চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

আমি চাকরি না দিলে পানশালার নর্তকী হতে, বেফাঁস মন্তব্য প্রিন্সিপ্যালের

নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘আমি চাকরি না দিলে তোমরা বার ডান্সার হতে’, এমনটাই বলেছেন খোদ অধ্যক্ষ। আর যাদের উদ্দেশ্যে অধ্যক্ষের (PRINCIPAL) এই কটূক্তি, তাঁরা অধ্যাপিকা। অধ্যাপক- অধ্যাপিকারা (PROFFESOR) এমনটাই অভিযোগ করেছেন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। ঘটনা জলপাইগুড়ির কমার্স কলেজের (COMMERECE COLLEGE)। এই ঘটনাতেই উত্তেজনা ছড়িয়েছে কলেজে। শুধু তাই নয়, এলাকা ও শিক্ষামহলও এই বিষয়কে কেন্দ্র করে উত্তাল। অধ্যক্ষের কুমন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ দেখান ওই কলেজের অধ্যাপক ও অধ্যাপিকারা। ঘটনা মঙ্গলবার বিকেলের। দাবি করা হয়, অধ্যক্ষের পদত্যাগ। সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী (CM) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (MAMATA BANERJEE)  হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন অধ্যাপকমহল।

অভিযুক্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন, ওই কলেজের অধ্যাপক- অধ্যাপিকা,  শিক্ষাকর্মীর এবং শিক্ষার্থীরা।কুমন্তব্যের পাশাপাশি র‍য়েছে আরও একাধিক অভিযোগ। মঙ্গলবার বিকেলে বেনজির এই ঘটনার সাক্ষী থাকল জলপাইগুড়ি শহরের আনন্দচন্দ্র কলেজ অব কমার্স। একাধিক অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, প্রিন্সিপাল ডক্টর সিদ্ধার্থ সরকার কলেজের অধ্যাপিকাদের বলেছেন, ‘আমি যদি তোমাদের এই কলেজে চাকরি না দিতাম তবে তোমরা বার ডান্সার হতে’। আর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। অধ্যাপক- অধ্যাপিকাদের অভিযোগ, কলেজের মধ্যে স্বেচ্ছাচারিতা চালাচ্ছেন অধ্যক্ষ ডক্টর সিদ্ধার্থ সরকার।

ইতিহাসের অধ্যাপিকা মৌমিতা সেনগুপ্ত এদিন বলেন, ‘আমরা ওয়েব কুপা সংগঠন করতে চেয়েছিলাম। অধ্যক্ষ হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন কলেজে কোনও সংগঠন করা যাবে না। কোনও সংগঠনকে তিনি মানেন না’। শুধু তাই নয় তাঁর আরও অভিযোগ, ‘অধ্যক্ষ মাস কয়েক আগে আমাদের সব মহিলাকে বলেছেন আমি তোমাদের এই কলেজে চাকরি দিয়েছি। আমি চাকরি না দিলে তোমরা বারে গিয়ে ডান্স করতে। তাই আমার কথা শুনে চলতে হবে’। অধ্যাপিকা বলেন, ‘আমাদের মহিলাদের জন্য আলাদা কোনও ঘর নেই। উনি কাউকে কিছু না জানিয়ে ঘরে ঘরে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা লাগিয়েছেন। আমরা চাই অধ্যক্ষ পদত্যাগ করুন। না হলে  আমাদের আন্দোলন আরও তীব্র হবে’। অধ্যাপিকা বলেন, আন্দোলন চললেও কলেজে পঠন পাঠন প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবেন তাঁরা। অধ্যাপক সব্যসাচী বোসের অভিযোগ, ‘কলেজে কাজের কোনও পরিবেশই নেই। আমরা মানসিক অশান্তির মধ্যে থাকছি’। তাঁর প্রশ্ন, ‘আমরা কী করে পড়ুয়াদের পড়াব?’ আরও অভিযোগ, রাতে এক অধ্যাপিকাকে ফোন করে হুমকি দেন অধ্যক্ষ। চাকরি থেকে বের করে দেওয়া হবে বলেও শাসানোর অভিযোগ উঠেছে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে।  কলেজের অতিথি অধ্যাপক বাবাই মালো দাস বলেন, ‘কলেজের এক ক্যাজুয়াল স্টাফকে কোনও নোটিশ ছাড়াই কলেজ থেকে বরখাস্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে অধ্যাপক- অধ্যাপিকা ও কলেজের কর্মীরা সরব হয়েছিলাম। অধ্যক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। যদিও তিনি তার  জবাব দেননি। উল্টে সেই ঘটনার কয়েকদিনের মধ্যে আমাকে ফোন করে অধ্যক্ষ হুমকি দেন। যার জন্য আমরা মানসিকভাবে ভীত। তাই বাধ্য হয়ে এদিন এই প্রতিবাদের পদক্ষেপ’। অপর অধ্যাপক দেবাশীষ সিনহা মহাপাত্র বলেন, ‘উনি স্বেচ্ছাচারী। ওনার বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললেই উনি তাঁর বিরুদ্ধে ছাত্রদের লেলিয়ে দেন। উনি মহিলাদের রুমে পর্যন্ত সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরা লাগিয়েছেন নজরদারি চালাবেন বলে। আমি একজন দৃষ্টিহীন প্রতিবন্ধী। উনি আমাকে রাস্তায় বাইক দিয়ে ধাক্কা দিয়ে মেরে ফেলবেন বলেও হুমকি দিয়েছেন। আমরা ওনার পদত্যাগ চাই’।

অধ্যক্ষ ডক্টর সিদ্ধার্থ সরকার তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘যে ধরণের অভিযোগ আমার ওপর করা হচ্ছে তা মিথ্যা’। অধ্যক্ষের পাল্টা প্রশ্ন, যারা আমার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা অভিযোগ করছেন তাঁরা এসবের কোনও প্রমান দিতে পারবেন?’ বলেন,  কলেজে কঠোর অনুশাসন মেনে তিনি কলেজ পরিচালনা করছেন। তাই একাংশ তাঁর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন সমস্ত অভিযোগ করছেন।  তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি পুলিশ সুপার (SP) সহ বিভিন্ন দফতরে তিনি জানিয়েছেন।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

 মমতার ভবানীপুর সহ ১২৯ কেন্দ্রে ‘লাল সতর্কতা’, তালিকায় কোন-কোন আসন?

বুথে যাওয়ার বাস না থাকায় ভোট কর্মীদের তুমুল বিক্ষোভ সিউড়ি DCRC’তে

বাংলায় দ্বিতীয় দফার ভোটে ১০২ বিজেপি প্রার্থীর নামে ফৌজদারি মামলা

তৃণমূল কর্মীদের গ্রেফতারি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জোর ধাক্কা কমিশনের

‘একুশের চেয়ে ৫-১০টি আসন বেশি পাবে তৃণমূল’, ভোটপ্রচারে বড় বার্তা দেবের

বিধানসভা নির্বাচনে ১০ প্রার্থী নিরক্ষর, ৬৮ জন শুধু নিজের নাম লিখতে পারেন

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ