কালের ন্যায়চক্রে শ্রীরামের পূর্বপুরুষকে হত্যা করার ফলই পেতে হয়েছিল রাবণকে

Share:

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : ভারতীয় পৌরাণিক সাহিত্যে রাবণ এক ঐতিহ্যশালী অতিশক্তিশালী রাক্ষস চরিত্র। তিনি ছিলেন লঙ্কাধিপতি, যিনি ব্রহ্মার আশীর্বাদে হয়ে উঠেছিলেন বলীয়ান। দিগ্বিজয়ের বাসনায় একের পর এক রাজা-মহারাজা ও দিকপালদের পরাজিত করতে থাকেন তিনি। তাঁর অসীম শক্তির কাছে দুষ্মন্ত, সুরথ, গাধি, গয়, পুরূরবা প্রভৃতি কিংবদন্তি রাজারা পরাজয় স্বীকার করলেও  উচ্চাকাঙ্খী মোহাচ্ছন্ন রাবণের জয়যাত্রা তখনও পূর্ণ হয়নি—কারণ তার পরবর্তী লক্ষ্য ছিল মহারাজা অনরণ্যের অযোধ্যা, যিনি ছিলেন শ্রীরামের পূর্বপুরুষ।

কথিত আছে, অযোধ্যায় এসে রাবণ অনরণ্যের কাছে দুটি বিকল্প রেখেছিলেন। হয় যুদ্ধ অথবা নিঃশর্ত পরাজয় স্বীকার। মহাবীর অনরণ্য রাবণের ঔদ্ধত্যে ক্রুদ্ধ হয়ে যুদ্ধকেই বেছে নিয়েছিলেন। অযোধ্যার বিশাল বাহিনী সমুদ্রের মতো গর্জন তুলে রাবণের রাক্ষস সেনাদের উপর আক্রমণ চালায়। শুরুতে অনরণ্য রণক্ষেত্রে অদম্য সাহস ও বিক্রম প্রদর্শন করেন। রাবণের মন্ত্রী শুক-সারণ, প্রহস্ত প্রমুখ একে একে অনরণ্যের কাছে পরাজিত হয়। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই রাবণের অতিপ্রাকৃত শক্তি এবং রাক্ষসসেনার যুদ্ধকৌশলের কাছে অনরণ্যের সৈন্যবাহিনী ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়।

অবশেষে অনরণ্য একাই রাবণের মুখোমুখি হন। রাবণের মস্তক লক্ষ্য করে একসাথে আটশ তীর নিক্ষেপ করেন, কিন্তু ব্রহ্মার বর প্রাপ্ত রাবণ একটুও ক্ষতিগ্রস্ত হন না। বিপরীতে ক্রুদ্ধ রাবণ অনরণ্যের মস্তকে নিজের গদা দিয়ে প্রচণ্ড আঘাত করলে অনরণ্য রথ থেকে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ও মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে তিনি রাবণকে অভিশাপ দিয়েছিলেন, “রাবণ! কালকে অতিক্রম করা কারও পক্ষে সম্ভব নয়। তুমি নিজেকে শক্তিশালী ভাবছ, কিন্তু কালই আমাকে পরাজিত করেছে, তুমি শুধু তার নিমিত্ত। আমি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করিনি। যদি আমি যথাযথভাবে প্রজাপালন করে থাকি এবং সদা সত্যনিষ্ঠ থাকি, তবে এই ইক্ষ্বাকুকুলেই ভগবান বিষ্ণু রামচন্দ্র রূপে দশরথের পুত্র হিসেবে জন্মগ্রহণ করবেন, এবং তাঁর হাতেই তোমার মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী।”

অনরণ্যের এই অভিশাপ শুনে রাবণ যদিও তা তুচ্ছ করে দেখান, কিন্তু মনে মনে যথেষ্ট শঙ্কিত হয়ে পড়েন।  অনেক বছর পর, লঙ্কার যুদ্ধে প্রথমবার রাম-রাবণের মুখোমুখি সংঘর্ষে রাবণ রামের কাছে পরাজিত হলে, অনরণ্যের সেই অভিশাপই তাঁর মনে পড়ে যায়। তখন তিনি উপলব্ধি করেন, ভাগ্যের ফাঁস থেকে কেউ মুক্ত নয়। পুরাণ অনুসারে অনরন্যের পুত্র ছিলেন ক্ষত্ঙ্গ, তাঁর পুত্র দিলীপ, দিলীপের পুত্র রঘু, রঘুর পুত্র অজ এবং অজ’র পুত্র ছিলেন দশরথ, যিনি শ্রীরামের পিতা।

এই ঘটনাটি রামায়ণে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে, যা প্রমাণ করে যে দম্ভ ও অহংকার নিয়ে অন্যায়ের পথে চললে শেষ পর্যন্ত তার শাস্তি অনিবার্য। অনরণ্যের বীরত্ব ও শেষ মুহূর্তের অভিশাপ রাবণের অবধারিত পরাজয়ের পূর্বাভাস দেয়। এ কাহিনী আমাদের শেখায়, শাসক হিসেবে সত্য, ন্যায় ও প্রজাদের সেবা করার মধ্যেই প্রকৃত মর্যাদা নিহিত, আর অন্যায়ের পথ যতই শক্তিশালী হোক না কেন, ন্যায়ের কাছে একদিন সে পরাজিত হতেই হবে। শ্রীরামের হাতে রাবণের বধই অনরণ্যের সেই অমোঘ অভিশাপের বাস্তব রূপ, যা কালজয়ী ন্যায়েরই প্রতীক।

 

কিছুক্ষণের মধ্যেই ধেয়ে আসছে কালবৈশাখী! কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে প্রবল বৃষ্টির পূর্বাভাস

আফগানিস্তানে নৃশংস হামলা পাক সেনার, নিহত ১১ নিরীহ শিশুসহ ১৩

২০ হাজার টাকার কমে নতুন স্মার্টফোন! জুলাইতেই আসছে OnePlus Nord CE 6

বাহরাইনে আমেরিকার পঞ্চম নৌবহরে হামলা ইরানের

iQOO থেকে OnePlus Nord, জেনে নিন কোন ফোনে কত ডিসকাউন্ট মিলছে অ্যামাজনে?

ভারতের শেষ প্রান্তে স্বর্গ! ঘুরে আসুন হিমালয়ের লেহ-লাদাখ

নেহেরুকে ছাপিয়ে এক অনন্য রেকর্ড গড়লেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

জরায়ু ক্যান্সারের এই ৬ লক্ষণকে হালকাভাবে নেবেন না, সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা

ত্রাণ পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার রাজ্যের প্রাক্তন কারা মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস

ইতিহাস ১১ বাঙালি যুবকের, ২১ বছর পর ওয়ানডে-তে বাংলাদেশের কাছে হার অস্ট্রেলিয়ার

২০০ বছরে প্রথম, লর্ডসের পিচকে ‘অসন্তোষজনক’ আখ্যা জয় শাহের আইসিসির

মাইগ্রেন নাকি ব্রেন টিউমার? মাথাব্যথার পার্থক্য বোঝার দাওয়াই বাতলালেন স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ

ফ্যাশন শিল্পে বিশেষ অবদান, জানেন ভারতের ‘ডেনিম ক্যাপিটাল’ কোন শহর?

মৃত মানুষের জুতো ব্যবহার করা উচিত? কী ক্ষতি হতে পারে জানুন…