প্রতিপদেই ঘটপুজো, পুরুষদের কাঁধে চড়ে বিসর্জনে যায় মণ্ডল বাড়ির হরগৌরী

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রতিপদেই ঘটপুজোর মাধ্যমে সূচনা হল ২১৮ বছরের ইছাপুরের মণ্ডল বাড়ির হরগৌরীর আরাধনা। শিবের কোলে উপবিষ্ট দেবী দুর্গা, পাশে কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী ও সরস্বতী। দেবীর এমন অনন্য রূপেই বছরের পর বছর ধরে পূজিত হয়ে আসছেন উত্তর ২৪ পরগনার ইছাপুর নবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী মণ্ডল বাড়ির দুর্গতিনাশিনী। চলতি বছরে ২১৮-তে পদার্পণ করল এই বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজো। সময়ের সঙ্গে বদলেছে অনেক কিছু, কিন্তু আজও অটুট রয়েছে পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া পুজোর রীতিনীতি, বৈষ্ণবীয় আচার এবং হরগৌরী আরাধনার ঐতিহ্য।

রীতি মেনে শুক্লা প্রতিপদ তিথিতে ঘটপুজোর মাধ্যমে এবছরের পুজোর সূচনা হয়েছে। বৈষ্ণব মতে চণ্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দেবীর আরাধনা। পরিবারের পূর্বদিকের ঘরের বেদিতে প্রতিষ্ঠা করা হয় দুর্গা ঘট ও লক্ষ্মী ঘট। মহালয়ার দিন থেকেই পুজোর প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়। এরপর প্রতিদিন নিয়ম মেনে চলে নিত্যপুজো। ষষ্ঠীর সকাল পর্যন্ত ঘটপুজোর এই পর্ব চলবে। ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় হরগৌরী রূপে সজ্জিত প্রতিমার সামনে ঘট এনে শুরু হবে মূল পুজো। সেই পুজো চলবে দশমী পর্যন্ত। ঐতিহ্য মেনে প্রতিমার দু’পাশে জ্বালানো হয় একটি ঘিয়ের প্রদীপ ও একটি তেলের প্রদীপ, যা দশমীর সকাল পর্যন্ত জ্বলতে থাকে।

আরও পডুন: কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির দুর্গাপুজোয় বিষাদের সুর! বন্ধ সিঁদুর খেলা

কথিত আছে, মণ্ডল পরিবারের দুই পূর্বপুরুষ শ্রীধর ও বংশীধরের হাত ধরে এই পুজোর সূচনা হয়েছিল। প্রথমদিকে প্রতিমা ছাড়াই ঘট প্রতিষ্ঠা করে দেবীর আরাধনা করা হত। পরবর্তীকালে দেবীর হরগৌরী রূপে পুজো করার স্বপ্নাদেশ পান দুই ভাই। সেই থেকেই মণ্ডল বাড়িতে শুরু হয় দেবীর এই বিশেষ রূপের আরাধনা। সময়ের সঙ্গে বদলেছে অনেক কিছু, কিন্তু প্রাচীন রীতিনীতি ও পারিবারিক ঐতিহ্য আজও অটুট রয়েছে।

কর্মসূত্রে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এমনকি বিদেশে থাকা পরিবারের সদস্যরাও ইতিমধ্যেই বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। পরিবারের মহিলা সদস্যদের কথায়, অষ্টমীর দিন পরিবারের সকলে একত্রিত হয়ে অঞ্জলি দেবেন। পুজোর আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি পুরনো স্মৃতিচারণে মেতে উঠবেন তাঁরা। এই পুজোর আর একটি বিশেষ আকর্ষণ দশমীর বিসর্জন। প্রাচীন রীতি মেনে পরিবারের পুরুষ বংশধরদের কাঁধে চড়ে ঠাকুরদালান থেকে বেরিয়ে আসেন দেবী। এরপর প্রতিমাকে নিয়ে যাওয়া হয় পূর্বপুরুষদের তৈরি মণ্ডল ঘাটে। সেখানে গঙ্গার বুকে নৌকায় করে দেবীকে সপরিবার প্রদক্ষীণ করানোর পর সম্পন্ন হয় বিসর্জন। দুশো বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে আজও নিষ্ঠা, বিশ্বাস ও পারিবারিক সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ ইছাপুরের মণ্ডল বাড়ির দুর্গোৎসব। প্রতিপদের ঘটপুজো থেকে দশমীর গঙ্গাবক্ষে বিসর্জন প্রতিটি পর্বেই যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে কয়েক প্রজন্মের ঐতিহ্য ও আবেগের ইতিহাস।

পুরভোটে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ! বিজেপি কার্যালয়ের বাইরে বসছে ড্রপ বক্স, জানালেন সুকান্ত

নিজের দোকানে দিনদুপুরে নৃশংস ভাবে খুন যুবক, সিসিটিভিতে ধরা পড়ল আততায়ীদের কাণ্ড

‘হিন্দুদের দোকান থেকে মাংস, বিরিয়ানি কিনুন,’ শিলিগুড়িতে পড়ল পোস্টার

পুজোর মুখে অঘটন, দিঘা যাওয়ার পথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন বিজেপির মণ্ডল সভাপতি

কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির দুর্গাপুজোয় বিষাদের সুর! বন্ধ সিঁদুর খেলা

কেতন কাণ্ডের ছায়া, বিয়ের কথা শুনেই প্রেমিকাকে খাদে ঠেলে ফেল দিল প্রেমিক

নবান্নের কাছেই যুবকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার, দুর্ঘটনা নাকি খুন?

সাধুর বেশে রাজ্যে অনুপ্রবেশ, কোচবিহারে গ্রেফতার পঞ্চাশোর্ধ্ব বাংলাদেশি নাগরিক

জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে বিক্ষোভ সামিল, ইমরান খানের বিরুদ্ধে FIR দায়ের

‘অবিলম্বে দিল্লি থেকে ব্যারিকেড হটিয়ে দিন’ কেন্দ্রকে কড়া নির্দেশ সুুপ্রিম কোর্টের

মুক্তি পেলেন ধ্রুব রাঠি, যন্তর মন্তরে না যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিল্লি পুলিশের

আফগানিস্তানের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে টেস্ট ক্রিকেটে ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশি বোলার

হাতিদের প্রাণ বাঁচাতে নিজের লাল টি-শার্ট খুলে ট্রেন থামাল বনকর্মী

দুর্গাপুজোর আগে ফের অভিষেকের ‘দুয়ারে’ পুলিশ, দিল নোটিস