এই মুহূর্তে

WEB Ad Valentine 3

WEB Ad_Valentine




হিন্দুত্বের চোরাস্রোত, তবুও এগিয়ে ‘ক্লান্তিহীন’ সৌগত




নিজস্ব প্রতিনিধি, দমদম: দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে ‘ক্লান্তিহীন’ আখ্যা দিয়েছেন। বয়সকে হার মানিয়ে খর বৈশাখে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলেছেন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম প্রবীণ নেতা সৌগত রায়। আর তার জয় রথ রোখার লক্ষ্য নিয়ে দৌড়ে বেড়াচ্ছেন সিপিএমের সুজন চক্রবর্তী এবং বিজেপির শীলভদ্র দত্ত। কিন্তু ভোটের আগে শেষ ল্যাপে দুই প্রতিপক্ষকে টেক্কা দিয়ে টানা চতুর্থবার সংসদে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেকটাই এগিয়ে পদার্থ বিদ্যার মাস্টারমশাই।

গত কয়েক দশকে দমদম লোকসভা কেন্দ্রের ভৌগলিক চেহারা অনেকটাই বদলেছে। এক সময়ের শিল্পাঞ্চল এখন শিল্প বন্ধ্যার অন্যতম সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে। এক সময়ে কারখানার সাইরেনে ঘুম ভাঙত এখানকার বাসিন্দাদের। কিন্তু সেই সব অতীত। একের পর এক কারখানা গুঁড়িয়ে সেখানে গড়ে উঠেছে প্রাসাদোপম বহুতল। বাঙালিদের হঠিয়ে শুরু হয়েছে অবাঙালিদের দাপট। লেকটাউন থেকে বিরাটি মোড় পর্যন্ত এলাকা কসমোপলিটানের চেহারা নিয়েছে। উদ্বাস্তু বাঙালি আর শ্রমিক সম্প্রদায় আজ অনেকটা কোনঠাসা হয়ে অস্তিত্বের সঙ্কটে ভুগছে। শুধু যে দমদম লোকসভা আসনের ভোগৌলিক চেহারা অনেকটা বদলেছে তাই নয়, রাজনৈতিক সমীকরণেও অনেক বদল এসেছে। ধর্মনিরপেক্ষতাকে পিছনে ঠেলে দিয়ে ধর্মীয় আবেগ জায়গা করে নিয়েছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক বিভাজন বড্ড স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। হিন্দুত্বের চোরা স্রোত বইছে। এক সময়ে পাশাপাশি বাস করা বাঙালি আর অবাঙালিদের মধ্যে ‘আমরা-ওরা’ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

শ্রমিক, উদ্বাস্তু ও সংখ্যালঘুদের বাসস্থান হিসাবে পরিচিত দমদম লোকসভা কেন্দ্র একসময়ে ছিল বামেদের দুর্গ। কিন্তু সেই দুর্গ ভেঙেচুরে একাকার। ২০০৪ সালে শেষ বারের মতো উত্তর ২৪ পরগনার দাপুটে সিপিএম নেতা অমিতাভ নন্দী জয়ী হয়েছিলেন। তাঁকে হারিয়ে ২০০৯ সালে সংসদে পা রেখেছিলেন তৃণমুল কংগ্রেসের সৌগত রায়। গত বার অর্থা‍ৎ ২০১৯ সালে দেশভক্তির জোয়ারের মধ্যেও বিজেপি প্রার্থী শমীক ভট্টাচার্যকে হারিয়ে জয়ের হ্যাটট্রিক করেছিলেন মাস্টারমশাই। যদিও জয়ের ব্যবধান ২০১৪ সালের তুলনায় কমেছিল। অনেকেই ভেবেছিলেন, দমদম ধরে রাখার জন্য হয়তো আর সৌগতকে প্রার্থী করবে না রাজ্যের শাসকদল। কিন্তু দীর্ঘদিনের সারথির উপরেই ভরসা রেখেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

দমদমে সৌগত রায়কে নিয়ে শাসকদলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও খানিকটা ক্ষোভ রয়েছে। কিন্তু সেই ক্ষোভ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে বিজেপি ও বাম শিবির। বিজেপির হয়ে প্রার্থী হয়েছেন ‘রাজনৈতিক দলবদলু’ শীলভদ্র দত্ত। আর সিপিএমের হয়ে দাঁড়িয়েছেন সুজন চক্রবর্তী। দুজনেই কার্যত বহিরাগত। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, বাম ও বিজেপি নেতৃত্ব, আর কোনও প্রার্থী খুঁজে পেলেন না। গত কয়েক বছর ধরে বিজেপি যতটা না আক্রমণ শানিয়েছেন সুজন, তার চেয়ে বেশি নির্দয়ভাবে নিশানা করেছেন রাজ্যের শাসকদলকে। ফলে যারা কট্টর বিজেপি বিরোধী, অথচ তৃণমূলকে পছন্দ করেন না, তারাও সুজনকে মেনে নিতে পারছেন না। আর বিজেপির হয়ে যিনি প্রার্থী হয়েছেন, সেই শীলভদ্র দত্তকে প্রচারে দেখতেই পাননি ভোটাররা। যদিও সুজন এবং শীলভদ্রের দাবি, দমদমে তৃণমূল বিরোধী হাওয়া রয়েছে। এবারের ভোটে সৌগতর জয় রথ মুখ থুবড়ে পড়বে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, রাজারহাট-গোপালপুর, খড়দহ, পানিহাটি, কামারহাটির মতো এলাকার সংখ্যালঘু ভোটাররা হিন্দুত্বের বাড়বাড়ন্ত রুখতে অনিচ্ছাসত্বেও শেষ পর্যন্ত ঘাসফুল শিবিরের দিকেই ঝুঁকবেন। দমদম কিংবা উত্তর দমদমের মতো কেন্দ্রে যারা অবাঙালি ভোটার, তারাও বিজেপির প্রতি খুব একটা সদয় নন। হিন্দুত্বের চোরাস্রোত থাকলেও কার্যত বিরোধী শিবিরের দুই প্রার্থী চয়নই শাসকদলকে অনেকটা অ্যাডভান্টেজ দেবে।




Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

বুথফেরত সমীক্ষায় বাংলায় বিজেপিকে ২১-৩১ আসন দেওয়া তিন ‘হুজুর’কে চিনে নিন

ভোটে জেতার পরেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ‘হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট’ রচনার, কী কথা হল?

‘দিদি নং ওয়ান’ তবে শেষ? জবাবে কী বললেন রচনা

‘ও যা ছোঁয়, তাই সোনা’, রচনার জন্যে গর্বে বুক ফুলে যাচ্ছে স্বামী প্রবাল বসুর

‘আসানসোলের জনগণকে ধন্যবাদ’, বাবার জয়ের উল্লাসে মেতেছেন সোনাক্ষী

অবিলম্বে মোদি-শাহের ইস্তফা চাইলেন মমতা

Advertisement




এক ঝলকে
Advertisement




জেলা ভিত্তিক সংবাদ

দার্জিলিং

কালিম্পং

জলপাইগুড়ি

আলিপুরদুয়ার

কোচবিহার

উত্তর দিনাজপুর

দক্ষিণ দিনাজপুর

মালদা

মুর্শিদাবাদ

নদিয়া

পূর্ব বর্ধমান

বীরভূম

পশ্চিম বর্ধমান

বাঁকুড়া

পুরুলিয়া

ঝাড়গ্রাম

পশ্চিম মেদিনীপুর

হুগলি

উত্তর চব্বিশ পরগনা

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা

হাওড়া

পূর্ব মেদিনীপুর