দেখতে থাকুন বদলে যাচ্ছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

বড়দেবীর মুখ দেখে তবেই পুজো পরিক্রমা করেন জলপাইগুড়ির বাসিন্দারা

নিজস্ব প্রতিনিধি: কোচবিহার রাজার আমলে শুরু হয়েছিল বড় দেবীর পুজো। আজ সে পুজো শতাব্দী পার করেছে। তারপরেও আজও এখানে শারদীয়ার আরাধনায় নররক্ত উৎসর্গ করা হয়। অষ্টমীতে মধ্যরাতে হয় গুপ্তপুজো। এছাড়াও মহিষ বলির পাশাপাশি দেওয়া হয় পাঠা ও পায়রা বলি। অষ্টমীর পুজোয় এটাই এখানকার বিশেষ রীতি। রবিবার মহাষষ্ঠীতে বড় দেবীর পুজো দেখতে ভিড় করেন ভক্তরা। কোচবিহারের শহরবাসী তাই বড় দেবীর মুখ প্রথম দেখে তারপরেই শুরু করেন অন্যান্য পুজো পরিক্রমা।

৫০০ বছরেরও বেশি প্রাচীন এই পুজোর সূচনা হয়েছিল কোচবিহারের মহারাজার নর নারায়ণের হাত ধরে। বর্তমানে নরবলি বন্ধ, কিন্তু নর রক্ত উৎসর্গ করতেই হয়। সেই নর রক্ত উৎসর্গ করা হয় গুপ্ত পুজোর মধ্যে দিয়ে। মন্দিরের পুরোহিত দেবনাগরী ভাষায় তাল পাতায় লেখা মন্ত্র উচ্চারণ করে সেই পুজো করেন। সকাল থেকেই বড় দেবীর পুজো দেখতে মন্দিরে হয় হাজার হাজার ভক্তের সমাগম।

শোনা যায় স্বপ্নাদেশ পেয়ে মহারাজ নর নারায়ণ বড় দেবীর পুজো শুরু করেছিলেন। সেই সময় থেকেই জলপাইগুড়ির এই পরিবারে বড়দেবীর আরাধনা হয়ে আসছে। প্রথম দিকে নরবলি প্রথা চালু ছিল, পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু নর রক্ত তো লাগবেই, সেই জন্য আজও এখানে নররক্ত উৎসর্গ করা হয়। বলি দেওয়া হয় চালের গুঁড়ো দিয়ে তৈরি করা মানুষের প্রতীক চিহ্ন। মহারাজের আমলে ছাগ, মহিষ, কচ্ছপ থেকে পাখি পর্যন্ত বলি দেওয়া হত।

নবমীতে দেবীকে দেওয়া হয় বোয়াল মাছের খিচুরি। এখন রাজা আর রাজত্ব কোনও কিছুই নেই, কিন্তু নিয়ম রয়েছে পুরোদমে। ময়নাকাঠ দিয়ে যূপচ্ছেদন পুজোর মাধ্যমে পাঁচশো বছরেরও বেশি প্রাচীন কোচবিহার রাজ আমলের বড়দেবীর পুজোর সূচনা হয়। রাধাষ্টমীতে ময়নাকাঠ নিয়ে আসা হয় বড়দেবীর মন্দিরে। রাধাষ্টমীর দিন বড় দেবীর মন্দিরে নিয়ে আসা হয় ময়না কাঠ ।

তারপর সেই কাঠের বিশেষ স্নান এবং পুজো হয়। তিন দিন ধরে মন্দিরে ময়নাকাঠকে হাওয়া খাওয়ানোর প্রথা রয়েছে, সেই প্রাচীন প্রথা আজও মেনে চলা হয়। এরপর এই ময়না কাঠ দিয়ে দেবীর মূর্তি তৈরি হয়। এখানে দেবী দুর্গার সঙ্গে লক্ষী গণেশ কার্তিক সরস্বতী আসেন না। বড় দেবীর সঙ্গে থাকেন জয়া এবং বিজয়া, বাহন হিসেবে থাকেন বাঘ। যুগের পর যুগ ধরে এখানকার পুজো মানুষের মননে জায়গা করে নিয়েছে। এখানে আজও অষ্টমীতে মোষ, পায়রা, বলি দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে এ নির্দিষ্ট আচার মেনেই যে মাতৃ আরাধনা করা হবে সে বিষয়ে এক প্রকার নিশ্চিত সকলে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

SIR-এ বাদ পড়েছে নাম, তবু ভোটের দায়িত্ব সামলাবেন শিক্ষক দম্পতি!

ভোটের আগেই তৃণমূল ছাড়লেন জলঙ্গির প্রাক্তন বিধায়ক

লক্ষ্মী বনাম অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার! প্রতিশ্রুতিতে ভরছে দেওয়াল, কার ভরসা বেশি?

বৃষ্টি মাথায় ভোটপ্রচারে মধ্য হাওড়ার তৃণমূল প্রার্থী অরুপ

উত্তর-দক্ষিণে জোড়া আক্রমণ ! ঝোড়ো প্রচারে মমতা-অভিষেক

বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বেরোতেই সন্দেহ! পর্ণশ্রীতে উদ্ধার বৃদ্ধার পচাগলা দেহ

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ