এই মুহূর্তে




ঢাকার মরণচাঁদের দই খেতে ভালবাসতেন সুচিত্রা সেন, অজানা তথ্য জানালেন বাংলাদেশের নায়ক

নিজস্ব প্রতিনিধি: ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি মারা গিয়েছেন কিংবদন্তি নায়িকা সূচিত্রা সেন। যার পরিচিতি হয়তো আলাদা করে দেওয়ার আমাদের সামর্থ্য নেই। ভারতীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। লেখা থাকবে স্বর্ণাক্ষরে তাঁর নাম। বিশেষ করে, মহানায়ক উত্তম কুমারের সঙ্গে সূচিত্রা সেনের অসাধারণ কেমিস্ট্রি আজও অমলীন। তাঁদের মতো হয়তো কেমিস্ট্রি গড়ার স্পর্ধা আর দেখাবেন না কেউই। শুধু বাংলা নয়, বলিউডেও অভিনেত্রী নাম কামিয়েছিলেন। কিন্তু তেমন সম্মান পাননি।

যাই হোক, শোনা যায়, উত্তমকুমারের মৃত্যুর পর সেই যে নিজেকে আড়াল করেছিলেন মহানায়িকা, এরপর মরণ খাটে চেপেই বাড়ির বাইরে বেরিয়েছিলেন সুচিত্রা সেন। দীর্ঘদিন মারণরোগে আক্রান্ত ছিলেন। তবে সুচিত্রা সেনের জন্ম কিন্তু সুদূর বাংলাদেশে। আজ মহানায়িকার মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে নিয়ে নিজের ছোটবেলার স্মৃতি তুলে ধরলেন বাংলাদেশের কিংবদন্তি নায়ক আলমগীর। জানালেন এককালে সুচিত্রা সেনের সঙ্গে দেখা করার জন্যে কতদূর পর্যন্ত গিয়েছিলেন তিনি। বালক বয়স থেকেই তিনি উত্তম-সূচিত্রাকে দুজনকে সামনাসামনি দেখার সুযোগ খুঁজতেন। কিন্তু উত্তমকুমারকে দেখার সুযোগ না হলেও সুচিত্রাদর্শন করেছেন তিনি, সেটাই যেন তাঁর কাছে চরম প্রাপ্য। তিনবার দেখেছেন। কিন্তু মরার আগে তাঁকে শুধু তাঁর মেয়ে, দুই নাতনি ছাড়া আর কেউ দেখেননি। 

বাংলাদেশে সফল হওয়ার পর একটি ছবির রিমেক করার জন্য অভিনেতা ১৯৮৯ সালে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার জন্য কলকাতায় যান। তখন সুচিত্রা সেনের সঙ্গে দেখা করার সুপ্ত বাসনা জানান অভিনেত্রী সন্ধ্যা রায়কে। সুচিত্রা সেনকে একনজর দেখার জন্যে তাঁর কাছেই সাহায্য চান আলমগীর। তিনি না করাতে পরে সুপ্রিয়া দেবীর কাছে সাহায্য চান আলমগীর। সুপ্রিয়া দেবীর বাড়িতে গিয়ে সুচিত্রা সেনের সঙ্গে দেখা করার আবদার করেন। তখন তিনিই বিনয়ের সঙ্গে সুচিত্রা সেনের সঙ্গে দেখা করার ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এরপরেও তাঁর দেখা হয় না।

এরপর তাঁর একজন বন্ধু তাঁকে পরামর্শ দেয় যে, সুচিত্রা সেনের বাড়ি গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করে আসো। এরপর বালিগঞ্জের সাকু‌র্লার রোডে সুচিত্রা সেনের বাড়িতে চলে যান তিনি। এরপর সুচিত্রা সেনের বাড়িতে ভিজিটিং কার্ডে লিখলেন, ‘দিদি, বাংলাদেশ থেকে এসেছি।’  সাড়া দিয়েছিলেন সুচিত্রা সেন, পরের দিন তাঁকে ফোন করতে বলেন। এরপর শুধু অপেক্ষা! এরপর তিনি ফোন করেন, এবং ফোনে শোনা যায়, ‘আমি তোমার দিদি বলছি।’ পাঁচ-ছয় মিনিট কথা বলার পর তিনি সুচিত্রা সেনের সঙ্গে দেখা করতে চান। এরপর ১৫-২০ দিন অপেক্ষা করানোর পর কোনও ৩১ ডিসেম্বর ১৫ মিনিটের জন্যে দেখা করার কথা বলেন সুচিত্রা, সঙ্গে তিনটি শর্তও জুড়ে দিলেন। অন্য কাউকে সঙ্গে আনা যাবে না। কোনো ক্যামেরা অ্যালাউড না। কোনো ব্যক্তিগত প্রশ্ন করা যাবে না। এরপর চলে গেলেন তার বাড়ি। ২০ ফুট দূরত্ব থেকেই দুই হাত জোর করে নমস্কার ভঙ্গিতে আলমগীরের সঙ্গে দেখা করতে আসেন সুচিত্রা। 

এরপর তাঁদের মধ্যে অনেক কথোপকথন হয়, বাংলাদেশের তারকাদের সম্বন্ধে জানতে চান। এবং আলমগীরকে ভাই পাতিয়ে নেন। জানান তাঁর কাছে ছোট-বড় কেউ গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিনি সবাইকে এক চোখে দেখেন। এরপর ছোট ভাই আলমগীরকে বলেন এরপর যখন তাদের দেখা হবে, যেন বাংলাদেশের মরণচাঁদের দই খাওয়ায় তাঁকে। পরের মাসে শুটিং করতে কলকাতায় যাওয়ার সময় দিদির জন্য মরণচাঁদের দই নিয়ে এসেছিলেন আলমগীর। তারপর ফোনে দিদিকে দইয়ের কথা জানাতেই তিনি ফ্রিজে রাখতে বলেন। এরপর বেরিয়ে যান। পরে আরও একবার তাঁর সঙ্গে দেখা হলে সুচিত্রা সেন দই-এর বিষয়ে তাঁকে বলেন খুব ভালো। সেদিন লম্বা আড্ডা হয় তাদের, কিন্তু শেষবার যখন দই আনার কথা বলেন তখন সুচিত্রা নিজেই তাকে দই আনতে না করেন এবং বলেন দই খেলে তার অসুবিধা হচ্ছে। আর আনতে না করেন। এরপর আর দেখা হয়নি আলমগীরের সঙ্গে সুচিত্রা সেনের।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

অসম্পূর্ণ রেখেই শেষ হয়েছে শ্রীকান্তের কাহিনী, কবে আসছে ‘দ্য ফ্যামিলি ম্যান’ সিজন 4?

৩২ ঘন্টার চেষ্টা ব্যর্থ, বাঁচানো গেল না রাজশাহীতে ৪০ ফুট কুয়োয় পড়ে যাওয়া শিশুকে

‘ভারত থেকে খুনের হুমকি পাচ্ছি’, দাবি খুলনার জামায়াত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দীর

‘মিকা আগে ভাল গাইত না, আমার এক চুমুতেই তাঁর কন্ঠ সুরেলা হয়েছে’, বিস্ফোরক রাখি সাওয়ান্ত

বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি, গণনা কবে?

কাজের খাতিরে পাকিস্তান যাবেন? আলিয়ার জবাবে তোলপাড় নেটপাড়া

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ