‘সব সংস্থাই কি শুধু বাংলার বিরুদ্ধে কাজ করার জন্য?’, সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপিকে তোপ শশী পাঁজার

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: সারা দেশ জুড়ে চলছে নারী নির্যাতনের মতো ঘটনা। সদ্য মহারাষ্ট্রে এক তরুণী চিকিৎসকের আত্মহননের ঘটনায় তোলপাড় হচ্ছে মিডিয়া। এবার এই সকল বিষয় নিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টিকে তীব্র আক্রমণ করলেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা। এক সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি কার্যত তোপ দাগেন পদ্মশিবিরের বিরুদ্ধে।

মহারাষ্ট্রের সাতারা জেলায় এক মহিলা চিকিৎসক আত্মহত্যা করেছেন। মৃত্যুর আগে নিজের হাতে লিখে গিয়েছেন সম্পূর্ণ ঘটনা। তিনি জানিয়ে গিয়েছেন পুলিশকর্মীরা তাঁকে লাগাতার ধর্ষণ ও মানসিক নির্যাতন করত। জোর করে চিকিৎসককে দিয়ে বেআইনি কাজ করানো হত, ভুয়ো ফিটনেস সার্টিফিকেট দিতে বাধ্য করা হতো। এমনকি এনডিএ সরকারের এক সাংসদ ফোনে নাকি তাঁকে হুমকিও দিয়েছিলেন। এই সকল সমস্যায় পড়ে মুক্তির জন্য তিনি দ্বারস্থ হয়েছিলেন পুলিশের। কিন্তু পুলিশের দ্বারাও তিনি নির্যাতনের শিকার হন। একেবারে চরম অবস্থায় এসে নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ওই মহিলা চিকিৎসক। মৃত্যুর আগে নিজের হাতের তালুতে তিনি লিখে যান- তাঁর মৃত্যুর জন্য দায়ী পুলিশ, প্রশাসন এবং মহারাষ্ট্রের তথাকথিত ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার। মৃত্যুর পর যেন তিনি ন্যায়বিচার পান, এইটুকুই আবেদন ছিল তাঁর। 

এই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সাংবাদিক সম্মেলনে শশী পাঁজা বলেন, “যে মর্মান্তিক ঘটনা মহারাষ্ট্রে ঘটেছে তা যেমন দুঃখজনক, তেমনি যদি বাংলায় ঘটত, তাও সমানভাবে বেদনাদায়ক হতো। কিন্তু মহারাষ্ট্রে কেউই এই বিষয়ে আওয়াজ তুলছে না। না কোনও ক্ষোভ, না কোনও প্রতিবাদ। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে একটি বিবৃতিও পর্যন্ত আমরা পাইনি। মহারাষ্ট্র রাজ্য মহিলা কমিশন কোথায়? জাতীয় বা আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমই বা প্রশ্ন তুলছে কোথায়? কোনও রাজ্য বা জাতীয় মহিলা কমিশন কি নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছে? আর সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হল মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও ওঠেনি, যা বাংলায় এ ধরনের ঘটনা ঘটলে প্রায়ই দেখা যায়।”

তারপরেই মন্ত্রীর কণ্ঠে উঠে এসেছে অভয়া কাণ্ডের সময় হওইয়া প্রতিবাদের কথা। তিনি বলেন, “অভয়ার জন্য যারা একসময় গলা ফাটিয়েছিলেন, তারা এখন নীরব কেন? মহারাষ্ট্রের কোনও মন্ত্রী একবারও মুখ খোলেননি, কোনও মহিলা সংগঠন সামনে আসেনি। সবাই এত চুপ কেন? এমন প্রতিটি ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমরা এখানে কোনও তুলনামূলক রাজনীতি করছি না, বা বাংলার হয়ে সাফাইও গাইছি না। তবে বাংলায় এমন ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, দোষীরা গ্রেফতার হয়। মহারাষ্ট্রে অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের গ্রেফতার করার বদলে কেবল সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এটাই কি ন্যায়বিচার?” 

তাঁর আরও সংযোজন, “বাংলায় এই ধরনের কোনও ঘটনা ঘটলে নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী থেকে মুখ্যমন্ত্রী পর্যন্ত সকলে দায়িত্ব নেন। কিন্তু মহারাষ্ট্রে আমরা সেই একই জবাবদিহি দেখতে পাচ্ছি না কেন? আমরা জানতাম বিজেপি রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া, কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে তারা মানসিক দিক থেকেও দেউলিয়া। এই ঘটনাই তার প্রমাণ। বাংলায় কিছু ঘটলেই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন থেকে শুরু করে প্রতিবেশী রাজ্যের মহিলা কমিশন পর্যন্ত সবাই ছুটে আসে। কিন্তু বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে এমন ঘটনা ঘটলে সেই একই তৎপরতা দেখা যায় না কেন? সব সংস্থাই কি শুধু বাংলার বিরুদ্ধেই কাজ করার জন্য সংরক্ষিত?”

শশী পাঁজার আক্রমণের ফলা আঘাত করেছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারি এবং সুকান্ত মজুমদারকেও। তাঁদের বিরুদ্ধে তোপ দাগতে গিয়ে রাজ্য সরকারের মন্ত্রী বলেছেন, ” ওদের ঔদ্ধত্য চরমে পৌঁছেছে ভলে, লখনউতে বিজেপির এক রাজ্যসভার সদস্য প্রকাশ্যে সাফাই কর্মীদের ‘বাংলাদেশি‘ বলে অপমান করেছেন, তাদের নেতারা কৃষকদেরও চরমপন্থী বলে দাগিয়ে দেন। এর আগেও শুভেন্দু অধিকারী একজন শিখ ধর্মাবলম্বী পুলিশকর্মীকে খালিস্তানি ও চরমপন্থী বলে অপমান করেছিলেন। এমনকি সুকান্ত মজুমদার তো ওই পুলিশকর্মীর দিকে চটি তুলে ছুঁড়তে গিয়েছিলেন।  এই ঔদ্ধত্য, এই অসহিষ্ণুতা কোথায় গিয়ে থামবে?”

এদিনও সোনালী খাতুন সহ ৬ জন যাদের বাংলাদেশি তকমা দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁদের হয়ে মুখ খুলেছেন শশী পাঁজা। তা৬র কথায়, “সোনালি খাতুন এবং আরও পাঁচজনের ব্যাপারে কী বলব, যাদের বিজেপি শুধু বাংলায় কথা বলার জন্য অন্যায়ভাবে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে! কলকাতা হাইকোর্টের চার সপ্তাহের মধ্যে ফিরিয়ে আনার নির্দেশের পরও তাঁরা এখনও দেশে ফেরেননি। বিজেপি তাদের বাংলাদেশি প্রমাণ করতে বদ্ধপরিকর। কিন্তু তৃণমূল এই পরিযায়ী শ্রমিকদের পক্ষে আইনি লড়াই চালাচ্ছে। আমরা এই বিষয়ে অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

সাম্প্রতিক সময়ে এসএসকেএম হাসপাতালে ঘটে যাওয়া নাবাব্লিকার যঊন নিগ্রহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে মন্ত্রী বলেন, “একটি পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই ঘটনায় কারা দায়ী তারা তা নির্ধারণ করার জন্য পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে হাসপাতালের কোনও কর্মচারী নয়। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নির্যাতিতা এবং তার অভিভাবকরা তদন্তে বিশ্বাস রাখছেন। এই বিষয়টিকে রাজনীতিকরণ বা বিকৃত না করার জন্য আমি সকলের কাছে অনুরোধ করব।”

সবশেষে অপরাজিতা বিলকে পশ্চিমবঙ্গে আইন হিসাবে কার্যকর করার কথা জানিয়েছেন তিনি। অপরাজিতা বিল ধর্ষকদের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান আনবে। কিন্তু এটিকে আইন করার পথে বাধা দিচ্ছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র সরকার। মানুষ এই সবকিছু লক্ষ্য করছে। শশী পাঁজার দাবি মানুষ এর জবাব দেবে নির্বাচনের ফলাফলের মাধ্যমে। 

এলাহাবাদ হাইকোর্টে তুলকালাম কাণ্ড, বিচারপতির এজলাসে ভাঙচুর চালালেন আইনজীবীরা

শনির সাড়ে সাতি থেকে মুক্ত হচ্ছন কুম্ভ রাশির জাতকরা, কবে থেকে সুদিন শুরু?

জুতোর মালা গলায় পরে গ্রামছাড়া হতে হয়েছিল, শালীকে তালাক দিলেন নেট প্রভাবী

করবা চৌথে বিরল ত্রিগ্রহী যোগ! ভাগ্যের দরজা খুলছে ৪ রাশির জাতকদের

200Mp ক্যামেরার সেরা ফোল্ডেবল! বাজারে এল Vivo X Fold 6

৭০০০mAh ব্যাটারি, ১০৮MP ক্যামেরা! চমকে দেওয়া দামে নতুন ফোন আনল Motorola

চুরির পর কিশমিস-খেজুর দিয়ে হুইস্কি পান, চোরের কাণ্ডে চক্ষু চড়ক গাছ পুলিশের

দুঃসংবাদ ভারতীয় শিবিরে, এক দিনের দল থেকে ছিটকে গেলেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ

৪৮ লক্ষ কৃষকের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে ২ হাজার করে টাকা! মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত

‘৬, ৭ ও ৮ নম্বর ফর্মে পরিবর্তন করতে পারে না কমিশন’, জ্ঞানেশদের এক্তিয়ার বাঁধল সুপ্রিম কোর্ট

দিওয়ালি উপহার মোদি সরকারের, কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের ডিএ বাড়ল ৩ শতাংশ

শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য তিরস্কৃত হ্যারিস রউফ, নিষিদ্ধ হওয়ার মুখে পাক ক্রিকেটার

জমি দুর্নীতির পর মাটি চুরির অভিযোগ, অভিষেকের প্রাক্তন পিএ সুমিতকে শোন অ্যারেস্ট পুলিশের

ক্ষেপে ড্রোনে লাথি কষালেন সঞ্চালক, ছিটকে গিয়ে লাগল তরুণী মডেলের ঠোঁটে, রক্তারক্তি কাণ্ড