চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

মন্দিরে প্রবেশাধিকার নেই, নিজের গ্রামে আজও জাতিবিদ্বেষের শিকার ‘পঞ্চায়েত’ অভিনেতা

নিজস্ব প্রতিনিধি: কর্ণাটকে নিজের গ্রামেই জাতিভেদ প্রথার শিকার ‘পঞ্চায়েত’-খ্যাত অভিনেতা বিনোদ সূর্যবংশী। সেখান থেকে উঠেই বলিউডে এখন প্রতিষ্ঠিত তিনি। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে শৈশবের সেই যন্ত্রণার কথা তুলে ধরেছেন অভিনেতা। ‘পঞ্চায়েত’-এ ছোট্ট চরিত্রে অভিনয় করলেও দারুণ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন তিনি। কিন্তু শৈশবের সেই ভয়াবহ দিনগুলি এখনও তাঁকে কুড়ে কুড়ে খায়। নিজ গ্রামে জাতিভেদ প্রথার ভয়াবহতার শিকার হয়েছিল তাঁর পরিবার। সুতরাং একজন নিরাপত্তাকর্মী থেকে জুনিয়র আর্টিস্ট হয়ে বলিউডের বড় বড় প্রকল্পে সুযোগ পাওয়ার যাত্রাটি তাঁর পক্ষে সাধারণ ছিল না। যদিও চেহারার কারণে বলিউডেও একাধিকবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন তিনি।

ইউটিউবার সিদ্ধার্থ কান্নানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিনোদ সূর্যবংশী জানিয়েছেন, ‘কর্ণাটকে আমার গ্রামে আজও জাতিভেদ প্রথা প্রচলিত আছে। ওই গ্রামে দুটি এলাকা আছে। একটি উচ্চবর্ণের জন্যে এবং অন্যটি নিম্নবর্ণের জন্য। দলিতরা যেখানে থাকে, সেই এলাকা টি গ্রাম থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। একবার বাবার সঙ্গে ধনীদের এলাকায় গিয়েছিলাম, তখন আমার বয়স ছিল ১২ বছর। একটি হোটেলে খেয়েছিলাম, সেখানে আমাদের নিজেদের থালাবাসন ধুতে হয়েছিল এবং খাবারের দামও দিতে হয়েছিল। আমার গ্রামে এখনও এমন একটি মন্দির আছে যেখানে আমাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না।’ এরপর বলিউডে প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে তিনি জানালেন, ‘আমার গায়ের কালো রঙের কারণে আমাকে বলিউডে বহুবার প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। আমি টিভির জন্য অডিশন দিয়ে ছিলাম, কিন্তু তারা সবসময়ই ‘ধনী চেহারার’ তথা সুন্দর দেখতে লোকজন খুঁজত। এমনকি একজন ভিক্ষুকের চরিত্রের জন্যও তারা ধনী চেহারার কাউকে চাইত। আমাকে একবার গৃহকর্মীর চরিত্রে নির্বাচিত করা হয়েছিল। কাস্টিং টিমও আমাকে চূড়ান্ত করে ফেলেছিল। সেইমতো আমি শুটিংয়েও সময়মতো পৌঁছে গিয়েছিলাম। কিন্তু যখন ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর এলেন, তিনি আমার কথা গায়ের রঙ দেখে রিজেক্ট করে দিল। বলেছিল, আমাদের ফর্সা চেহারার কাউকে দরকার। ওর গায়ের রঙ কালো, ওকে বাদ দিন’।

এরপর শৈশবের দিনগুলিকে স্মরণ করে বিনোদ জানান, সুবিধাবঞ্চিত পরিবারে জন্ম হওয়ার কারণে শৈশবে আমাদের খুব কষ্টে কেটেছে। আমার মা লোকের বাড়িতে বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন এবং বাবা ছিলেন রাজমিস্ত্রি। তিনি প্রতিদিন কাজ পেতেন না, আর যখন পেতেন না, তখন মদ খেয়ে মাতাল হয়ে বাড়ি ফিরতেন। আমার শৈশবের পরিবেশ ভাল ছিল না। আমার বাবা আমার মাকে গালিগালাজ করতেন, এমনকি মারধরও করতেন। এই সবকিছু দেখে আমি বড় হয়েছি। এটা খুবই খারাপ লাগত। কিন্তু আমি তাকে ঘৃণা করতাম না, কিন্তু তার আচরণ আমার পছন্দ ছিল না।’ পঞ্চায়েত- এর কথা বলতে গেলে , এটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোর অন্যতম জনপ্রিয় একটি শো, যেখানে জিতেন্দ্র কুমার, নীনা গুপ্তা, রঘুবীর যাদব প্রমুখ প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন। পঞ্চায়েত ছাড়াও বিনোদ ঠাম্মা, সত্যমেব জয়তে, জলি এলএলবি ৩-এর মতো একাধিক ছবিতে ছোট চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

টলিপাড়ায় ফের শোকের আবহ, শুটিংয়ের মাঝে আচমকাই প্রযোজকের মৃত্যু

রাজেশ খান্নার সমুদ্রমুখী বাংলো ‘আশীর্বাদ’ ৯০ কোটিতে বিক্রি, ক্ষোভ প্রকাশ মুমতাজের

সলমানের পর সুরজ বরজাতিয়ার আইকনিক ‘প্রেম’ চরিত্রে এবার আয়ুষ্মান, জুটিতে শর্বরী

হঠাৎ ‘কৃষ ৪’-র কাজ বন্ধ করলেন হৃতিক! কী জানালেন অভিনেতা?

বাবার হাত ধরে বলিউডে হাতেখড়ি, ‘রাজা শিবাজী’-তে বিশেষ চমক রীতেশ-পুত্র রাহিলের

দাদুর মৃত্যুতে শোকাহত ‘সাইয়ারা’-র অনীত পাড্ডা, সোশ্যাল মিডিয়ায় যা লিখলেন অভিনেত্রী…

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ