Per Day ৩০ লক্ষ, করেছেন কী কেষ্ট! স্তম্ভিত সিবিআই

সিবিআই আধিকারিকেরা দাবি করেছেন, বর্তমানে কেষ্টবাবার নিত্যদিনের আয় ৩০ লক্ষ টাকা। মাসে ৯ কোটি। বছরে ১০৮ কোটি।

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: আদালতের নির্দেশে বাংলার বুকে গরু পাচার কাণ্ডে তদন্তে নেমেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআইয়ের(CBI) আধিকারিকেরা। সেই তদন্তেই নাম জড়িয়েছে বীরভূমের(Birbhum) দুর্দন্ডপ্রতাপশালী নেতা তথা তৃণমূলের(TMC) জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের(Anubrata Mondol) নাম। অনুব্রত মণ্ডলের দেহরক্ষী সায়গল হোসেনের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে ১০০ কোটি টাকার নগদ, সোনা ও সম্পত্তির হদিশ। সেই সম্পত্তি কার আর কীভাবে এল তা জানতেই সিবিআই ১০ বার তলব করেছিল অনুব্রত মণ্ডলকে। কিন্তু তিনি হাজিরা দিয়েছেন মাত্র ১ বার, তাও ঘন্টা ২য়ের জন্য। যদিও এখন তিনি রয়েছেন সিবিআইয়ের হেফাজতেই। এই অবস্থাতেই সূত্রে জানা গিয়েছে যে সিবিআই আধিকারিকেরা দাবি করেছেন, বর্তমানে কেষ্টবাবার নিত্যদিনের আয়(Daily Income) ৩০ লক্ষ টাকা। মাসে ৯ কোটি। বছরে ১০৮ কোটি। বলিউডের একজন হাই প্রোফাইল নায়কও এখনকার বাজারে এই আয় করেন কিনা সন্দেহ! আর এখানেই স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছেন খোদ সিবিআই আধিকারিকেরা। 

সিবিআই আধিকারিকদের দাবি, গোটা বীরভূম জেলাজুড়ে তো বটেই এর পাশাপাশি দুই বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়া জেলা জুড়ে যে গরুপাচার, কয়লাপাচার, বালিখাদান, পাথরখানের ব্যবসা চলত তাঁর নিয়ন্ত্রক ছিলেন এই কেষ্ট। তার জেরেই দিনপ্রতি তাঁর আয় ৩০ লক্ষ টাকা গিয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাবলে অবাক লাগে এই কেষ্টই একসময় বোলপুরের বাজারে মাছ বিক্রি করে দিনে ১০০টাকাও আয় করতেন না। তবে সিবিআই সূত্রে এটাও জানা গিয়েছে, এই বিপুল পরিমাণ টাকা কিন্তু অনুব্রত নিজের জন্য খরচ করতেন না। বরঞ্চ এই টাকার একতা বড় অংশই তিনি ‘দানধ্যানে’ খরচ করতেন। বাকিটা জমা থাকত সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ দেহরক্ষী সায়গল হোসেনের কাছে এবং এক বিধায়কের কাছে। অনুব্রতকে পর ওই বিধায়ককেও এবার জেরা করার জন্য ডাকতে পারেন সিবিআই আধিকারিকেরা। এলে ভাল, না এলে গ্রেফতার। ওই বিধায়কের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় নথি জোগাড়ের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বাহিনীর আধিকারিকেরা।  

তদন্তে নেমে সিবিআই আধিকারিকেরা জানতে পেরেছেন, পাচার হওয়া গোরু পিছু ৩ হাজার টাকা ‘কমিশন’ ধার্য করে দিয়েছিলেন কেষ্ট। ঈদ-মহরমের মরশুমে তা বেড়ে দাঁড়াত ৬ হাজারে। আবার কয়লার ক্ষেত্রে গাড়ি পিছু ১০ হাজার টাকাই ছিল ‘ফিক্সড রেট’। এই নজরানা না দিয়ে গোরু বা কয়লা কোনওটাই পাচার করা যেত না। টাকা তোলার জন্য দুই ধরনের ব্যবস্থা ছিল। এক, ইলামবাজারের পশুহাটের মালিক অনুব্রত ঘনিষ্ঠ আব্দুল লতিফ খানের মাধ্যমে টাকার লেনদেন হত এবং দুই, পাচার পথের সমস্ত থানাকে দিতে হতো নজরানা। তাই কেষ্ট’র আমলে এই পাচারচক্রে কোন কোন পুলিশ আধিকারিকেরা এই তোলা আদায় করতেন সেই তথ্য সংগ্রহ করে তাঁদেরও জেরা করার পথে হাঁটতে চলেছেন সিবিআই আধিকারিকেরা। গরু পাচার হত ২টি রুট দিয়ে। একটি মাড়গ্রাম থেকে জঙ্গিপুর, রঘুনাথগঞ্জ, লালগোলা হয়ে বাংলাদেশ। অপরটি ইসলামপুর ও রানিনগর ঘুরে। এর বাইরে আরও কিছু ‘রুট’-এ গোরু যেত বাংলাদেশে। মোট ২৭টি থানা এলাকাজুড়ে ছিল এই সব পথ। প্রতি ক্ষেত্রেই পুলিসের সঙ্গে ‘মাসিক বন্দোবস্ত’ করে ফেলেছিলেন চোরাচালানে যুক্ত ব্যবসায়ীরা। এক একটি থানার জন্য মাসে বরাদ্দ থাকত ৬০-৭০ লক্ষ টাকা। অবশ্য মুর্শিদাবাদে সীমান্তের দু’টি থানা ব্যতিক্রম। সেখানে ভেট দিতে হতো মাসে এক কোটি টাকা। বালি, পাথর এবং কয়লার ক্ষেত্রে একইভাবে বিভিন্ন রেট বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। রাইস মিল পর্যন্ত বাদ যায়নি। সবটাই কেষ্ট’র নির্দেশে।

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, বিভিন্ন জেলাগামী গোরু, কয়লা, বালি ও পাথরভর্তি গাড়ির নম্বর পাঠান হতো সায়গলের কাছে। পাচার পথ নির্বিঘ্ন রাখতে পুলিশ কর্তাদেরও তা আগাম জানিয়ে রাখা হত। এ কাজে ব্যবহারের জন্য সায়গলের কাছে ছিল ২২টি হ্যান্ডসেট। নেওয়া হয়েছিল ৫০টি সিম। মৃত অথবা এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির নথি ব্যবহার করে সেগুলি সংগ্রহ করা হয়। ওই সব ফোনের কললিস্ট ঘেঁটে সংশ্লিষ্ট জেলার ওসি-আইসিদের সঙ্গে পাচারকারীদের ফোনালাপের তথ্য সিবিআইয়ের হাতে। সেই সূত্রেই তাঁরা অনুব্রতের নাম জড়িয়েছে। আর এই সব তথ্য সামনে এনেই এখন তাঁকে জেরা করছেন সিবিআই আধিকারিকেরা।

দীপাবলিতে মাংস কিনতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, বাবা-ছেলে-সহ মৃত ৩

অভাবের সংসার, টিনের চালেই ৩৫ বছর ধরে পূজিত হচ্ছেন ৬ দেবী, জানেন কোথায়?

দীপাবলিতে ভক্তদের উপহার দিলেন ভিকি ক্যাটরিনা, প্রকাশ্যে আনলেন ছেলে বিহানকে

রাস্তার ধারে কুলচা বিক্রি করতেন বাবা, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শতরান করে চমকে দিল ছেলে অর্জুন

‘বাজি ফাটালে অসুখ-বিসুখ চলে যায়’, মন্তব্য পাপিয়া অধিকারীর

পুড়ে ছাই হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তৈরি মণ্ডপ, অবশেষে পুজো হচ্ছে পাঁশকুড়ায়

মুর্শিদাবাদে চার বছরের শিশুকে নির্যাতন করে খুনের অভিযোগ, কাঠগড়ায় সৎ মা

মায়ের সঙ্গে মিলে লিভ ইন পার্টনারকে খুন করল প্রেমিকা, চাঞ্চল্য গড়িয়ায়

‘দেশ থেকে মাওবাদীদের মুছে ফেলা হয়েছে,’ দীপাবলিতে ঘোষণা মোদির

তৃণমূলের আচরণের জন্য বিএসএফের কাছে ক্ষমা চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

সোমবার থেকে তিন দিন বদলাচ্ছে একাধিক ট্রেনের রুট! কেন এই সিদ্ধান্ত পূর্ব রেলের?

রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপ থেকে ছিটকে গেলেন রজত পতিদার, সুযোগ পেলেন কে?

কালীঘাটে পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের FIR, গ্রেফতার ২

‘রাম মন্দিরে কোনওদিন যাব না,’ মমতাপন্থী সাংসদ কীর্তির মন্তব্যে শোরগোল