এই মুহূর্তে

‘‌আপনারা খালি আদেশ করবেন, আমি আছি তো’‌, সাতগাছিয়ায় আন্তরিক বার্তা অভিষেকের

নিজস্ব প্রতিনিধি:‌ আজ, রবিবার তিনটি নির্বাচনী জনসভা করেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম জনসভা হয় বর্ধমানের রায়নায়। দ্বিতীয় জনসভা করেন গোসাবায় এবং তৃতীয় হল, সাতগাছিয়ায়। এই সাতগাছিয়ার সভা থেকে একেবারে অন্য মেজাজে দেখা গেল ডায়মন্ডহারবারের সাংসদকে। এই সভার আগে দুটি সভায় তাঁকে আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায়। কিন্তু সাতগাছিয়ায় এসে তিনি হয়ে গেলেন ঘরের ছেলে। আর এভাবেই তাঁকে কাছে পেয়ে আপামর মানুষজন দু’‌হাত তুলে আশীর্বাদ করলেন। এখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজের পরিবার বলে কাছে টেনে নেন অভিষেকও।

এদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাতগাছিয়ার জনসভা থেকে আত্মবিশ্বাসী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায় শোনা যায় চ্যালেঞ্জের সুরও। তবে সেটা বিজেপির জন্য। এখান থেকে ডায়মন্ডহারবারের সাংসদের চ্যালেঞ্জ, ‘‌দক্ষিণ ২৪ পরগনার নির্বাচনে প্রত্যেকবারের মতোই এবারও শেষ দফায় হচ্ছে। ভোট যত দফাতেই করুক, এদের রফাদফা দক্ষিণ ২৪ পরগনাই করে। এবারও করবে। বিজেপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা হয়েছিল বিষ্ণুপুরে। এবার দাঁড়িয়েছে সাতগাছিয়ায়। সাধারণত এক ছাত্র দু’‌বার ফেল করলে স্কুল থেকে তাড়িয়ে দেয়। এই প্রার্থী ২০২১ সালে একবার ফেল করেছে। আবার ২০২৬ সালে ফেল করে মাঠছাড়া হবে।’‌

 

অন্যদিকে এসআইআর পর্বে প্রচুর বৈধ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। আর তা নিয়ে এখানকার মানুষ আতঙ্কিত। অভিষেক সভা করতে এসেছে দেখে একজন বৃদ্ধা এগিয়ে আসেন। আর কথা বলতে চান। সেটা দেখতে পেয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভার দলনেতা বলেন, ‘‌কী হয়েছে মা?‌’‌ তখন ওই বৃদ্ধা জানান, তাঁর নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। কেমন করে ভোট দেবেন?‌ তখনই অভিষেকের আন্তরিক বক্তব্য, ‘‌আপনি চিন্তা করবেন না মা। আপনাদের নাম যাতে সবার ওঠে তার জন্য ক্যাম্পের ব্যস্ততা করা হয়েছে। সেখানে গিয়ে যা নথি আছে জমা দিন। ফর্ম পূরণ করুন। আমাদের আইনজীবী বিনা পয়সায় আপনাদের সাহায্য করবে। আপনারা পরিবার আমার, আপনারা খালি আদেশ করবেন। আমি আছি তো।’‌

এছাড়া বিজেপির থেকে জিতে বিধায়ক–সাংসদ হলেও ওরা কেউ কাজ করে না। তাই তাঁদের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ ছোড়েন অভিষেক। তৃণমূল সাংসদের চ্যালেঞ্জ, ‘‌সাতগাছিয়াতে আমি রিপোর্ট কার্ড আনতে বলব না। ২০১৪ সালে মোদি এসেছে ক্ষমতায়। সেই বছর অভিষেক সাংসদ হয়েছে। দুজনের ১২ বছরের রিপোর্ট কার্ড আনব। ডবন ইঞ্জিন বনাম সিঙ্গল ইঞ্জিনের সরকারের হিসেব আনব। মাঠ ছাড়া করব। এবারের চ্যালেঞ্জ সব গ্রাম পঞ্চায়েতে জিততে হবে। অনেককে ফোন করে অনেক কিছু বলা হবে। বিজেপির এখানে কোনও কাজ করার লোক নেই। টাকা দিতে চাইলে সবাই টাকা নিয়ে নিন। এটা বাংলার টাকা যেটা মোদি আটকে রেখেছে। যেভাবে ২০২৪ সালে হয়েছে, সেভাবে এবারও পদ্মফুল থেকে টাকা নেবেন আর জোড়াফুলকে ভোট দেবেন। আমাদের জেদ যতই এফআইআর আর এসআইআর হোক, ৬০ হাজারের ব্যবধান এবার ৭০ হাজার হবে।’‌

Published by:

Share Link:

More Releted News:

ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে চরম বিশৃঙ্খলা তমলুকে, গুরুত্বই দিল না বিডিও

‘প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গাড়ি তল্লাশি কেন হবে না?’ ইসলামপুর থেকে কড়া প্রশ্নবাণ মমতার

ভোট-গরমের জের! পয়লা বৈশাখে শান্তিপুরের সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরে দেখা মিলল ব্যতিক্রম ছবি

‘টাকার হুন্ডি নিয়ে নেমেছে বিজেপি’, ইসলামপুরের সভা থেকে তোপ মমতার

‘দেশকে ভাগ করার চক্রান্ত চলছে’, ইসলামপুর থেকে অভিযোগ মমতার

‘বাংলায় বিজেপি সরকার গড়েই গোর্খাদের সমস্যার সমাধান করবে,’ ফের প্রতিশ্রুতি শাহের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ