এই মুহূর্তে




কথা দিয়েও বেহালা পশ্চিমের জনতা দরবারে গেলেন না, জেলমুক্তির এক সপ্তাহ পরেও গৃহবন্দি পার্থ

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ জেলমুক্তির এক সপ্তাহ পার। নাকতলা বাসভবন বিজয়কেতনেই রয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। জেলমুক্তির পর প্রথম দুদিন পরিচিত এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করলেও গত বৃহস্পতিবার থেকে পুরোপুরি গৃহবন্দি বেহালার পাঁচবারের বিধায়ক। অথচ বাড়ি ফেরার দিনেই পার্থ সর্বসমক্ষে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি বেহালা পশ্চিমে নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের পশ্চিমে পা রাখবেন। এবং বিচার চাইতে সেখানকার মানুষজনের সঙ্গে দেখা করবেন। আর তাতেই প্রশ্ন উঠেছিল, তবে কী আগামী বিধানসভা নির্বাচনের পথ প্রশস্ত করছেন তিনি? আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বেহালা পশ্চিম থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুতালি পাকানো শুরু করে দিলেন তিনি? নয়তো জেলমুক্তির পরেই এত সক্রিয় তা কেন? এও গুঞ্জন উঠেছিল যে, পার্থ তৃণমূলের টিকিট না পেলে নির্দল প্রার্থী হয়েই কী লড়বেন? এমনকী চর্চা উঠতেই পার্থর নামে ‘দুয়ারে বিধায়ক’ লিফলেট ছড়িয়ে দিয়েছিলেন অনুগামীরা। কিন্তু কোথায় পার্থ? কেননা গত কয়েকদিন ধরেই তিনি বেপাত্তা। নিজেকে একেবারে গুটিয়ে নিয়েছেন পার্থ। খুব ঘনিষ্ঠ ছাড়া কারও সঙ্গে দেখাও করছেন না। ফোনও ব্যবহার করছেন না। প্রয়োজনে পরিবারের কারও ফোন থেকে কথা বলছেন অন্যদের সঙ্গে।

কিন্তু কেন গৃহবন্দি পার্থ? তার শরীর ঠিক আছে তো? অনুগামীদের বাড়িতে অযথা ভিড় করতেও নিষেধ করেছেন পার্থের আত্মীয়- পরিজনেরা। এদিকে তিনি বলেছিলেন, আর কয়েক দিনের মধ্যেই নিজের ম্যান্টনের কার্যালয়ে থেকে বিধায়ক হিসাবে কাজকর্ম শুরু করবেন তিনি। সেই আশায় বেহালা ম্যান্টনের অফিসে অল্পবিস্তর ভিড় জমতে শুরু করেছিল। কিন্তু পার্থর অনুপস্থিতিতে ভিড় পাতলা হয়ে গিয়েছে। এবং অনুগামীদের বিধায়ক কার্যালয়ে ভিড় না জমানোর নির্দেশ দিয়েছেন পার্থ। তবে তাঁর একজন অনুগামী আশ্বাস দিয়েছেন যে, দিন কয়েক বাদেই পার্থ ওই এলাকার কাজকর্মে হাত দেবেন। তবে এ বিষয়ে একটু বিরক্ত প্রকাশ করে দক্ষিণ কলকাতা জেলা তৃণমূলের এক বর্ষীয়ান নেতা জানিয়েছেন, ‘বেহালা পশ্চিমের মানুষ পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ভালবাসায় ভরিয়ে দিয়েছেন। তাঁর পরিচিতি থেকে শুরু করে জীবনের সব প্রাপ্তি বেহালা পশ্চিম থেকেই।

দল থেকে সাসপেন্ড হলেও, তাকে বেহালা পশ্চিমের মানুষ সাসপেন্ড করেননি। তাই পার্থদার উচিত, জেলমুক্তির পর শুধুমাত্র লিফলেট বিলি না করে, নিজে এসে বেহালা পশ্চিমের মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়া দীর্ঘদিন তাঁর অনুপস্থিতির জন্যে।’ নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত হয়ে জেলে থাকাকালীন গত তিন বছর তিন মাস বেহালা পশ্চিমের জনতা বিধায়কের থেকে কোনও পরিষেবা পায়নি। যা কেনার ভাল চোখে দেখছেন না বেহালা পশ্চিমের মানুষ। এদিকে পার্থ জেলমুক্তির দিনেই জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তিনি নিজের বিধানসভা কেন্দ্রেই নয়, বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনে যোগদান করে এক দিন বক্তৃতা রাখতে চান। তবে এখনও বিধানসভায় নিজের মুক্তির বিষয়ে কোনও খবর দেননি পার্থ। পাশাপাশি গ্রেফতারির কারণে বিধায়ক হিসাবে তাঁর বেতনও বন্ধ। কিন্তু সেই বেতন চালু করতে পার্থকেই বিধানসভার সচিবালয়ে আবেদন করতে হবে।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

অসুস্থ ছেলের ওষুধ আনতে গিয়ে সব শেষ, নড়বড়ে সেতু পার হতে গিয়ে নদীতে ডুবে মৃত্যু ব্যক্তির

মেসির সফরের মূল উদ্যোক্তা গ্রেফতার হওয়ার পরই পাকড়াও করার দাবি তুললেন রাজ্যপাল, মাঠে নামল বিজেপি

ফুটবল তারকা মেসির সফরের উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত কে?

‘ব্যর্থতা’ আড়ালে বিমানবন্দর থেকে মেসির সফরের মূল উদ্যোক্তা শতদ্রুকে গ্রেফতার করল পুলিশ

যুবভারতীতে অশান্তি পাকানোর ষড়যন্ত্রের খবর জেনেও সতর্কমূলক ব্যবস্থা নেয়নি বিধাননগর পুলিশ!

নলেন গুড়ের সন্দেশের ‘মেসি মূর্তি’, ফুটবলের রাজপুত্রকে বিশেষ উপহার ফেলু মোদকের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ