চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

মমতার শিশুসাথী প্রাণ বাঁচাল ৯ বছরের শিশুর, হার্টে ছিল ফুটো

Courtesy - Facebook and Google

নিজস্ব প্রতিনিধি: মানুষের হৃদপিণ্ড(Heart) ৪টি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত। এদের বলা হয় বাম অলিন্দ, ডান অলিন্দ, বাম নিলয় ও ডান নিলয়। ওপরের দিকে থাকে অলিন্দ ও নীচের দিকে থাকে নিলয়। বাম অলিন্দ ও বাম নিলয়কে একত্রে বলা হয় বাম হৃদপিণ্ড আর ডান অলিন্দ ও ডান নিলয়কে বলা হয় ডান হৃদপিণ্ড। এই বাম আর ডান হৃদপিণ্ডের মাঝে থাকে একটি প্রাচীর বা দেওয়াল ৯ বছরের শিশু মামণি দাসের(Mamoni Das) হৃদপিণ্ডে সেই দেওয়ালটাই ছিল না। ফল, প্রবল শ্বাসকষ্ট ছিল নিত‌্যসঙ্গী। তারওপর জ্বর এলে ছাড়ার নাম করত না। পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া মহকুমার কেতুগ্রামের বাসিন্দা প্রভাসকুমার দাস পেশায় ক্ষেতমজুর। মামণি তাঁরই মেয়ে। সেই মেয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে প্রভাসবাবু জানতে পারেন তাঁর মেয়ের যে অসুখ করেছে সেটা খুবই বিরল। অসুখটা আর কিছুই নয়, হৃদপিণ্ডে রয়েছে ফুটো। দুই হৃদপিণ্ডের মাঝে নেই কোনও দেওয়াল। বেসরকারি হাসপাতালে সেই চিকিৎসার খরচ কয়েক লক্ষ টাকা যা তাঁর পক্ষে জোগাড় করা অসম্ভব। শেষে আশার আলো দেখালো ২০১৩ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Mamata Banerjee) চালু করা শিশুসাথী প্রকল্পটি(Sishu Saathi Scheme)। সরকারি সাহায্যে আর জি কর মেডিকেল কলেজের(R G Kar Medical College and Hospital) সিটিভিএস বিভাগ নতুন জীবন দিল একরত্তি মামণিকে।

আরও পড়ুন, খুন বা ডাকাতি করে যে কেউ হয়ে যেতে পারেন অ্যাপ বাইক-ট্যাক্সি চালক

মামণির মা বৈশাখী দাস জানিয়েছেন, হামেশাই মামণিকে নিয়ে যমে মানুষে টানাটানি চলত। সম্প্রতি অবস্থা বাড়াবাড়ি হওয়ায় মামণিকে নিয়ে তাঁরা আসেন কলকাতার আর জি কর মেডিকেল কলেজে। মামণিকে প্রথমে দেখানো হয় আউটডোরে। সেখান থেকে তাকে ভর্তি করা হয় বিভাগীয় প্রধান ডা. রাজর্ষি বসুর অধীনে। Cardio Thoracic Vascular Surgery বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. রাজর্ষি বসু জানিয়েছেন, মামণির সমস্যা অত‌্যন্ত বিরল হার্টের অসুখ। চিকিৎসা পরিভাষায় যার নাম Common Atrium অথবা Atrioventricular Septal Defect। দশ বছরের নিচে যত শিশু হার্টের সমস‌্যায় আক্রান্ত হয় তার মধ্যে এই ধরনের সমস‌্যা দেখা যায় বড়জোর ১ শতাংশের মধ্যে। মামণির জীবন নিয়ে যেখানে টানাটানি সেখানে অপারেশনের ঝুঁকি নিতে চট করে কেউ রাজী হবেন না। কিন্তু ডা. রাজর্ষি বসু, মামণির বাবা-মার সঙ্গে বসে তাঁদের বুঝিয়েছিলেন, অপারেশন কেন দরকার। তাতে ঝুঁকি কতখানি আর সফলতা আসার সম্ভাবনা কতটা। সঙ্গে এটাও বুঝিয়েছিলেন অপারেশন না হলে যে কোনওদিন জীবন চলে যেতে পারে মামণির। প্রভাস-বৈশাখী দুইজনই বুঝেছিলেন মামণির অপারেশন কতটা জরুরি। কিন্তু তাঁদের ভাবাচ্ছিল টাকার কথাও।

আরও পড়ুন, JMB’র মাধ্যমে বাংলার ৭ জেলায় Terror Network তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে ISI

সেই সমস্যার সমাধান করে দিল শিশুসাথী প্রকল্প। যেসব শিশুদের হার্টে সমস‌্যা, তাদের এই প্রকল্পের মাধ‌্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসা করা হয়। প্রকল্পের সুযোগ নেওয়ার শর্ত একটাই। শিশুর অভিভাবকের ভোটার কার্ড থাকা বাধ‌্যতামূলক। শিশুর পরিবারকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। পশ্চিমবঙ্গের শিশুসাথী যোজনা বিভাগে আবেদন করলেই সব খতিয়ে দেখে মেলে সুবিধা। সেটাই করা হয়েছিল। সেই আবেদন মঞ্জুর হতেই মামণির অপারেশন করতে এগিয়ে যান ডা. রাজর্ষি বসু। সেই প্রসঙ্গেই তিনি জানিয়েছেন, ‘প্রথমে অপারেশন টেবিলে ইকো করে আমরা দেখতে পাই ঠিক কী ধরনের সমস‌্যা। এরপর ধাপে ধাপে এগোই। শিশুটির দুটো অলিন্দের মাঝে কোনও দেওয়াল ছিল না। দুটো অলিন্দ এক হয়ে একটা অলিন্দ হয়ে গিয়েছিল। অস্ত্রোপচারে যেমন কমন অ‌্যাট্রিয়ামের মেরামত করা হয়েছে তেমনই মাইথ্রাল ভালভের মেরামত করা হয়েছে। এত ছোট বয়সে মাইথ্রাল ভালভ বদল করা যায় না। স্বাভাবিকভাবেই অস্ত্রোপচারের মাধ‌্যমে তা মেরামত করতে হয়েছে। টানা পাঁচ ঘণ্টার ম‌্যারাথন অস্ত্রোপচারের পর আপাতত বিপন্মুক্ত ওই শিশু। অস্ত্রোপচার করার পরেই আমরা ফের একবার ইকো করে দেখে নিয়েছি, হার্ট এখন একদম চাঙ্গা। কাজ করছে ঠিকমতো।’

Published by:

Share Link:

More Releted News:

দেবাশিস কুমারের বাড়ি ও কার্যালয়ে IT হানা, কী কারণে আয়কর তল্লাশি?

আগামী ২-৩ ঘন্টায় ৭০ কিমি বেগে ধেয়ে আসছে কালবৈশাখী, জেলায় জেলায় হবে শিলাবৃষ্টি

ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের, নিষ্পত্তি হওয়া নাম তুলতে হবে ভোটার তালিকায়

খাস কলকাতায় সিপিএমে ভাঙন, নির্বাচনের প্রাক্কালে একঝাঁক যুবনেতার যোগ তৃণমূলে

সল্টলেকে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, ডিভাইডারে ধাক্কা খেয়ে দুমড়ে-মুচড়ে গেল গাড়ি, আহত ৪

‘‌বাংলায় আপনাদের মেয়াদ আর ঠিক ১৯ দিন’‌, বিজেপি–নির্বাচন কমিশনকে চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ