রাতে ঘুমের মধ্যেই বিছানা ভিজছে প্রস্রাবে? এখনই সাবধান হোন

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: বিমলবাবু এক শৌচালয়ে প্রস্রাব করছিলেন, তাও বেশ অনেকক্ষণ ধরে। দীর্ঘক্ষণ চেপে রাখার পর প্রস্রাব করার সময়ে সামান্য প্রস্রাব তার প্যান্টেও পড়ে যায়। তা সত্ত্বেও তিনি আবার প্রস্রাব করতে শুরু করলেন। এমতাবস্থায় তার স্ত্রী চেঁচিয়ে বলে উঠলেন, ” কী করছো কী ? পুরো বিছানা ভিজিয়ে দিলে যে!” বিমলবাবু ঘুম থেকে উঠে নিজের কাণ্ড দেখেই লজ্জিত হয়ে গেলেন। এই ঘটনাটি শুধু একটি গল্পকথা নয়। মানুষের ঘুমের মধ্যে প্রস্রাবের স্বপ্ন দেখা বা বিছানা ভিজিয়ে ফেলা সাধারণত শিশুদের মধ্যেই বেশি দেখা যায়। কিন্তু অনেক সময় প্রাপ্ত বয়স্করাও এই সমস্যার শিকার হন। বিষয়টি লজ্জাজনক ও অস্বস্তিকর হলেও এটি কোনও অধরা রোগ নয়—বরং সঠিক কারণ শনাক্ত করলে সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এই সমস্যাটিকে বলা হয় “নকটারনাল ইনিউরেসিস” (Nocturnal Enuresis), যা মূলত রাতে অনিয়ন্ত্রিত প্রস্রাব হওয়া, ও এর সঙ্গে  প্রায়সই যুক্ত থাকে প্রস্রাবের স্বপ্ন। তবে জানেন কী, কেন হয় এই সমস্যা ? আর, একেই কী স্বপ্নদোষ বলে? না, একেবারেই না। এই সমস্যা মূলত মূত্রথলির নিয়ন্ত্রণের অভাবে হয়ে থাকে।

কারণ ও ঝুঁকির উপাদান

শিশুদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা দেখা দেয় সাধারণত মূত্রথলির নিয়ন্ত্রণের অভাবে দেখা দিলেও বড়দের ক্ষেত্রে কারণ অনেক গভীর—এর প্রথমেই আসে স্ট্রেস ও ট্রমা। দীর্ঘসময় ধরে মানসিক উদ্বেগ, ভয় বা অস্বস্তিকর কোনও ঘটনার স্মৃতি মনের উপর চাপ তৈরি করে, যা ঘুমে প্রভাব ফেলে এবং প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।

এছাড়া কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক সমস্যাও নকটারনাল ইনিউরেসিসের কারণ হতে পারে, যেগুলি হল—

  • মূত্রথলির পেশির দুর্বলতা
  • রাতে অতিরিক্ত জলপান
  • ডায়াবেটিস বা হাই ব্লাড প্রেসার
  • কিডনি সংক্রান্ত সমস্যা
  • পেটের গুরুতর সমস্যা
  • মানসিক অবসাদ বা অতিরিক্ত উদ্বেগ

পুরুষ এবং মহিলা—উভয়ের মধ্যেই এই সমস্যা দেখা যায়। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, জন্মসূত্রে পুরুষ হিসেবে নির্ধারিত ব্যক্তিদের (AMAB বা অ্যাসাইনড মেল অ্যাট বার্থ) মধ্যে এর হার কিছুটা বেশি।

লক্ষণ

যদি কেউ ঘন ঘন প্রস্রাবের স্বপ্ন দেখে, এবং মাঝে মাঝেই বিছানা বা কাপড় ভিজে যায়, সেক্ষেত্রে এটি নকটারনাল ইনিউরেসিসের লক্ষণ হতে পারে। এক-দু’বার হলে বড় উদ্বেগের নয়, তবে নিয়মিত হলে অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

প্রতিকার ও চিকিৎসা

সমস্যাটি সমাধানের জন্য প্রথমে এর মূল কারণ চিহ্নিত করা জরুরি।

  • অভ্যন্তরীণ শারীরিক সমস্যা

ডায়াবেটিস, প্রেশার, কিডনি বা ব্লাডার সম্পর্কিত কোনও সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে।

  • স্ট্রেস ও ট্রমা-জনিত সমস্যা থাকলে

নিয়মিত প্রাণায়াম, মেডিটেশন, ডিপ ব্রিদিং এক্সারসাইজ স্ট্রেস কমাতে অত্যন্ত কার্যকর।

এছাড়া, রাতে ভারী খাবার, ফাস্টফুড, ঠান্ডা পানীয়, ধূমপান ও মদ্যপান এড়ানো উচিত। এগুলো স্নায়ুর উপর প্রভাব ফেলে প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করে।

জীবনধারায় কিছু বিশেষ পরিবর্তন

  • ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত দুই ঘণ্টা আগে শেষবার জল পান করা
  • শোবার আগে একবার প্রস্রাব করা
  • প্রতি ২-৩ ঘণ্টা অন্তর প্রস্রাবের অভ্যাস তৈরি করা, যাকে ‘টয়লেট ট্রেনিং’ বলা হয়ে থাকে।
  • প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ গ্রহণ, যা ব্লাডারের ধারণক্ষমতা বাড়ায়

পরিশেষে বলা যেতে পারে, Nocturnal Enuresis কোনও লজ্জার বিষয় নয়, বরং এটি শারীরিক বা মানসিক অসামঞ্জস্যের লক্ষণ। সময়মতো সচেতনতা, সঠিক চিকিৎসা এবং জীবনধারা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই সমস্যাকে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। তবে যে কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

আত্মঘাতী কলেজ ছাত্রী! প্ররোচনার অভিযোগে গ্রেফতার উড়িষ্যার মন্ত্রীর ভাইপো

কলকাতা সহ রাজ্যজুড়ে বৃষ্টির পূর্বাভাস, দুর্যোগের আশঙ্কা উত্তরবঙ্গেও

৯২ বছরের অপেক্ষার অবসান, বিশ্বকাপে প্রথম জয় পেল মিশর

৯২ বছরের অপেক্ষার অবসান, বিশ্বকাপে প্রথম জয় পেল মিশর

সংঘাত নিরসনে ৬০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় সম্মত আমেরিকা-ইরান

ভয়াবহ বিস্ফোরণে কাঁপল কাতার, আহত বহু

অম্বুবাচীর পুণ্যক্ষণে খুলতে পারে সৌভাগ্যের দ্বার, কী বলছে আজকের রাশিফল?

ইরানের দুর্ভেদ্য রক্ষণ দুর্গে আটকে গেল বেলজিয়াম, লাল কার্ড দেখলেন বেলজিয়ামের নাথান

মেয়েদের টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আফ্রিকার সিংহদের কাছে হেরে গেলেন হরমনপ্রীতরা

উত্তরে মহাদুর্যোগ চলবে, দক্ষিণে কমলা ও হলুদ সর্তকতা জারি

কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই জলমগ্ন তিলোত্তমা, চাঁদনি চকে গাছ পড়ে বন্ধ সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ

তৃণমূলের পার্টি অফিসের আলমারি থেকে প্রচুর আধার ও জব কার্ড উদ্ধার

হাওড়ার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরকে ‘ডিম স্নান’ এলাকাবাসীর

আচমকাই আলিমুদ্দিনে হাজির প্রসেনজিৎ! দেখা করলেন বিমানের সঙ্গে