আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

অপরূপার ট্যুইটে বিদ্ধ হুমায়ুন, নেপথ্যে পঞ্চায়েতের ভোট

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোটগ্রহণের তারিখ ছিল গত ৮ জুলাই। সেদিন রাজ্যের বুকে হানাহানির ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরার তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও প্রাক্তন পুলিশকর্তা হুমায়ুন কবীর(Humayun Kabir Former IPS)। সোমবার ট্যুইট করে তাঁকেই পাল্টা বিঁধেছেন হুগলি জেলার আরামবাগের তৃণমূল(TMC) সাংসদ অপরূপা পোদ্দার(Aparupa Poddar)। কে কি বলেছেন সেটা জানার আগে একটু দেখে নিন রাজ্য পুলিশের এক পরিসংখ্যান। সেই পরিসংখ্যান বলছে, শনিবার ভোটের দিন মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের। আর নির্বাচন ঘোষণার তারিখ থেকে ভোটের আগের দিন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ২২ জনের। মৃতদের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের ২২, বিজেপির ৩, বামফ্রন্টের ৪, কংগ্রেসের ৪, আইএসএফের ১ কর্মী এবং ২ জন সাধারণ ভোটার রয়েছেন। ধর্মীয় পরিচয়ের নিরিখে এই ৩৬ জনের মধ্যে ২৩ জন সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের, বাকি ১৩ জন হিন্দু সম্প্রদায়ের।

আরও পড়ুন রাজ্যসভায় তৃণমূলের ৩ নয়া মুখ, থেকে গেলেন ডেরেক, দোলা, সুখেন্দুশেখর

এবার আসা যাক হুমায়ুন কী বলেছেন। রাজ্যের এক প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাতকারে হুমায়ুন বলেছিলেন, ‘বাঙালি হিসেবে লজ্জিত, মর্মাহত, মাথা হেঁট হয়ে যাচ্ছে লজ্জায়। আর কতদিন এসব চলবে, যুগের পর যুগ চলে যাচ্ছে, কিন্তু আমরা পাল্টাতে পারছি না। আমি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। ২০০৮ সালে বাম আমলে মুর্শিদাবাদে ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছিল, ভয়ঙ্কর নাড়া দিয়েছিল। এই সন্ত্রাসের জন্য দায়ী সব রাজনৈতিক দলগুলি। ২০০৮ সালে দায়িত্বে থাকার সময় বর্ধমানে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েছিলাম। প্রচুর অস্ত্র, বোমা উদ্ধার করেছিলাম। অভিষেক বলেছিলেন বিরোধী প্রার্থীরা যেন মনোনয়ন দিতে পারে। আমি নিজে থেকেই বিরোধীদের মনোনয়ন দিয়েছিলাম। এত খুনোখুনি, মারামারি, কেন জিরো করতে পারছি না ? মৃত্যু কাম্য নয়, মৃতের পরিবারই জানেন এটা কতখানি কষ্টকর। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারা কমিশন, প্রশাসন, রাজনৈতিক দলগুলির ব্যর্থতা। ভয়মুক্ত, রক্তহীন নির্বাচন করতে পারলাম না।’

আরও পড়ুন অমীমাংসিত কর নিষ্পত্তির সময়সীমা বাড়াল মমতার সরকার

হুমায়ুনের এই সব কথার জেরেই এদিন তাঁকে ট্যুইট করে বিঁধেছেন অপরূপা। তবে যে লেখা তুলে ধরে অপরূপা তুলে ধরেছেন, সেই লেখা তাঁর নিজের নয়। চন্দননগর পুরনিগম কাউন্সিলর মহম্মদ শাকির আলীর(Muhammad Shakir Ali) লেখা। কি আছে সেই লেখায়? সেই লেখা দুটি ট্যুইটে তুলে ধরার আগে অপরূপা নিজে ইংরেজিতে লিখেছেন, ‘No one minorities face 4 our party. Only one face in India, She is Smt Mamata Banerjee.’ অর্থাৎ তৃণমূলে সংখ্যালঘু মুখ বলে কিছু নেই। সারা ভারতে তৃণমূলের একটাই মুখ, আর তা হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অপরূপা কার্যত এই লেখা দিয়ে বুঝিয়ে দিতে চাইছেন যে, হুমায়ুন নিজেকে দলের সংখ্যালঘু মুখ হিসাবে যেভাবে তুলে ধরা চেষ্টা করছেন তা মেনে নেওয়া হবে না। হুমায়ুন তৃণমূলের বিধায়ক মাত্র, মুখ নন। আর কেন অপরূপা এই কথা বলছেন সম্ভবর তার সমর্থনেই তিনি দুটি লেখা তুলে ধরেন যা মহম্মদ শাকির আলির লেখা।

আরও পড়ুন বাড়িতেই মুখ্যমন্ত্রীকে হাঁটার পরামর্শ চিকিৎসকদের

কি আছে সেই লেখায়? প্রথম ট্যুইটে তুলে ধরা লেখার অংশে দেখা যাচ্ছেন সেখানে লেখা আছে, ‘IPS হুমায়ুন কবির যা বলেছেন, কে বলিয়েছে জানা খুবই সহজ। উনি যখন CP চন্দননগর ছিলেন তখন চন্দননগরের তেলেনিপাড়াতে দাঙ্গা হয়। সেটা যদি তদন্ত হয় IPS কবির সাহেব ফাঁসবেন। চুঁচুড়ার বড় বড় অপরাধী ওনার স্মরণে(এটির বানান ভুল আছে, সম্ভবত শরণ হবে) ছিল। CPIM সরকারের সময় উত্তর ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, মালদায় প্রচুর সংখ্যক তৃণমূল কর্মী ওনার দোষে মারা গিয়েছেন। এই নিয়ে একটু মুখ খুলবেন? তখন কি বাংলায় বাঙালি থাকতো না! কার কথাতে আপনি MLA টিকিট পেলেন?’ দ্বিতীয় ট্যুইটে লেখা, ‘আজ তৃণমূলের MLA আছেন। CP থাকাকালীন আপনার বিরুদ্ধে শাকির আলী অভিযোগ এনেছিল। তখন আপনাকে বাঁচিয়ে শাকির আলীকে বলি করা হলো। আপনি CP হিসাবে জাল Carbine ধরেছেন অপরাধীদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে। সেখানে সরকারের কোনও স্বার্থ ছিল না, শুধু আপনার স্বার্থ ছিল। গত বছর আপনার বাড়িতে কি ঘটনা ঘটেছিল ওটা কি Tweet করতে হবে? আপনি সংখ্যালঘুদের মুখ হিসাবে দলকে চাপে ফেলার চেষ্টা করবেন না। আপনি পুলিশ অফিসার থাকাকালীন সময়ে অনেক সংখ্যালঘুদের হত্যা করেছেন বাম সরকারের সময় একটু মনে করে দেখুন।’

Published by:

Share Link:

More Releted News:

নির্বাচন মিটতেই কালবৈশাখীর দাপট! দুর্যোগের দিনে ভোটকর্মীদের পাশে রেল

ভোট মিটলেও রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা সামলাতে ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকছে

উদয়নারায়ণপুরে জওয়ানের ধাক্কায় বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আড়াল কমিশনের

ভোট শেষের মুখে নোয়াপাড়ায় উত্তেজনা, বচসা ঘিরে তৃণমূল–বিজেপি সংঘর্ষ

দিনের শেষে মায়ের সঙ্গে কসবা কেন্দ্রে ভোট দিলেন মিমি চক্রবর্তী

ব্যারাকপুরে পুরসভার কর্মী রাজনৈতিক দলের এজেন্ট হয়ে বুথে বসার অপরাধে আটক

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ