এই মুহূর্তে




বাংলায় বন্ধ প্রায় ১ কোটি জনধন অ্যাকাউন্ট, প্রশ্নের মুখে প্রকল্প

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ফ্ল্যাগশিপ’ প্রকল্প ‘‌জনধন যোজনা’‌। এই প্রকল্পের মাধ্যমে জিরো ব্যালেন্স অ্যাকাউন্ট খোলানো হয়েছিল। বাংলার মানুষজন বিশ্বাস করে তা করেছিলেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের নানা সিদ্ধান্তে এই প্রকল্প বাংলায় এবার জোর ধাক্কা খেল। এসআইআর আবহে বঙ্গে ‘বন্ধ’ হয়ে গিয়েছে প্রায় ১ কোটি জনধন প্রকল্পের অ্যাকাউন্ট। ২০২৬ সালে বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। তার আগে এমন ঘটনা বিজেপির কাছে যথেষ্ট সেটব্যাকের। যদিও এই বিষয়টি নিয়ে এখন মাথা ঘামাতে নারাজ বিজেপি নেতারা। বরং এই ইস্যু যাতে প্রকাশ্যে না আসে তার জন্যই মুখে কুলুপ আঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি রাজ্য নেতৃত্ব।

কেন বন্ধ হল জনধন অ্যাকাউন্ট?‌ এই অ্যাকাউন্ট গ্রাহকদের সূত্রে পাওয়া খবর, ১০০ দিনের কাজ এই রাজ্যে বন্ধ আছে। তার উপর বকেয়া টাকাও কেন্দ্রীয় সরকার দেয়নি। রাজ্য সরকার সেই বকেয়া টাকা দিয়েছে। আদৌ কেন্দ্রের কাছ থেকে টাকা আর কোনওদিন মিলবে কিনা তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। আবার আবাস যোজনা থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নানা প্রকল্পে আর্থিক বঞ্চনা করা হয়েছে বাংলাকে বলে অভিযোগ। বাংলায় জনধন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি। তার মধ্যে প্রায় এক কোটি অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে বলে সূত্রের খবর। এমনকী এই অ্যাকাউন্টগুলিতে গত দু’বছর কোনও লেনদেন হয়নি। বাংলায় জনধন অ্যাকাউন্টগুলির অধিকাংশই তাই বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

কেন্দ্রের উদ্যোগ ঠিক কী? বছরের পর বছর এই‌ অ্যাকাউন্টগুলিতে লেনদেন না হওয়ায় সেগুলি ‘ইনঅপারেটিভ’ হয়ে পড়ে। কেন্দ্রীয় সরকার এই জনধন অ্যাকাউন্টগুলি সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে সচেতন করছে বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পঞ্চায়েত এলাকায় ক্যাম্প খুলে নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টগুলিকে সক্রিয় করার চেষ্টা করছে। এমনকী বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে এই অ্যাকাউন্টগুলিতে নানা সরকারি প্রকল্পের ভর্তুকি পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে বলে খবর। এই বিষয়ে অল ইন্ডিয়া ব্যাঙ্ক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সর্বভারতীয় সভাপতি রাজেন নাগর বলেন, ‘বাংলায় জনধন যোজনার অ্যাকাউন্টগুলির বড় অংশ বন্ধ হওয়ার কারণ ১০০ দিনের কাজের টাকা বন্ধ হওয়া। শুধু অ্যাকাউন্ট খুললেই তো হয় না। গ্রামীণ মানুষজন যাতে ওই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে পরিষেবা পান সেটার ব্যবস্থা করতে হয়। সুতরাং যে উদ্দেশে জনধন অ্যাকাউন্টগুলি খোলা হয়েছিল সেটা বাস্তবায়িত হচ্ছে না।’

আর কী জানা যাচ্ছে?‌ তবে যেসব মহিলার জব কার্ড আছে, তাঁরা রাজ্য সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের থেকে নিয়মিত টাকা পাচ্ছেন। সুতরাং সেই অ্যাকাউন্টগুলি চালু আছে। এই টাকা না ঢুকলে নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টের সংখ্যা আরও বাড়ত বলে মনে করা হচ্ছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে টাকা পেতে হলে সিঙ্গল অ্যাকাউন্ট হতে হয়। সেটা যেসব মহিলাদের আছে তাঁদের অ্যাকাউন্ট সচল রয়েছে। রাজ্য সরকারের নানা প্রকল্পে টাকা আসছে সেইসব অ্যাকাউন্টগুলিতে। অথচ ঢাকঢোল পিটিয়ে এই জনধন অ্যাকাউন্ট খুলিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। এবার এটাই আসতে চলেছে প্রচারের আলোয়।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

‘গ্যাস চেম্বার’ দিল্লিতে মেসি, উদ্বেগে অনুরাগী থেকে চিকিৎসকমহল, ধিক্কার প্রশাসনকে

ডেবরায় বিজেপিকে ধরাশায়ী করে কৃষি সমবায় ভোটে সবুজ ঝড়

যুবভারতী কাণ্ডে চরম হেনস্থার শিকার অভিনেত্রী শুভশ্রী, থানায় লিখিত অভিযোগ রাজের

মদনমোহন মন্দিরের প্রণামীর টাকা গুনতে ১৪ জন, আনা হল ৮ বস্তা

যুবভারতীকাণ্ডে মমতার তদন্ত কমিটিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টে জোড়া মামলা

ফরাক্কায় কুপিয়ে খুন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যার দেওরকে , চাঞ্চল্য

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ