এই মুহূর্তে

কেন্দ্রীয় নেতাদের ভাষণে উৎসাহ পাচ্ছে না নীচুতলার কর্মীরা, দোটানায় বিজেপি

নিজস্ব প্রতিনিধি:‌ শিয়রে বিধানসভা নির্বাচন। আর তাতে মূল বিতর্কিত আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। কারণ এসআইআর করতে গিয়ে বাংলার বিপুল বৈধ ভোটারের নাম কেটে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। শুধু তাই নয়, বিপুল ভোটারকে বিচারাধীন বলে তালিকায় তুলে ধরা হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে কোনও টোটকা বা ভোকাল টনিক দিচ্ছেন না কেন্দ্রীয় নেতারা। বঙ্গ–বিজেপির নেতারাও নীচুতলার কর্মীদের এই নিয়ে কোনও কড়া যুক্তি দেখাতে পারছেন না। শুধু তাঁদের কেন্দ্রীয় নেতাদের সভা–সমাবেশে যোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। রথযাত্রা কর্মসূচিতে সামিল হতে জোর করা হচ্ছে। কিন্তু মানুষের দুয়ারে গিয়ে কোন যুক্তিতে কথা বলবেন তাঁরা সেই দিশা দেখানো হচ্ছে না বলে সূত্রের খবর।

এদিকে এসআইআরের খসড়া তালিকায় বাদ পড়েছিল ৫৮ লক্ষ নাম। তারপর আনম্যাপড, লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি নামক টোটকা সামনে নিয়ে আসে নির্বাচন কমিশন। যার প্রেক্ষিতে মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। অবশেষে শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে শনিবার পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। তাতে বাতিল করা হয়েছে আরও ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম। অর্থাৎ, ২০২৫ সালের তালিকার নিরিখে বাদের খাতায় মোট ৬৩ লক্ষেরও বেশি ভোটার। এমনকী ৬০ লক্ষ ভোটার এখনও ‘বিচারাধীন’ (অ্যাডজুডিকেশন)। এই আবহে বিজেপি নেতাদের থেকে কোনও বার্তা মিলছে না। তার উপর কেন্দ্রীয় নেতারা বঙ্গে এসে হিন্দি ভাষায় যা বলে যাচ্ছেন তা বেশিরভাগ গ্রামের মানুষ বুঝতে পারছেন না। আর নীচুতলার নেতা–কর্মীরা মানুষকে বোঝাতে গেলে প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।

অন্যদিকে এই সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে দোটানায় পড়েছে বঙ্গ–বিজেপির শীর্ষ নেতারা। তাঁরা যে তথ্য হাতে পেয়েছেন তাতে দেখা যাচ্ছে, সভা–সমাবেশে ভিড় করছেন দলেরই বেশিরভাগ নেতা–কর্মীরা। সাধারণ মানুষের উপস্থিতি অত্যন্ত কম। এই আবহে পদ্মনেতাদের এখন প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে ব্রিগেড সমাবেশের। আর তাতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন তাঁরা। কারণ ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় নেতারা বঙ্গ–বিজেপির নেতাদের জানিয়ে দিয়েছেন, ভিড় যদি পর্যাপ্ত পরিমাণ করা না যায় তাহলে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এমন বড় সমাবেশ বাতিলও করা হতে পারে। যার জেরে চাপে আছেন বঙ্গ–বিজেপির নেতারা বলে সূত্রের খবর।

এছাড়া চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের উপর ক্ষুব্ধ গ্রামবাংলার বড় অংশের মানুষজন। প্রত্যেক জেলাতেই এই ছবি ধরা পড়েছে। তার উপর নাম বাতিল হওয়ায় এবং বিচারাধীন তালিকায় থাকায় ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। আর সেগুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়ে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাতে আরও চাপ বেড়েছে। কারণ বিজেপি নেতা–কর্মীদের দেখলেই নানা প্রশ্ন করতে শুরু করছেন সাধারণ মানুষজন। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক জেলার এক বিজেপি নেতা বলেন, ‘‌একদিকে সাধারণ মানুষকে বোঝাতে পারছেন না নীচুতলার নেতা–কর্মীরা। অপরদিকে তাঁদেরকে বলা যাচ্ছে না সভা–সমাবেশে যোগ দিতে আসতে। ফলে সব মিলিয়ো দোটানা পরিস্থিতিতে পড়েছেন নীচুতলার নেতা–কর্মীরা।’‌

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

রান্নার গ্যাসের হাহাকার মেটাতে নবান্নে কন্ট্রোল রুম খুললেন মুখ্যমন্ত্রী, তোপ কেন্দ্রকে

সন্ধ্যা নামতেই আবহাওয়ার ভোলবদল, কলকাতা-সহ জেলায় জেলায় ঝাঁপিয়ে নামল বৃষ্টি

ভোট ঘোষণার আগেই ২৯৪ বিধানসভা কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ কমিশনের

টালা থেকে এক বাসেই এবার সাঁতরাগাছি , রইল রুট ও ভাড়া

সৌজন্য মমতার, রাজ্যপালের শপথ অনুষ্ঠানে বিমান বসুকে বিশেষ সম্মান

স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধে পাবেন টলিপাড়ার ৭ হাজার কলাকুশলী, দেবের অনুরোধে সাড়া মমতার

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ