চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

বার বার ডাক দিচ্ছেন ছত্রধর, পাত্তা দিচ্ছেন না পার্থ

নিজস্ব প্রতিনিধি: বার বার ডাক দিচ্ছেন প্রাক্তন সঙ্গী। কিন্তু কোনওবারই সাড়া দিচ্ছেন না তিনি। কোন অভিমানে এই মুখ ঘুরিয়ে থাকা সেটাই এখন চর্চার অন্যতম বিষয় প্রেসিডেন্সি জেলে। সেই চর্চা করছেন অনান্য বন্দীরা। কেননা যিনি ডাক দিচ্ছেন, আর সেই ডাকে যিনি সাড়া দিচ্ছেন না দুইজনই তো রাজ্যের দুই হেভিওয়েট নেতা। দুইজনই একই ফুলের ছত্রছায়ায় ছিলেন। আজ আবারও তাঁরা পাশাপাশি, কিন্তু একজন নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন সব কিছু থেকে। সেটা অভিমান, নাকি আত্মানুসন্ধান তা বোঝা ভার। কিন্তু এটা ঘটনা যে একজন বার বার ডাক দিলেও একবারের জন্যও সেই ডাকে সাড়া দিচ্ছেন না অপরজন। নজরে ছত্রধর মাহাতো(Chatradhar Mahato) ও পার্থ চট্টোপাধ্যায়(Partha Chattopadhay)। ঘটনাচক্রে পার্থ’র শারীরিক সমস্যা বেশ বেড়েছে। সেই সব সমস্যার চিকিৎসা জেলের হাসপাতালে সম্ভব নয়। এই অবস্থায় তাঁকে দেখতে প্রেসিডেন্সি জেলে(Presidency Jail) গিয়েছে ৮ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম(Medical Team)। গিয়েছে ৬ জন স্বাস্থ্যকর্মীও।

জানা গিয়েছে, প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দী পার্থ’র প্রতিবেশী সেলেই রয়েছেন পুলিশি সন্ত্রাস বিরোধী জনসাধারণের কমিটির নেতা ছত্রধর মাহাতো। পার্থ সেখানে যাওয়ার পর থেকে বার ২-৩ তিনি চেষ্টা করেছেন পার্থ’র সঙ্গে কথা বলতে দেখা করতে। বার দুই হাঁক পেড়েছেন ‘পার্থদা ও পার্থদা’ বলে। কিন্তু কোনও ডাকেই সাড়া দেননি রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। মুখ ঘুরিয়ে একবারের জন্যও দেখেননি ছত্রধরকে। অথচ বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস বলছের দুইজনের যোগ প্রায় দেড় দশকের। বামজমানার সময়ে জঙ্গলমহলের বিস্তীর্ণ এলাকায় দাপিয়ে বেড়িয়েছেন ছত্রধর। মাওবাদীদের ফ্রন্টাল অর্গানাইজেশন হিসেবে কাজ করছিল, তাঁর পুলিশি সন্ত্রাস বিরোধী জনসাধারণের কমিটি। পুলিশ তাঁকে একসময় গ্রেফতারও করে। সেই সময় তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছিল তাঁরা বাংলার ক্ষমতায় এলে ছত্রধরকে মুক্তি দেবে। কিন্তু ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঝাড়গ্রাম থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হন ছত্রধর। তাতে তাঁর সঙ্গে জোড়াফুলের সম্পর্কে অবনতি হয়। যদিও তৃণমূলের জয়লাভ তাতে আটকানো যায়নি।

২০১৯ সালে জেল থেকে ছাড়া পান ছত্রধর। সেই সময় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ই তাঁর সঙ্গে তৃণমূলের তরফে যোগঅ্যাোগ করেছিলেন। তাঁকে দলে নিয়ে আসা ও যোগদান করানোর নেপথ্যেও আছেন পার্থ। কার্যত তাঁর হাত ধরেই ছত্রধর ২০২০ সালে তৃণমূলের রাজ্য কমিটির সদস্যপদ পেয়েছিলেন। কিন্তু একুশের বিধানসভা নির্বাচন চলাকালীন সময়ে ছত্রধরকে গ্রেফতার করে এনআইএ। সেই থেকেই তিনি ফের জেলে। সেই থেকে পার্থ’র সঙ্গে ছত্রধরের যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন। কিন্তু এখন তাঁরা আবার একই জেলের বাসিন্দা। সেই সূত্রেই ছত্রধর নিজেই চেয়েছিলেন পার্থ’র সঙ্গে পুরাতন সম্পর্ক ঝালিয়ে নিতে। কিন্তু পার্থ পাত্তা দেননি। কেন দেননি তা তিনি নিজেই জানেন। এদিকে পার্থ’র শারীরিক যে সব সমস্যা ছিল তা মাথাচাড়া দেওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন প্রেসিডেন্সির জেল কর্তৃপক্ষ। জেলে থাকা চিকিৎসক দিয়ে পার্থ’র চিকিৎসা করানো সম্ভব নয় সেটা ইডিকে জানিয়ে দেওয়াও হয়। তারপরেই এদিন অর্থাৎ শনিবার সেখানে পার্থ’র চিকিৎসা করতে চলে গিয়েছেন ৮জনের একটি মেডিকেল টিম। তাঁদের সঙ্গে ৬জন স্বাস্থ্যকর্মীও আছেন। সূত্রে জানা গিয়েছে, পার্থর পা নাকি অনেকটাই ফুলে গিয়েছে। ওষুধে তা কমানো যাচ্ছে না। সেই সঙ্গে বেড়েছে তাঁর কোমরের ব্যথাও।  

Published by:

Share Link:

More Releted News:

তৃণমূলের হয়ে কাজের অভিযোগ! পাঁচ বিএলওকে সাসপেন্ড ও এফআইআরের নির্দেশ কমিশনের

ভোটের মুখেই বিধাননগরের সিপি বদল কমিশনের, সরানো হল মুরলীধরকে

ভোটের মাঝে আচমকাই অভিষেককে ফোন রাহুলের!

ভোটের পরই মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল, জানা যাবে মোবাইল অ্যাপেও

নির্বাচনের আগে উত্তরে দুর্যোগ বাড়লেও দক্ষিণে তাপমাত্রা পৌঁছবে ৪০ ডিগ্রির ঘরে

‘‌আমি আইনি পদক্ষেপ করব’‌, এজেন্সির অপব্যবহার নিয়ে সুর সপ্তমে মমতার

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ