এই মুহূর্তে

জ্ঞানেশের নিশানায় মুসলিমরা, বসিরহাটে বাদ বিএলও–সহ সমস্ত সংখ্যালঘুরা

নিজস্ব প্রতিনিধি:‌ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বুথস্তরের সংগঠন কার শক্তিশালী?‌ এই প্রশ্ন এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। কারণ একদিকে বিজেপি নেতারা বলছেন, তাঁরা এবার ক্ষমতায় আসবেই। তাই তাঁরা আত্মতুষ্টিতে রয়েছে। অপরদিকে বুথস্তর সংগঠন শক্তিশালী করে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। ভোটের উত্তাপ টের পাওয়া যাচ্ছে চায়ের দোকান, আড্ডার ঠেকে। বিশেষ করে চায়ের দোকানগুলিতে সকাল, সন্ধ্যা নিয়ম করে ভোট–চর্চার আসর বসছে। আর সেখানেই এবার চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল বসিরহাট উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র। এখানের একটিমাত্র বুথের ৩৪০ জন ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার ঘটনায় ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। যা নিয়ে এখন চর্চা তুঙ্গে উঠেছে।

এদিকে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বসিরহাট–২ ব্লকের বিবিপুর–বেগমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বড় গোবরার ৩৪০ জন সংখালঘু ভোটারের নাম ছিল বিচারাধীন। সোমবার সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশিত হতেই দেখা গেল, বাদ পড়েছে সকলের নাম। এমনকী খোদ বিএলওর নামও হয়েছে ডিলিটেড! এই নিয়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের অভিযোগ, বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে মুসলিমদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। আর নির্বাচন কমিশন বলছে, আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। পরিস্থিতি আরও তীব্র আকার ধারণ করে, যখন জানা গেল যে—বুথস্তরের আধিকারিক মহম্মদ শফিউল আলমের নামটিও মুছে ফেলা নামগুলির তালিকায় রয়েছে। এই গণ–বাদ পড়ার ঘটনার প্রতিবাদে শতাধিক বাসিন্দা ওই আধিকারিকের বাড়িতে এবং স্থানীয় রাস্তাঘাটে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাঁরা অভিযোগ করেন, তাঁদের নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের সদস্য হওয়ার কারণেই সুপরিকল্পিতভাবে তাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে বাদ পড়া বাসিন্দা তথা ভোটাররা এবং স্থানীয় কর্তারা নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। মহম্মদ শফিউল আলম উল্লেখ করেন যে, বসিরহাট ব্লক–২–এর বিডিও’‌র কাছে সমাধানের খোঁজে তিনি বারবার প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। কিন্তু জবাবে তাঁকে জানানো হয় যে এই বিষয়ে আর কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব নয়। এখন ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারকে কোনওভাবেই পাওয়া যাচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্ত এক ভোটার কাজিরুল মণ্ডল বলছেন, যদিও নির্বাচন কমিশন ১১টি বৈধ নথির মধ্যে মাত্র একটি জমা দেওয়াই যথেষ্ট বলে নির্ধারণ করেছিল তারপরও অনেকে তিন–চারটি নথি জমা দেওয়া সত্ত্বেও তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট কিছু দলীয় দাবি মেটাতে নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক প্রভাবে প্রভাবিত হয়েই এই পদক্ষেপ করেছে।

তাছাড়া বসিরহাট ব্লক–২–এর বেগমপুর বিবিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে ৫ নম্বর বুথকে কেন্দ্র করে গোলমাল বাঁধে। যেখানে মোট ৯৯২ জন নথিভুক্ত ভোটার রয়েছেন। যদিও মৃত্যু কিংবা স্থানান্তরের কারণে ৩৮টি নাম তালিকা থেকে বাদ পড়াটা ছিল একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবুও মোট ৩৫৮ জন ভোটারকে তাঁদের ভোটাধিকারের বৈধতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে শুনানির জন্য তলব করা হয়েছিল। যদিও এই বিষয়গুলির মধ্যে ১৮টি নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছিল খসড়া তালিকায়। তবুও অবশিষ্ট ৩৪০টি নাম ২৩ তারিখে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত বিচারাধীন প্রক্রিয়ার অধীনে রাখা হয়েছিল। আর প্রকাশিত হতেই সেই নামগুলির সবকটিকে ‘বাতিল’ তালিকায় স্থানান্তরিত করা হয়। নামগুলি বেছে বেছে সরিয়ে ফেলা হয় বলে অভিযোগ।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

‘‌বাংলায় বুলডোজার মডেল চলবে না’‌, নির্বাচন কমিশন–বিজেপিকে বিঁধলেন অভিষেক

মালদায় বিএসএফের জালে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী

ফের মেট্রো বিভ্রাট! ক্ষুদিরাম থেকে দক্ষিণেশ্বরগামী ট্রেন থমকে কালীঘাট স্টেশনে,ভোগান্তিতে যাত্রীরা

করিমপুরে প্রচারে জোর তৃণমূলের, গ্রামে গ্রামে ঘুরে জনসংযোগে অভিনেতা সোহম

তৃণমূলের অভিযোগে সিলমোহর, স্ত্রী বিজেপি নেত্রী হওয়ায় স্বামী পুলিশ পর্যবেক্ষককে সরাল কমিশন

মাস্টারস্ট্রোক তৃণমূলের, মমতার সঙ্গে ছবি তোলার অভাবনীয় সুযোগ ভবানীপুরের ভোটারদের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ