ডাকাতের ভয়ে ৩০০ বছর আগে গ্রাম ছেড়েছিলেন বাসিন্দারা, মায়ের ইচ্ছায় আজও হয় পুজো

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি, কাঁকসা: দীর্ঘ এক বছর প্রতীক্ষার পর মা আসছেন মর্ত্যে। মহামায়ার আগমনের আকাঙ্ক্ষায় চারদিকে পুজো পুজো গন্ধ। আকাশে শরতের মেঘ, রাস্তাঘাটে মানুষের ভিড় জানান দিচ্ছে ছেলে মেয়েদের সঙ্গে নিয়ে সুদূর কৈলাস থেকে মা আসছেন পিতৃগৃহে। ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী, দশমী-এই পাঁচটি দিনের জন্য অপেক্ষা করে থাকে মানুষ সারা বছর ধরে। বিভিন্ন জায়গায় পূজো হয় নিয়ম মেনে। কলকাতায় এখন বেশিরভাগই থিমের পুজো। তারা এ বলে আমায় দ্যাখ, ও বলে আমায়। কিন্তু কলকাতা পেরিয়ে একটু গ্রামের দিকে গেলেই সেখানে যেন দু’হাত মেলে স্বাগত জানায় কাশফুলেরা, মাটির গন্ধে ভরে ওঠে হৃদয়।

কাঁকসা ব্লকের অন্যতম প্রাচীন গ্রামের নাম ভগবানপুর। আজ থেকে প্রায় ৩০০ বছর আগে চোর ডাকাতদের উৎপাতে এই গ্রাম ছেড়ে বাসিন্দারা চলে গিয়েছিলেন আকন্দরা, মলানদিঘী, লবণাপাড়া এবং ধবনীতে। ফলে ভগবানপুরে যে বাড়িগুলি রয়ে গিয়েছিল সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেগুলি ধ্বংসপ্রাপ্ত। শুধু রয়ে গিয়েছে এখানকার একটি দুর্গা মন্দির। গ্রামবাসীরা ঘর ছেড়েছেন, মা কিন্তু মন্দির ছাড়েননি।

বহু বছর পর এই মন্দিরটি দেখতে পেয়েছিলেন ভগবানপুরের বাসিন্দাদের বংশধরেরা।  বুঝতে পেরেছিলেন মায়ের মহিমা অপার, তিনি পুজো চান। আর তা উপলব্ধি করেই মন্দির দালানে শুরু হয়েছিল ঘট পেতে পুজো। পুজোর চারদিন দিনের বেলা ভগবানপুরে আসেন বাসিন্দারা। ভোর বেলা থেকে শুরু করে সন্ধ্যাবেলা পর্যন্ত সেটাই যেন তাঁদের গ্রাম। মেয়ের আতিথ্যে একটুও ত্রুটি রাখেন না তাঁর বাপেরবাড়ির লোকজন। শুধু রাত্রি হলে যে যার বাড়িতে আবার ফিরে যায়।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভগবানপুর ছিল ব্রাহ্মণদের গ্রাম। এখানে প্রায় ৫০ টি পরিবারের বসবাস ছিল। এই গ্রামে যেতে হলে পেরোতে হতো দীর্ঘ জঙ্গল। সেই জঙ্গলে ছিল ডাকাতদের উৎপাত। তারা লোকজন দেখলেই পথিকদের প্রাণে হত্যা করেও জিনিসপত্র কেড়ে নিত। ফলে একসময় গ্রাম ছাড়তে শুরু করেন বাসিন্দারা। সমৃদ্ধ ভগবানপুর জনমানবশূন্য হয়ে খাঁ খাঁ করত। আগে ওখানে যারা বাড়ি করে থাকতেন তাঁরা চলে আসার পর সেই সব বাড়িতে আর পড়েনি মাটির প্রলেপ। ফলে বাড়িও ভেঙে চুরমার। কিন্তু মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকে গ্রামের দুর্গা মন্দিরটি। এখন এই মন্দিরের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। কিন্তু মন্দিরের দেওয়াল আজও প্রমাণ দিচ্ছে তার প্রাচীনত্বের।

এই স্থানটিকে ঘিরে রেখেছে এক অপূর্ব প্রাকৃতিক সভা। এখানে মন্দিরের পাশেই রয়েছে ভগবানপুর বাঁধ। যেখানেই বিসর্জিত হয় মায়ের ঘট। এছাড়া এই মন্দিরের মূর্তিপুজো হয় না। তাই ঘটেই হয় মাতৃ আরাধনা। আসলে স্থানীয় বাসিন্দারা একাধিকবার মূর্তি তৈরি করে পুজোর আয়োজন করেও ব্যর্থ হয়েছেন। এখানে দুর্গাপুজোয় চলে এলাহী খাওয়া দাওয়ার আয়োজন। স্থানীয়রা তো বটেই, অনেক দূর দূরান্ত থেকেও মানুষ এখানে আসেন।

অনন্য প্রাকৃতিক সম্ভারের মধ্যে দাঁড়িয়ে এই দুর্গা পুজো দেখার আনন্দই সম্পূর্ণ আলাদা। ইতিমধ্যেই কাঁকসা ব্লক জুড়ে গড়ে উঠেছে অনেক রিসোর্ট। তাই অনেকে বেড়াতেও আসেন পুজোর সময়। বেড়ানোর হয় আবার উপরি পাওয়া স্বরূপ প্রাচীন দুর্গাপুজোর সাক্ষীও থাকা হয়।

একটি বেসরকারি সংস্থা মিথেন গ্যাস উত্তোলনের প্রজেক্ট তৈরি করছে এখানেই। গ্রামবাসীদের দাবি এই মন্দিরটি একটি প্রাচীনত্বের সাক্ষ্য বহনকারী। সেটির যথাযথ সংস্কার করা হোক। আজও স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন যে মায়ের ইচ্ছাতেই এই গভীর জঙ্গলে দুর্গা মন্দিরে পুজো সম্ভব হয়েছে। না হলে তা কখনওই হত না।

‘সতলুজ’-এর মুক্তি নিয়ে ZEE5-র বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের পথে কেন্দ্র

সেবাশ্রয়ে গিয়ে ভুল চিকিৎসা, হাত খোয়ালেন কৃতি, অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের FIR

পুলিশ বুথের সামনে সাহায্য চেয়ে ৪০ মিনিট ধরে আর্তি রক্তাক্ত যুবকের, তার পরে ঘটল…

পঞ্জাবে ভাঙনের মুখে কংগ্রেস, বিজেপির হাত ধরছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চান্নী-মণীশ তিওয়ারিরা!

মদনদের ডিগবাজি নিয়ে রাজ্যবাসীর কাছে ক্ষমা চাইলেন মমতা

বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতেই উত্তপ্ত ফ্রান্স, গ্রেফতার ১৬০

কলকাতা থেকে এবার এক বাসেই দিল্লি-বেঙ্গালুরু, জেনে নিন ভাড়া, কী কী সুবিধা মিলবে?

খোদ রক্ষকের ঘরেই সিঁধ কাটল চোর! চাঞ্চল্য নদিয়ায়

নয়ডায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত ২, চলছে উদ্ধারকাজ

শর্তসাপেক্ষে কালীঘাট তৃণমূলকে একুশে জুলাইয়ের সভার অনুমতি কলকাতা হাইকোর্টের

ওমান উপকূলে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ইরানের হামলায় মৃত্যু নিখোঁজ ভারতীয় নাবিকের

দুশো বছরের ইতিহাস ফিরছে, ফের রথের চাকা গড়াবে মথুরাপুরে

স্ত্রীর পরকীয়া স্বামীকে জানানোয় খুন যুবক, ঘাতক প্রেমিককে ফাঁসির সাজা আদালতের

কামদুনি কাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ নির্যাতিতার পরিবার, ‘বিচার হবেই’ আশ্বাস শুভেন্দুর