দেখতে থাকুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

ধান্যকুড়িয়ার বল্লভ রাজবাড়ির দিঘির পাড়ে ঠাকুর – চাকরদের ঘরগুলি জঙ্গলে পরিণত হয়েছে

সুব্রত রায়,ধান্যকুড়িয়া:উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট লোকসভার অন্তর্গত ধান্যকুড়িয়ার বল্লভ রাজবাড়ি। যেটিকে স্থানীয়ভাবে ‘পুতুল বাড়ি’ বলা হয়। ঐতিহাসিক এবং স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন আছে এখানে। এই রাজবাড়িটি দ্বি-তল বিশিষ্ট এবং ছাদের উপর শোভা পাচ্ছে আকর্ষণীয় মূর্তি। যা ভারতীয় এবং ইউরোপীয় স্থাপত্যের অপূর্ব মিশ্রণ ও মেলবন্ধন। রাজবাড়ির(Rajbari) ভিতরে প্রবেশ করলে মিলবে এক বিশেষ অভিজ্ঞতা।রাজবাড়ির মধ্যে প্রবেশের জন্য একটি ছোট, সরু করিডোর পেরোতে হয়, যা একটি বড় উঠানের দিকে খোলে। উঠানের একপাশে রয়েছে বিশাল ঠাকুরদালান। সেই ঠাকুরদালানের মধ্যে রয়েছে বড় একটি ঝাড়বাতি। এই ঠাকুরদালান আর তার সৌন্দর্য এবং খোদাই করা জটিল স্থাপত্যে মনোমুগ্ধকর হতে হবে আপনাকে। সাদা ও সবুজ রঙে আঁকা এই বাড়িটি, অন্য সমসাময়িক রাজবাড়ির মতোই।

এর সযত্নে রক্ষিত অভ্যন্তরীণ শোভা এবং স্তম্ভগুলির ফ্রেস্কো দেখতে এককথায় অসাধারণ।রাজবাড়ির করিডোরে ঝুলছে জমিদার পরিবারের বিশাল ছবি। যা একসময়ের রাজকীয় ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করে। রাজবাড়ির প্রথম তলা পর্যন্ত হেঁটে, ইতিহাসের বাতাসে মোড়ানো পরিবেশটি আপনি পুরোপুরি অনুভব করতে পারবেন। এই রাজবাড়ির প্রতিটি কোণায় সময় যেন স্থির হয়ে রয়েছে, একটি গভীর নিস্তব্ধতার মধ্যে। তবে দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে হইহুল্লোড়ের মধ্যে আর ঢাকের বাদ্যর কাঠির আওয়াজে সেই নিস্তব্ধতা খুঁজে পাওয়া যাবে না।
যদিও গাইনে রাজবাড়ির নজর মিনারের মতো কোনো টাওয়ার নেই। তবুও বল্লভ রাজবাড়ির পুতুল বাড়ির পরিবেশ আলাদা মাত্রা বহন করে। এমন ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাওয়া আমাদের জীবনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যখন আমরা আধুনিকতার দিকে এগিয়ে চলেছি। কিন্তু ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না। কারণ অতীত ছাড়া বর্তমান বা ভবিষ্যৎ হয় না।ধান্যকুড়িয়ার বল্লভ বাড়ি প্রায় ২০০ বছর আগে শ্যামচরণ বল্লভ দ্বারা নির্মিত হয়েছিল।এই প্রাসাদের প্রধান টাওয়ারে থাকা পুতুলগুলি বিশেষভাবে নজর কাড়ে ।যা পাশ্চাত্য ডিজাইনের ঘরানা। এই কারুকার্যে রেলিং গুলি সজ্জিত। প্রতি বছরের মত এবারেও দুর্গাপুজোর আগে রঙ করা হয় এই ধান্যকুড়িয়ার প্রাসাদটিকে ।চমৎকার লোহার গেট এবং সেখানে ব্রিটিশ স্থাপত্যের ছোঁয়া দেখা যায়। প্রাসাদটিতে সুন্দর করিন্থিয়ান স্তম্ভ রয়েছে এবং ভবনের সামনের অংশে দোতলার করিডরের ওপরে জটিল স্টুকো কাজ করা রয়েছে।ছাদের প্রতিটি কোণে ইউরোপীয় পোশাক পরিহিত মূর্তিগুলি আছে।

প্রবেশপথের ঠিক উপরে একটি স্টুকো ময়ূর রয়েছে। যার ওপরে একটি মূর্তি রয়েছে। যা রোমান্স সেন্টুরিয়ন কমান্ডারের মতো দেখতে অনেকটা। যার মাথায় মুকুটের মতো শিরোভূষণ আছে। এই মূল মূর্তির দুপাশে দুটি পুরুষ মূর্তি রয়েছে। যাদের প্রত্যেকের গোঁফ এবং পাগড়ি পরা রয়েছে।স্থাপত্যশৈলীটি সেই ব্রিটিশ শাসনের যুগে ব্রিটিশ লর্ডদের প্রতি আনুগত্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রাসাদে কেউ বসবাস করে না বিশেষ। এই প্রাসাদ প্রমান বাড়িতে বর্তমানে একজন কেয়ারটেকার রয়েছেন । সেই কেয়ারটেকার এই প্রতিবেদককে জানান, তার বয়স যখন মাত্র আট বছর সে তখন তার বাবার হাত ধরে এই বাড়িতে এসেছিলেন। তার আগে তার বাবা এই বাড়ির কেয়ারটেকার(Caretaker) ছিলেন। একসময় এই বাড়ির ঠাকুর দালানে ত্রিপল খাটিয়ে প্রচুর মানুষকে খাওয়া দাওয়া করানো হতো। দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে বসত যাত্রাপালার গান। বড় বড় হ্যাজাক আলো জ্বলতো। কালের নিয়মে সব বদলেছে। পুজো হয় নিয়ম মেনে। এখন উজ্জ্বল আলোয় সেজে ওঠে এই ঐতিহাসিক প্রাসাদ প্রমাণ বল্লভ বাড়িটি(Ballav House)। গ্রামের মানুষজনদের খাওয়া দাওয়া করানোর রেওয়াজ উঠে গিয়েছে। পুরনো ঘরানা ধরে রাখতে হয় দেবীর আরাধনা।

কিন্তু প্রাসাদ প্রমান বাড়িটির পাশের দিঘি সহ ঠাকুর চাকরদের থাকার বাড়িটি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঘন জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। একদিকে যখন ঢাকের বাদ্যি বেজে ওঠে, তখন অপরপ্রান্তে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঘন জঙ্গলে ঝিঁঝিঁ পোকা দিনের বেলায়ও কর্কশ শব্দে ডাকতে থাকে অনবরত। পুরনো ইটের দেওয়াল গুলি অনেক কিছু বলতে চায়। কিন্তু কান পেতে সোনার মানুষের হয়তো অভাব। ইতিহাসের সাক্ষী এইসব বাড়িগুলি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধীরে ধীরে ধ্বংসাবশেষের পথে অনুগামী। কে ভাববেন এদের কথা? সেটাই এখন লাখো টাকার প্রশ্ন।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

ভোট শেষের পর এল ‘ভোটার স্লিপ’, বিএলও-কে আটকে চাঁচলে চলল বিক্ষোভ

‘‌তৃণমূল সেঞ্চুরি পার করে গিয়েছে’‌, অমিত শাহের দাবি নস্যাৎ করলেন অভিষেক

‘তৃণমূল সরকারের পর্যটনে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর মোদি’, ডোমজুড় থেকে তুলোধনা অভিষেকের

শান্তিনিকেতনে ধর্ষণের ঘটনায় আলোড়ন তুঙ্গে, ভোটের মরশুমে থানা ঘেরাও এলাকাবাসীর

ভোটার নন, তবু ভোটের কাজে! সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ বাংলার ৬৫ ভোটকর্মী

বিপুল শতাংশ ভোটদান পরিবর্তনের হাওয়া, মোদি–শাহের দাবি খারিজ করলেন ডেরেক

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ