এই মুহূর্তে




৩০০ বছর ধরে সিংহবাহিনী দেবী রূপে পুজিতা হয়ে আসছেন এই রাজবাড়িতে

নিজস্ব প্রতিনিধি : রথের দিন দুর্গা কাঠামোয় মাটি পড়ার পর থেকেই মুর্শিদাবাদের কাশিমবাজার রাজবাড়িতে শুরু হয়ে যায় পুজোর প্রস্তুতি। প্রথা মেনেই দুর্গাপুজো হয়ে থাকে রাজবাড়ির নাট মন্দিরে। ২০২৪ সালে এসেও বদলায়নি পুজোর রেওয়াজ। ঐতিহ্য ও বনেদিয়ানায় ভর করেই সিংহবাহিনী দেবী দুর্গা পুজিত হন রাজবাড়ির ঠাকুর দালানে। বনেদিবাড়ির এই পুজো প্রত্যক্ষ করতে দেশ বিদেশ থেকে অতিথিরা আসেন মুর্শিদাবাদে।

ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে জানা যায়, ১৯২৫ সালে কাশিমবাজারে রেশম, সিল্ক সহ বিভিন্ন ব্যবসা করতে আসতেন কমলারঞ্জন রায়। যদিও কাশিমবাজারে এই রায় পরিবারের শিকড় প্রায় ২০০ বছরেরও পুরনো। ১৬৯০ সালে বাংলা বিহার ওড়িশা বর্গী আক্রমণ হয়। সেই আক্রমণে রায় পরিবারের রেশম ব্যবসার ভিত নড়ে যায়। তখনই পদ্মা তীরের ফিরোজপুর ছেড়ে রায় পরিবার উঠে এসেছিল কাশিমবাজারে। সেই থেকে শুরু সিংহবাহিনী দেবীর পুজো।

একটা সময় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেন্দ্র কাশিমবাজারের খ্যাতিতেই বিশ্বজুড়ে মুর্শিদাবাদ বিখ্যাত ছিল। সপ্তদশ-অষ্টাদশ শতকে বঙ্গদেশের জগৎজোড়া খ্যাতির নেপথ্যেও ছিল বন্দরশহর কাশিমবাজার। শিক্ষা-সঙ্গীত-সাহিত্য-নাটক প্রসারে কাশিমবাজারের মহারাজা কৃষ্ণনাথ, তাঁর স্ত্রী রানি স্বণর্ময়ীদেবী ও নিঃসন্তান ওই দম্পতির ভাগ্নে মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দীর অবদান আজও অম্লান। তবে সেই রাজপরিবার আজ প্রায় বিলুপ্ত। রাজকীয় দুর্গাপুজোও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। বহরমপুর শহরের কাশিমবাজার এলাকার সেই ঐতিহ্য অবশ্য বহন করে চলেছে কাশিমবাজারের ছোট রাজবাড়ি।

ছোট রাজবাড়ির দুর্গাপুজোর বয়স প্রায় ৩০০ বছর। রথের দিন কাঠামো পুজো দিয়ে উৎসবের শুরু। এক চালির সপরিবার সাবেক দেবীমূর্তি। রাজবাড়ির মন্দিরে শুক্লা প্রতিপদ থেকে পঞ্চমী পর্যন্ত তিন জন পুরোহিত চণ্ডীপাঠ করেন। তিন জন দুর্গা নাম জপ করেন। প্রধান পুরোহিত বিল্ববৃক্ষের শাখার পুজো-পাঠ করেন।ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাস সম্পূর্ণ হয়। সপ্তমীতে ঘট ভর্তি করে মূর্তির প্রাণপ্রতিষ্ঠা করা হয়। পুরোহিত সোমেশ্বর চট্টোপাধ্যায় জানান, ‘সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীতে কুমারী পুজো ও সধবা পুজো হয়।’

অতীতে পুজোয় বলিদান প্রথা ছিল। পুরোহিত জানান, প্রায় ৪৪ বছর আগে রাজা কমলারঞ্জন রায়ের আমলে ঘাতকের অভাবে বলিদান প্রথা বাতিল করা হয়। সেই থেকে বলির অনুকল্প হিসাবে দেবীকে রুই মাছের ঝোল ও কাঁচা সন্দেশ নিবেদন করা হয়। তুলোর কাগজে হাতে লেখা ৪৫ পাতার নিজস্ব প্রাচীন পুঁথি থেকে মন্ত্র পড়ে পুজো দেওয়া হয়। সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীর তিন দিনই অন্নভোগ। সাদা ভাতের সঙ্গে থাকে ফ্রাইড রাইসও। ডাল-ভাতের সঙ্গে থাকে পাঁচ রকমের ভাজা, আলু-কপির দলমা, পাঁচ তরকারি, রুই মাছের ঝোল, শাক, চাটনি, মিষ্টি ও পায়েস। নবমীর দিন ভোগে সপ্তমী ও অষ্টমীর ভোগের মেনুর সঙ্গে যুক্ত হয় মোচার ঘণ্ট, লাউ-চিংড়ি ও ইলিশ মাছের ঝোল, ভাপা ও ভাজা। সন্ধিপুজোয় থাকে খিচুড়ি, আলু, বেগুন, পটল ভাজা ও মাছ ভাজা।

দশমীতে মহিলাদের সিঁদুর খেলা ও অপরাজিতা পুজো। দশমীতে প্রতিমা নিরঞ্জনের পর রাজবাড়ির সদস্যরা নাটমন্দিরে সমবেত হয়ে রাজ-পুরোহিতের আর্শীবাদ নেন।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন হুমায়ুন কবীর, সাসপেন্ডেড বিধায়কের দাবি কী?‌

হুমায়ুন কবীরকে কারা টাকার পাহাড় জোগাচ্ছেন, জানতে তদন্ত শুরু কেন্দ্রীয় আর্থিক গোয়েন্দাদের

বাবরি মসজিদের টাকা পাহারা দিতে বেসরকারি সংস্থার নিরাপত্তা রক্ষীদের ডাক হুমায়ুনের

হুমায়ুন কবীর ‘পাল্টি’ খেলেন, বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন না

হিন্দুদের বিরুদ্ধে জেহাদ! লক্ষ কণ্ঠে কোরান পাঠের আয়োজন করবেন মুসলিমদের নব্য মসিহা হুমায়ুন

তৃণমূল কংগ্রেসকে শিক্ষা দেওয়াই উদ্দেশ্য, স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন ‘বিদ্রোহী’ হুমায়ুন

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ