হতে চেয়েছিলেন সন্ন্যাসী, কিন্তু হয়ে গেলেন দেশনায়ক – জানুন নেতাজির এই অজানা কাহিনী

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: একজন “চিন্তানায়ক”, আরেকজন “দেশনায়ক”। তাঁদের দুজনের এক অসাধারণ মেলবন্ধন ঘটেছিল। বলা যায়, ঠিক যেমন শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস না থাকলে যেমন নরেন্দ্রনাথ স্বামী বিবেকানন্দ হয়ে উঠতেন না, তেমনই স্বামীজী ছাড়া সুভাষ চন্দ্র বসু নেতাজি হয়ে উঠতে পারতেন না। প্রণম‍্য গবেষক শঙ্করীপ্রসাদ ‌বসু তাঁর সুভাষচন্দ্র বিষয়ক গবেষণাগ্রন্থে বলেছেন — তিনি সেই ক্ষণজন্মা পুরুষ, যিনি প্রথম জীবনে মোক্ষমার্গের অনুসারী পরে ‌তাকে ত‍্যাগ করে পরিণত যৌবন থেকে — ভারতীয় ইতিহাসে ধর্মমার্গী মহাবীর অর্জুনের ভূমিকা নিয়েছিলেন। তাঁর কাছে ভারতের ধর্মক্ষেত্র – কুরুক্ষেত্রে কৃষ্ণের ভূমিকা নিয়েছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ। 

জানা গিয়েছে, কলেজে পড়াকালীন সময়েই সুভাষের মন ত্যাগে ও দেশপ্রেমে তোলপাড় করছিল। তিনি চাইছিলেন প্রকৃত গুরুর সান্নিধ্য লাভ করতে।  তখন তাঁর বয়স ১৭ বছর। একটা অভাবিত ঘটনা ঘটে যায় তাঁর জীবনে। সুভাষের দূর সম্পর্কের ‌এক ‌আত্মীয় যুবক তখন কটকে এসেছিলেন। সুভাষ একদিন তাঁর কাছে যাওয়া মাত্রই টেবিলে রাখা বিবেকানন্দের বেশ কিছু বই দেখে ‌পড়তে ‌শুরু করেছিলেন — এক নতুন দিগন্ত যেন খুলে গিয়েছিল ‌তাঁর সামনে। শিব জ্ঞানে জীব সেবা, দয়া নয় সেবা, ত‍্যাগ, ব্রহ্মচর্য – ইত্যাদির আদর্শে উদ্বুদ্ধ সুভাষের মনে সন্ন্যাসী হওয়ার প্রবল বাসনা জাগে। 

সুভাষ শুনেছিলেন উত্তর-পশ্চিম ভারতে নাকী এমন সন্ন্যাসী আছেন, যাঁরা প্রকৃত পথের সন্ধান দিতে পারেন। তাই তিনি দু লাইন লেখা একটি পোষ্টকার্ডে চিঠি দিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছিলেন । এরপর উত্তর ভারতের সব কটি তীর্থ ঘুরে শুরু হয়েছিল পরিব্রাজক সুভাষ চন্দ্রের হিমালয় যাত্রা। এ যেন স্বামী বিবেকানন্দের পদাঙ্ক অনুসরণ করেই পরিব্রাজক বেশে আর ‌একজন ভারত পথিকের তীর্থ যাত্রা। হরিদ্বার, হৃষিকেশ, গয়া, মথুরা, বৃন্দাবন অনেক ‌তীর্থে ঘুরে সুভাষচন্দ্র এসেছিলেন বারাণসীতে। জানা যায়, সেই যাত্রায়  তাঁর সাথে তাঁর আরও দুই বন্ধু ছিল।

বারাণসীতে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের দুটি ‌শাখাকেন্দ্র আছে। সে সময় বারাণসীর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের প্রথম সভাপতি ছিলেন স্বামী ব্রহ্মানন্দ, যিনি শ্রীরামকৃষ্ণের প্রিয় “রাখাল” নামে পরিচিত, যাঁকে আবার স্বামী বিবেকানন্দ ‘রাজা’ বলে ডাকতেন।

সুভাষচন্দ্র লিখেছেন, “বারাণসীতে স্বামী ব্রহ্মানন্দ আমাদের সাদর অভ্যর্থনা জানালেন, তিনি আমার বাবা ও ‌পরিবারের অনেককেই চিনতেন। এখানে আমরা কয়েকদিন রইলাম।” সেই সময়ে ‌‌একদিন নিজের মনোবাসনা প্রকাশ করে সুভাষ স্বামী ব্রহ্মানন্দের কাছে সন্ন্যাস প্রার্থনা করেছিলেন। কিন্তু, ব্রহ্মানন্দ তাঁকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার উপদেশ দেন এবং বলেন, — তাঁকে তাঁদের মতো সন্ন্যাস নিতে হবে না। দেশ তাঁর কাছে প্রভূত জিনিস প্রত্যাশা করছে।” স্বামীজীর বাণী তাঁর অন্তরে অগ্নির স্ফুলিঙ্গের মত সঞ্চার করেছিল প্রেরণা আর উদ্দীপনা।

স্বামী ব্রহ্মানন্দের অধ্যাত্মশক্তির কৃপা সুভাষ চন্দ্রের মনকে  শক্তি, ধ্যানসজ্জাত স্থিরলক্ষে অবিচলতা আর বৈরাগ্যের আদর্শ প্রদান করেছিল। এরপর স্বামী বিবেকানন্দেরই সেই গুরুভাইয়ের নির্দেশানুসারে সন্ন‍্যাস গ্রহণের সঙ্কল্প ত‍্যাগ করে ঘরে ফিরে এসেছিলেন তরুণ সুভাষচন্দ্র।

দীপাবলির আগে মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ সূর্যকুমারের পরিবারের, খুদের ভজন শুনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী

সন্দেশখালিতে ছেলের সামনেই মায়ের শ্লীলতাহানির অভিযোগ, পুলিশের জালে শাহজাহানের শাগরেদ

রিলস স্ক্রোল করা বন্ধ করতে পারছেন না? জেনে নিন এই সহজ কৌশল

আঘাতের পর ফের ওয়ার্কআউট! জানুন হাঁটু সুরক্ষিত রাখার সহজ উপায়

সিজারের পর প্রসূতির পেটে তুলো-সুতো থাকার অভিযোগ, কাঠগড়ায় চিকিৎসক

অমৃতসর-নিউ জলপাইগুড়ি কর্মভূমি এক্সপ্রেসে অগ্নিকাণ্ড, দাউদাউ করে জ্বলছে চারটি কামরা

শান্তিনিকেতনের পৌষমেলায় এবারও অনলাইনে স্টল বুকিং, থাকছে বিশেষ শর্ত

স্বাদ ও পুষ্টির দারুণ ভারসাম্য! ঘরেই তৈরি করুন জনপ্রিয় বিবিমবাপ

লুঙ্গি কিংবা বারমুডা পরে তারাপীঠ মন্দিরে ‘নো এন্ট্রি’, নির্দেশ কমিটির

দীপাবলির আগে অমিতাভের ‘জলসা’য় বোমা হামলার হুমকি!

কালীপুজোর আগে দুঃসংবাদ, চাকরি হারালেন এক হাজারের বেশি যোগ্য শিক্ষাকর্মী

সর্ষে অতীত, এবার ভাত পাতে রাখুন পোস্ত পাবদা, রইল রেসিপি

অল্প তেলেই বানিয়ে ফেলুন ফুলকপি পাতুরি, ভাত বা পরোটার সঙ্গে জমে যাবে

শনিতে এসআইআরের বিরুদ্ধে পথে নামছেন প্রকাশ রাজ