আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

‘পহেলগাঁও জঙ্গি হামলায় আপনি যুক্ত’, ভয় দেখিয়ে বৃদ্ধার থেকে ৪৩ লক্ষ হাতিয়ে নিল প্রতারকেরা

নিজস্ব প্রতিনিধি: ডিজিটাল মিডিয়ার অভিনব সংস্করণ সোশ্যাল মিডিয়া। যার দ্বারা যেমন গোটা পৃথিবী মুহূর্তেই ঘুরে ফেলা যাচ্ছে, চুটকিতেই শত সমস্যার সমাধান হয়ে যাচ্ছে, তেমনই সোশ্যাল মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠছে অপরাধ চক্র। নিরীহদের ফাঁদে ফেলে লুঠ করা হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। হ্যাঁ, নিত্যদিন এমন ঘটনা ঘটছে। এখন আবার ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর মতো অভিনব পদ্ধতিতে প্রতারিত হচ্ছেন নিরীহ মানুষেরা। বেশিরভাগ সময়েই বয়স্ক ব্যক্তিদের এই ধরনের প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হয়।এবার ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর শিকার হয়ে প্রায় ৪৪ লক্ষ টাকা খোয়ালেন এক ৭৬ বছর বয়সী বৃদ্ধা।

জানা যায়, প্রতারকরা ওই বৃদ্ধাকে বলেছিলেন যে, তাঁর নম্বরটি সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে, যার মধ্যে কাশ্মীরের পহেলগাঁও হামলাও অন্তর্ভুক্ত, যেখানে ২৬ জন নিরপরাধ মানুষ মারা গিয়েছেন। খুব শিগগির তাঁকে গ্রেফতার করা হবে। নয়ডার ৪১ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা ছিয়াত্তর বছর বয়সী সরলা দেবী জানিয়েছেন, গত ২৩ দিন আগে পুলিশ অফিসারের পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তির তাঁকে ফোন করেছিল। ফোনকারী তাঁকে বলেছিলেন যে, তার তথ্য মুম্বইতে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে এবং পরে সেগুলি সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, জুয়া এবং হাওয়ালা লেনদেনের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকী তাঁর ফোন নম্বরটি ২২ এপ্রিলের পহেলগাঁও হামলা-সহ একাধিক সন্ত্রাসী কার্যকলাপে অর্থায়নের জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল।

তাই তাঁর নামে একটি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তাই তাঁকে এককালীন কিছু টাকা জামানত হিসাবে জমা দিতে হবে। যা তদন্তে শেষ হওয়ার পরে তাঁকে ফেরত দেওয়া হবে। এরপর গত ২০ জুলাই থেকে ১৩ অগস্টের মধ্যে, ওই বৃদ্ধাকে একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ প্রদানের জন্য QR কোড পাঠানো হয়। তিনিও প্রতারকদের ফাঁদে পা দিয়ে আটটি উপায়ে পেমেন্ট সম্পন্ন করেন, যার মোট পরিমাণ ছিল ৪৩.৭০ লক্ষ টাকা। প্রথম লেনদেনটি ছিল ৭০,০০০ টাকার এবং সবচেয়ে বেশি পেমেন্ট ছিল ১১ লক্ষ টাকার। বিষয়টি পরে বুঝে সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই বৃদ্ধা। এরপর তদন্তকারীরা খোঁজ চালিয়ে বুঝতে পারেন, যে ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলিতে বৃদ্ধা পেমেন্ট করেছিলেন, সেগুলি ভারিন্দর পাল সিং, মদন কুমার, মঞ্জু জেনারেল স্টোর এবং আশাপুরা টি স্টলের নামে অন্তর্ভুক্ত। তবে প্রথমে মহিলা টাকা দিতে রাজি ছিলেন না। তবে এক পর্যায়ে, মহিলাকে ১৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল, যা না করলে তাঁকে গ্রেফতার করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এরপর ইঁদুরের গন্ধ পেয়ে তিনি একজন আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করে জানতে পারেন যে, তিনি ডিজিটাল জালিয়াতির শিকার হয়েছেন। এরপর তিনি অর্থ প্রদান বন্ধ করে দেন এবং পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশের মতে, প্রবীণ মহিলা প্রতারণার কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং তার টাকা ফেরত চাইছেন। দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন। নয়ডা পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখা একটি অভিযোগ দায়ের করেছে এবং এখন এই জালিয়াতির পিছনে থাকা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

বেহুলা লখিন্দরের কাহিনী বিজড়িত পুরাতন মালদার দেবকুন্ডকে ঘিরে গন্ধেশ্বরী মাতার পুজো

গণনায় শুধু কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী কেন?‌ সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূল, শনিবারই জরুরি শুনানি

প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালানো ইডি অফিসারকে বিশেষ পুরস্কার সংস্থার

বাণিজ্যিক গ্যাসের পরে এবার পেট্রল-ডিজেলের দাম লিটারপিছু ৪-৫ টাকা বাড়ছে?

চাকরি না পেয়ে আমেরিকায় আত্মঘাতী ভারতীয় তরুণ, অন্ধ্রে ছেলের দেহের অপেক্ষায় ঋণগ্রস্ত বাবা

উজ্জয়নের মহাকাল মন্দির চত্বর খুঁড়তেই মিলল একবিংশ শতাব্দীর বিশাল শিবলিঙ্গ

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ