়েছিল কোটা সংস্কার আন্দোলন। ওই আন্দোলনের সময়ে জামায়াতে ইসলামী সহ দেশের উগ্র ইসলামি দলগুলির সশস্ত্র ক্যাডাররা নির্বিচারে মেরেছিল পুলিশ ও হিন্দুদের। প্রায় শতাধিক পুলিশ কর্মী-আধিকারিক ও হিন্দুকে মারা হয়েছিল। কোথাও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। কোথাও জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছে। ওই পাশবিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা বুক ফুলিয়েই বলে বেড়াচ্ছে ইসলামি জঙ্গি তথা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। সম্প্রতি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে থানায় ঢুকে জুলাই আন্দোলনের সময়ে বানিয়াচংয়ের হিন্দু পুলিশ আধিকারিক সন্তোষ দাস চৌধুরীকে পুড়িয়ে মারার কথা সগর্বে বলেছিল কুখ্যাত ইসলামি জঙ্গি মাহদী হাসান। ওই স্বীকারোক্তির ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরে চাপে পড়ে গ্রেফতার করা হয়েছিল সন্তোষের আত্মস্বীকৃত খুনিকে। যদিও ইউনূসের নির্দেশে কয়েক ঘন্টার মধ্যেই জামিন পেয়েছিল মাহদী।

আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে যাতে নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে জুলাই আন্দোলনে পুলিশ ও হিন্দুদের খুনে জড়িতদের বিচার না করতে পারে তার জন্য তড়িঘড়ি খুনিদের দায়মুক্তি দিয়ে অধ্যাদেশ জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ৫ জানুয়ারি পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের এজেন্ট তথা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর নেতৃত্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এই অধ্যাদেশ জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে আইন মন্ত্রকের কাছে ওই অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত করার সুপারিশ পাঠানো হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ওই অধ্যাদেশ আনার বিষয়ে বলেছিলেন, ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের যেভাবে আইনি সুরক্ষা ও দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থানের সময় যারা পুলিশ ও হিন্দুদের মেরেছেন তাদের একই ধরনের সুরক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিভিন্ন থানায় এ সংক্রান্ত যে মামলা রয়েছে তা বাতিল করা হচ্ছে। নতুন করে কোনও মামলা দায়ের করা যাবে না বলেও পুলিশ ও বিচার বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।’

এদিন উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ওই খসড়া অধ্যাদেশ পেশ করা হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার খুনিদের বাঁচাতে অধ্যাদেশ জারি হচ্ছে। এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের খুনিদের বাঁচাতে অধ্যাদেশ জারি করেছিলেন প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মূলত ইসলামি জঙ্গিদের বাঁচাতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউনূস সরকার।

 

 

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

১৭৯ আসনে লড়বে জামায়াতে, কতটিতে লড়ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি?

ঢাকায় কলেজ ছাত্রীকে চলন্ত গাড়িতে ১২ ঘন্টা ধরে গণধর্ষণ, ধৃত বাসচালক-সহ ৩

ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে নিয়ে পালাল মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক, আগুন লাগিয়ে উত্তেজনা

আসন রফা নিয়ে মতানৈক্য, জামায়াতের জোট ছাড়ছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

জমি বিক্রির টাকা না দেওয়ায় বাবা-মাকে জ্যান্ত সমাধি দেওয়ার চেষ্টা, ধৃত দুই গুণধর ছেলে

পোস্টাল ব্যালটে উপরের দিকে জামায়াতের প্রতীক, ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছে বিএনপি

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ