মহাভারত রচয়িতা কৃষ্ণদ্বৈপায়নের জন্ম রহস্য জানেন কী ?

Share:

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : হিন্দু পৌরাণিক শাস্ত্র, দর্শন, বেদব্যাখ্যা এবং মহাকাব্য রচনার ইতিহাসে ব্যাসদেব এক অনন্য ও শ্রদ্ধার্হ নাম। কৃষ্ণদ্বৈপায়ন, বেদব্যাস বা সংক্ষেপে ব্যাস—এই তিন নামেই তিনি বহুল পরিচিত। তিনি ছিলেন ঋষি বশিষ্ঠের প্রপৌত্র, শক্তি মুনির পৌত্র এবং পরাশর মুনির পুত্র। তাঁর মহা ঔরসে জন্ম নিয়েছিলেন অন্যতম শ্রেষ্ঠ বৈরাগ্যবান ঋষি শুকদেব। বেদসংহিতা, মহাভারত রচনা এবং বেদান্তদর্শনের সমন্বয়ে মহর্ষি ব্যাসের অমর অবদান ছিল। তবে জানেন কী? মহাভারতে অস্ত্রগুরু দ্রোণ যেমন অযোনিজ ছিলেন, তেমনই বহু পৌরাণিক বর্ণনা অনুসারে ব্যাসদেবের জন্ম কাহিনী অত্যন্ত রহস্যময়, তপস্যাময় ও অলৌকিকতার আবহে ভরা।

কথিত আছে, একদিন পরাশর মুনি যমুনা নদী পার হতে নৌকা ধরেছিলেন। নৌকাটি বাইছিলেন এক নম্র, তরুণী অপরূপা মাঝি-কন্যা সত্যবতী। তবে তাঁর শরীরে মাছের গন্ধ ছিল, ফলে তিনি ‘মৎস্যগন্ধা’ নামে পরিচিতা ছিলেন। নৌকা বাওয়া কালে তাঁর রূপ, সততা ও স্বভাবের সৌন্দর্য পরাশর মুনিকে অত্যন্ত আকর্ষণ করেছিল ও মুনির মনে কাম ভাব জাগিয়ে তুলেছিল। অতঃপর মুনি সত্যবতীকে মিলনের প্রস্তাব দিলে সত্যবতী প্রথমে লজ্জা ও সামাজিক ভয়ের কারণে দ্বিধাবোধ করেন। তিনি জানান, দিনের আলোয় নদীর মাঝখানে এমন কিছু ঘটলে লোকসমাজ তাঁকে অসম্মান করবে।

পরাশর তখন তাঁর তপস্যার শক্তিতে যমুনার ওপর ঘন কুয়াশা সৃষ্টি করেন, যাতে কেউ তাঁদের দেখতে না পারে। সত্যবতীর দ্বিধা দূর করতে মুনি আরও দুটি বরপ্রদান করেন—মিলনের পরও তাঁর কুমারীত্ব অক্ষুণ্ণ থাকবে এবং তাঁর শরীর থেকে মাছের গন্ধ দূর হয়ে যাবে, বরং একটি দিব্য সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়বে। এই বর ও আশ্বাসে সত্যবতী মহর্ষির সাথে মিলনে রাজি হন।

তাঁদের মিলনের কিছু কাল পরে যমুনার একটি ছোট দ্বীপে জন্ম নেন এক অসাধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন শিশু—এই দ্বীপেই জন্মানোর কারণে তাঁর নাম হয় দ্বৈপায়ন, আর গাত্রবর্ণ কৃষ্ণবর্ণ হওয়ায় নামের সঙ্গে যুক্ত হয় কৃষ্ণ। পরবর্তীকালে তিনিই পরম জ্ঞানী, শাস্ত্র-সংকলক ও মহাভারতের রচয়িতা কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস নামে পরিচিত হন। জন্মের পর খুব অল্প বয়সেই তিনি মায়ের অনুমতি নিয়ে চলে যান তপস্যার উদ্দেশ্যে বদরিকাশ্রমে—যেখানে তিনি ‘বাদরায়ণ’ নামেও প্রসিদ্ধ হন।

জনশ্রুতি মতে, ব্যাসদেব বেদকে চার ভাগে বিভক্ত করেছিলেন, ফলে তাঁর নামের আগে বেদ শব্দ যুক্ত হয়। এছাড়া তিনি বহু পুরাণ সংকলন, জীবন দর্শনের মর্ম ব্যাখ্যা এবং মহাভারতের মতো মহাকাব্য রচনা করেন—যা এই দেবসদৃশ মহাঋষির অমর কীর্তি হয়ে রয়ে যায়। তাঁর জন্মের অলৌকিকতা যেমন বিস্ময়কর, তেমনই তাঁর জ্ঞান ও অবদান আজও হিন্দুধর্মের ভিত্তিকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে রেখেছে।

মীনাক্ষী নটরাজনের প্রার্থীপদ খারিজের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ কংগ্রেস

১৭ বছরে রুপোলি পর্দায় আত্মপ্রকাশ, কত টাকা সম্পত্তি রয়েছে অভিষেক ঘনিষ্ঠ সায়নীর

গল্প নয় সত্যি, ৩৭ হাজারেরও বেশি ছাড়ে মিলছে Samsung Galaxy S25 স্মার্টফোন

আলিপুরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা পরিষদের কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের

ইরানজুড়ে আছড়ে পড়ল আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র, পাল্টা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল তেহরান

স্মার্টওয়াচ নাকি ট্র্যাডিশনাল ঘড়ি? জেনে নিন প্রতিদিনের জীবনযাত্রার জন্য কোনটি বেশি উপযুক্ত

১০ সেকেন্ডের পালস টেস্টেই ধরা পড়তে পারে লুকিয়ে থাকা হৃদরোগের ঝুঁকি

১৬ জুনের পর ঘুরবে ভাগ্যের চাকা, ৪ রাশির জাতকদের জীবনে আসছে বড় পরিবর্তন!

‘ইরানের উপর ভয়ঙ্কর হামলা হবে’, চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ওমান উপকূলে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে মার্কিন হামলা, নিখোঁজ তিন ভারতীয় নাবিক

‘এনডিএ সরকার আসার পরে দেশের ভাগ্য বদলেছে’, দাবি মোদির

মঙ্গলের কৃত্তিকা নক্ষত্রে গোচর, কর্মক্ষেত্রে উন্নতি ৪ রাশির জাতকদের

তেলবাহী ট্যাঙ্কারে মার্কিন হামলার জের, নিখোঁজ তিন ভারতীয় নাবিক, ক্ষুব্ধ নয়াদিল্লি

মালদহতে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের রাখতে হোল্ডিং সেন্টারের সংখ্যা বেড়ে হল ৩